kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

মুমিন সর্বাধিক মানবিক হয়

মুফতি কাসেম শরীফ   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুমিন সর্বাধিক মানবিক হয়

নিরাপদ, নিশ্চিন্ত ও নিষ্কণ্টক থাকতে চায় সবাই। তবু ‘হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব’-এ মেতে ওঠে। বিশ্বাসের বিরোধ, আদর্শের লড়াই, ক্ষমতার আস্ফাালন, ত্রাসের রাজত্ব ও লুণ্ঠনের মানসিকতা পৃথিবীকে অস্থির করে তোলে। রক্তের উন্মাদনায় মেতে ওঠে। এই উন্মাদনার পরিধি দিন দিন বাড়ছে।

একচিলতে শান্তির জন্য অস্থির আজ পৃথিবী। কিন্তু এই শান্তি কোত্থেকে আসবে? কে এই শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করবে?

কোরআন ও হাদিসের পরতে পরতে মানুষকে মানবিক ও সামাজিক হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

কোরআন-হাদিস তথা ইসলামের বিধি-বিধানের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রকৃত মুমিন সে-ই, যে সর্বাধিক মানবিক হয়।

সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেওয়া ঈমানদারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রকৃত ঈমানদার প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আর্ত মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করে। নিয়ত বিশুদ্ধ থাকলে পরোপকারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি নয়। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তাহলে তা ভালো। আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তকে দান করো, এটা তোমাদের জন্য আরো ভালো...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭১)

মানবিকতা ও ঈমানের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে, বৈরিতা নেই। এক আয়াতে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি জানো, বন্ধুর গিরিপথ কী? এটা হচ্ছে দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার দেওয়া এতিম আত্মীয়কে বা দারিদ্র্য-নিষ্পেষিত নিঃস্বকে। এর পরই সে হবে ঈমানদারের অন্তর্ভুক্ত...।’ (সুরা : বালাদ, আয়াত : ১২-১৭)। এই মর্মে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার নয়, যে নিজে পেট পুরে খায় আর তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে।’ (মুসতাদরাক হাকেম ও আদাবুল মুফরাদ)

বিপন্ন মানুষের সহায়তার মাধ্যমে ঈমান পরিপূর্ণ হয়। মুমিনের পরিচয় ও গুণাবলি বর্ণনা করে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিন তারা,...যারা নামাজ কায়েম করে; আর তাদের আমি যে রিজিক দান করেছি, তা থেকে খরচ করে। এরাই সত্যিকার মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের কাছে মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২-৪)

ইসলামের দৃষ্টিতে নামাজ না পড়া যেমন পাপ, মানবসেবা না করাও পাপ। কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে যাওয়ার পর জাহান্নামবাসীদের জিজ্ঞাসা করবে, ‘কোন জিনিস তোমাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? জাহান্নামবাসীরা জবাব দেবে, আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার দিতাম না। আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করতাম।’ (সুরা : মুদ্দাসসির, আয়াত : ৪২-৪৬)

ঈমান ও মানবিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেমন—মেহমানদারির সঙ্গে ঈমানদারির বিশেষ সম্পর্ক আছে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮; মুসলিম, হাদিস : ৪৮)

মানুষের জন্য ব্যয় করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে পবিত্র কোরআনে ঈমানের মানদণ্ড স্থির করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান আনলে এবং আল্লাহ তাদের যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করলে তাদের কী ক্ষতি হতো? আল্লাহ তাদের ভালোভাবেই জানেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৯)

কোরআন ও হাদিসের এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে এই উপসংহারে পৌঁছা সম্ভব যে মুমিন সর্বাধিক মানবিক হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা