kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

কোরআনের প্রাচীন ১০ পাণ্ডুলিপি

আতাউর রহমান খসরু   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোরআনের প্রাচীন ১০ পাণ্ডুলিপি

ফাতেমীয় খেলাফতের সময় তৈরি কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি কুফি লিপিতে লেখা

মহান আল্লাহ কোরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং তা সংরক্ষণ করার অঙ্গীকারও করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তা সংরক্ষণ করব।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯)

কোরআন নাজিলের প্রায় দুই হাজার বছর পর আল্লাহর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হওয়ার নানা প্রমাণ মানুষের সামনে উপস্থিত। কোরআনের প্রাচীন ১০টি পাণ্ডুলিপির পরিচিতি তুলে ধরা হলো। সংরক্ষণস্থল, লিপিকার ও লিপিবদ্ধ করার স্থান অনুযায়ী পাণ্ডুলিপিগুলোর নামকরণ হয়েছে।

 

১. বার্মিংহাম পাণ্ডুলিপি

২০১৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের বিজ্ঞানীরা কোরআনের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। চামড়ার ওপর লেখা পাণ্ডুলিপিটি স্পষ্ট ও সহজপাঠ্য ‘হিজাজি’ লিপিতে লেখা। ধারণা করা হয়, এটি কোরআনের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি। বিজ্ঞানীদের দাবি, পাণ্ডুলিপিটি ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের ভেতর তৈরি। হিসাবে এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনকালের হতে পারে।

 

২. সানাআ পাণ্ডুলিপি

১৯৭২ সালে সানাআর প্রধান মসজিদ সংস্কারের সময় কোরআনের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়। এই পাণ্ডুলিপিটিও চামড়ার তৈরি কাগজের। হিজাজি লিপির দুই ধরনের বর্ণে তাতে লেখা হয়েছে। সম্ভবত ৬৪৫-৬৭১ খ্রিস্টাব্দের পাণ্ডুলিপি এটি।

 

৩. টোপাকপি পাণ্ডুলিপি

তুরস্কের টোপাকপি রাজপ্রাসাদে সংরক্ষিত কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটি হিজরি প্রথম শতকের শেষভাগে বা দ্বিতীয় শতকের শুরুর ভাগের। অষ্টম খ্রিস্টাব্দের মধ্য ভাগের। পাণ্ডুলিপিটি কুফি লিপিতে লেখা। টোপাকপি পাণ্ডুলিপির দুটি পৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি, যাতে মোট ২৩টি আয়াত রয়েছে। তবে কাছাকাছি কোনো সময়ে হারানো দুই পৃষ্ঠা সংযুক্ত করা হয়েছিল।

 

৪. সমরকান্দ পাণ্ডুলিপি

কোরআনের সমরকান্দ পাণ্ডুলিপিটি হিজরি দ্বিতীয় শতক বা অষ্টম খ্রিস্টাব্দে তৈরি। পাণ্ডুলিপি অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য তা আলমারিতে রাখা হয়েছে। কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোর ভেতর এটি বৃহদায়তন। পাণ্ডুলিপিটি কুফি লিপিতে লেখা।

 

৫. পার্সিয়ান পাণ্ডুলিপি

‘দ্য কোডেক্স পার্সিয়ানো-পেট্রোপলিটনাস’ পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোর একটি। মিসরের ফুসতাসে অবস্থিত আল-আমর মসজিদে ১৮ খ্রিস্টাব্দের শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত কোরআনের অনুলিপির মধ্যে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীদের দাবি, সপ্তম খ্রিস্টাব্দের শেষ ভাগে বা অষ্টম খ্রিস্টাব্দের শুরু ভাগের পাণ্ডুলিপি এটি। পাণ্ডুলিপিটির উদ্ধারকৃত ৯৮টি শিট পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে। যেমন—বিবলিওথেক নেশনেল ডি ফ্রান্স, দ্য ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব রাশিয়া, দ্য লাইব্রেরি অব ভ্যাটিকান, দ্য খলিলি কালেকশন ইন লন্ডন ইত্যাদি। পাঁচজন পৃথক লিপিকার হিজাজি লিপিতে পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করেন। সম্ভবত দ্রুত হস্তান্তরের জন্য তাঁরা একত্রে কাজ করেছিলেন।

 

৬. নীল কোরআন পাণ্ডুলিপি

‘নীল কোরআন’ পাণ্ডুলিপিটি নবম শতকের শেষে বা দশম শতকের শুরুর সময়ের। ফাতেমীয় খেলাফতের সময় তৈরি পাণ্ডুলিপিটি কুফি লিপিতে লেখা। পাণ্ডুলিপিটি নীল পটের ওপর স্বর্ণের কালিতে লেখা এবং রৌপ্যের কালিতে অলংকৃত। কোরআনের বিরল এই পাণ্ডুলিপির উদ্ধারকৃত অংশের বেশির ভাগ তিউনিসিয়ার বারদো জাতীয় জাদুঘরের অধীন ‘দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আর্ট অ্যান্ড আর্কিওলজি’তে সংরক্ষিত। অবশিষ্ট অংশ বিশ্বের অন্যান্য জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।

 

৭. ইবনুল বাওয়াব পাণ্ডুলিপি

ইবনুল বাওয়াব পাণ্ডুলিপি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, যা ‘কার্জাইব’ (টেনে লেখা) শৈলীতে ‘নকশি’ লিপিতে লেখা। আরবের বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবুল হাসান আলী ইবনে হিলাল, যিনি ইবনুল বাওয়াব নামে পরিচিত, তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করে পাণ্ডুলিপির নামকরণ হয়েছে। ইবনুল বাওয়াব বাগদাদের অধিবাসী ছিলেন। ৩৯১ হিজরিতে তিনি পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করেন। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের ‘দ্য চেস্টার বিটি লাইব্রেরি’তে পাণ্ডুলিপিটি সংরক্ষিত রয়েছে।

 

৮. আল আন্দালুস পাণ্ডুলিপি

মুসলিম শাসিত আন্দালুসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এই পাণ্ডুলিপির নাম করা হয়েছে। আধুনিক স্পেন ও পর্তুগাল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। প্রাচীন এই পাণ্ডুলিপি ১২ খ্রিস্টাব্দে লিপিবদ্ধ এবং কুফি লিপিতে লেখা।

 

৯. মাগরিবি পাণ্ডুলিপি

কোরআনের মাগরিবি পাণ্ডুলিপি বলতে উত্তর আফ্রিকা থেকে উদ্ধারকৃত কোরআনের একটি অংশকে বোঝানো হয়, যা ১৩ খ্রিস্টাব্দে তৈরি। চামড়ার ওপর ‘মাগরিবি’ লিপিতে তা লেখা হয়। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার ক্যালিগ্রাফি শিল্পে লিপিটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

 

১০. সেভিল পাণ্ডুলিপি

পৃথিবীতে টিকে থাকা কোরআনের অন্যতম প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সেভিল পাণ্ডুলিপি। ধারণা করা হয়, স্পেনে তৈরি কোরআনের পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে এটিই প্রাচীনতম। ১২২৬ খ্রিস্টাব্দে বা ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে এটি স্পেনের সেভিলে লেখা হয়। চামড়ার ওপর ‘আন্দালুসিয়ান’ লিপিতে লেখা। বর্তমানে পাণ্ডুলিপিটি জার্মানির মিউনিখে অবস্থিত ব্যাভারিয়ান স্টেট লাইব্রেরিতে রয়েছে।

 

সূত্র : মুসলিম মেমো

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা