kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

পর্বতচূড়ায় দৃষ্টিনন্দন তুর্কি মসজিদ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পর্বতচূড়ায় দৃষ্টিনন্দন তুর্কি মসজিদ

ভূমি থেকে ১১ হাজার ৩৮০ ফুট ওপরে পর্বতের সর্বোচ্চ চূড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে এই মসজিদ

কখনো কি কল্পনা করেছেন, সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় উঠে আকাশের কাছাকাছি গিয়ে মহান আল্লাহকে সিজদা করবেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর অপরূপ সৃষ্টি উপভোগ করবেন, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে উঠবেন, ‘সুবহানাল্লাহ’।

তুরস্কের রাইজ প্রদেশের গেনেসু জেলায় নির্মিত হয়েছে এক অসাধারণ মসজিদ। ভূমি থেকে ১১ হাজার ৩৮০ ফুট ওপরে পর্বতের সর্বোচ্চ চূড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে এই মসজিদ। জানা যায়, পাহাড়ে ঘেরা এই শান্ত শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের বাবা।

পর্বতটির প্রধান শৈলশিরা মক্কামুখী হওয়ায় এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে ‘কিবলা’। তা ছাড়া মসজিদটির অবস্থান এমন একটি পর্বতের চূড়ায়, যা অনেক জেলা থেকে স্পষ্ট দেখা যায়।

এখানে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯ শতকে। কিন্তু ১৯৬০ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর একটি কুঁড়েঘর প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই সেখানে মসজিদের কার্যক্রম চলে আসছিল।

২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান মসজিদটি পরিদর্শনে এলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মসজিদটির পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন। মসজিদে যাতায়াতের সুবিধার্থে সরকারের পক্ষ থেকে করে দেওয়া হয় পাকা রাস্তা। রাস্তার কাজ শেষ হতেই স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর অর্থায়নে ২০১৩ সালে শুরু হয় নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ, তুরস্কের ঐতিহাসিক আহমেদ পাসা মসজিদের ডিজাইন অনুকরণে।

নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয় প্রায় ২৭৫ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে। যার ওপরে রয়েছে ১৩ মিটার উচ্চতার গম্বুজ এবং ২৭ মিটার উচ্চতার মিনার। মসজিদের আঙিনায় মুসল্লিদের হাঁটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদে এসে সবুজ পাহাড়ের নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করে মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে মসজিদ অঞ্চলকে অনেকটা বিনোদন স্পটের মতো করে সাজানো হয়েছে।

৪৫ বর্গমিটার জায়গা নিয়ে আছে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। যা বাচ্চাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এর স্থপতি ইউসুফ ইরমাজ জানান, নতুন মসজিদের পুরো কাজটিই তাঁরা শেষ করেছেন মাত্র ১৪ মাসে। কাজের তদারকি করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান নিজে। তিনি সর্বদাই তাদের মসজিদের কাজ দ্রুত শেষ করার উৎসাহ দিতেন। একবার শীতকালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখানকার তিনজন কর্মী সাইটে আটকা পড়েছিল। প্রেসিডেন্টের তত্ত্বাবধানে তাদের হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা