kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

হা দি সে র নি র্দে শ না

আল্লাহর ‘সংরক্ষিত এলাকা’ থেকে সাবধান!

মো. আবদুল্লাহ মজিদ মোল্লা   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আল্লাহর ‘সংরক্ষিত এলাকা’ থেকে সাবধান!

আবু আবদুল্লাহ নোমান বিন বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়। বেশির ভাগ মানুষ যা জানে না। অতঃপর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে নিজের দ্বিন ও সম্মানকে ত্রুটিমুক্ত রাখে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হয়, সে হারামে লিপ্ত হয় (ধাবিত হয়)। যেমন—কোনো রাখাল তার (গবাদি) পশু সংরক্ষিত এলাকার আশপাশে চরায়। আর তখন আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, যেকোনো সময় কোনো পশু তার মধ্যে ঢুকে পড়বে। সাবধান! প্রত্যেক শাসকেরই সংরক্ষিত এলাকা থাকে। আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হচ্ছে তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো। সতর্ক হও! নিশ্চয়ই মানবদেহে একখণ্ড গোশতের টুকরা আছে, যখন তা সুস্থ হয়ে যায়, গোটা শরীর সুস্থ হয়ে যায়। আর যখন তা অসুস্থ হয়ে যায়, গোটা শরীরটাই অসুস্থ হয়ে যায়। জেনে রেখো! এটাই হচ্ছে কাল্ব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)

হাদিসের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, সন্দেহজনক জিনিস (যা হারাম নয়, কিন্তু হারাম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন) থেকে বিরত থাকাই আলোচ্য হাদিসের মূল শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্দেহজনক জিনিস থেকে পৃথকভাবে সতর্ক করেছেন। কারণ মানুষ হালাল-হারামের ব্যাপারে যতটা সচেতন, সন্দেহজনক বিষয়ে ততটা সতর্ক নয়। বরং এসব বিষয়ে তারা উদাসীন থাকে। ফলে একসময় হারামে লিপ্ত হয়ে যায়। হাদিসে উপস্থাপিত উপমা সেদিকেই ইঙ্গিত করে।

 

আমল তিন প্রকার

উল্লিখিত হাদিসের আলোকে মানুষের আমল তিন ভাগে ভাগ করা যায়। তা হলো—

এক. সুস্পষ্ট হালাল : কোরআন ও হাদিসে যার হালাল হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে এবং যা হালাল হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ নেই। যেমন, কোরবানির পশুর গোশত, পুকুরের মাছ, গৃহপালিত পশুর দুধ ইত্যাদি।

দুই. সুস্পষ্ট হারাম : যা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসের স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে এবং তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন, মদ, ব্যভিচার, মানুষ হত্যা, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, পরনিন্দা ইত্যাদি।

তিন. সন্দেহজনক বিষয় : যা হালাল ও হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য কোরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না। বরং তা উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখে। হাদিসের ভাষ্য মতে, বেশির ভাগ মানুষ সন্দেহজনক বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং এ ব্যাপারে উদাসীন। তাই তা পরিহার করাই উত্তম।

 

সন্দেহজনক বিষয় কেন ছেড়ে দিতে হবে

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে সন্দেহজনক কাজে জড়িয়ে পড়ে, সে হারাম কাজে লিপ্ত হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)

যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজ করে এবং সে জানে না তা হালাল না হারাম। এমন অবস্থায় সে যেন হারাম কাজেই লিপ্ত হলো। কেননা কাজটি প্রকৃতপক্ষে হারাম কি না সে ব্যাপারে ব্যক্তি নিশ্চিত নন। বিষয়টি ধীরে ধীরে তার প্রতি তার ঘৃণাবোধ ও সতর্কতা নষ্ট করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) চমৎকার উপমার মাধ্যমে যা বুঝিয়েছেন। কোনো নিষিদ্ধ এলাকার পাশে যখন কোনো রাখাল তার পশু চরালে সেই এলাকার সবুজ তৃণ-লতার প্রতি পশুপালের প্রলুব্ধ হওয়ার ভয় থাকে, তেমন সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হলে মানুষের ‘পশু মন’ হারামের প্রতি প্রলুব্ধ হওয়ার ভয় থাকে।

আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘পরহেজগারিতা পরিপূর্ণ হয় যখন বান্দা তার প্রতিপালককে ভয় করবে। এমনকি সে অণু পরিমাণ গুনাহের ব্যাপারেও সতর্ক থাকে। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ৮/২২)

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘মুত্তাকি’ (আল্লাহভীরু) নামকরণ এ জন্য হয়েছে, তাঁরা এমন বিষয় থেকেও বিরত থাকেন যাতে বিপদের ভয় থাকে না।’ (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ১৯/৯)

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা