kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

নওমুসলিমের কথা

বান্ধবীর সুখের সংসার দেখে মুসলিম হলেন মেরি লুইসিয়ান

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খ্রিস্টান নারী মেরি লুইসিয়ান নরওয়ের রাজধানী অসলোর বাসিন্দা। তিনি ইসলাম গ্রহণ করে ফাতেমা নাম ধারণ করেন। তাঁর পিতা একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক ছিলেন। মা অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী। মেরি লুইসিয়ান খুব খোলামেলা স্বভাবের ছিলেন। রাখঢাক নেই বললেই চলে। অর্থহীন জীবন ছিল তাঁর। নিজের সম্পর্কে তাঁর অসংখ্য জিজ্ঞাসা ছিল ছোটবেলা থেকেই। তাঁর পিতা খ্রিস্টান হলেও তিনি ছিলেন ধর্মবিমুখ। জীবনের এমন অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো তাঁকে ইসলামের পথে নিয়ে আসে। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন ড. ইকবাল কবীর মোহন

 

মেরি লুইসিয়ানের জন্য বিশেষ কোনো ধর্মের অনুশীলনও বাধ্যতামূলক ছিল না। ত্রিত্ববাদের চিন্তাটা ছিল তাঁর কাছে অগ্রহণযোগ্য। তাঁর ভেতর আলাদা এক জীবনের সন্ধান করার একটা গোপন অনুভূতি সর্বদা জাগ্রত ছিল। কিন্তু এর গতি-প্রকৃতি জানা ছিল না। গির্জায় যেতেন বড়দিনের অনুষ্ঠানে। এ ছাড়া আর কখনো যেতেন না। ভেতরে জিইয়ে রাখা সংশয় নিরসনের চেষ্টা তিনি করতেন। কিন্তু এটা নিয়ে তিনি কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাননি।

এভাবে চলতে চলতে একটা বিশেষ ঘটনা তাঁর জীবনযাত্রা বদলে দিল। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে গেল। এই ঘটনা লুইসিয়ানকে ইসলাম সম্পর্কে ভাবিয়ে তুলল। হঠাৎ নরওয়ের এক বান্ধবীর সঙ্গে তাঁর দেখা। তিনি মরক্কোর এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন। এই বান্ধবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মেরির জীবনটা পাল্টে দিল। তাঁর পথ-মত, চিন্তা-চেতনা সবই বদলে গেল। মেরি এক সোনালি জীবনের সন্ধান পেলেন। পরিপক্বতা, গভীরতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের সত্য পরিচয় পেয়ে গেলেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের আগে ও পরে তাঁর মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হলো। লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অর্থহীন জীবন থেকে বেরিয়ে যেন একটা সার্থক ঠিকানা পেলেন লুইসিয়ান।

তাঁর বান্ধবী ইসলাম সম্পর্কে সরাসরি তাঁকে কিছু বললেন না। শুধু মুসলমান নারীর কর্মপদ্ধতির একটা সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরলেন। মেরি তা শুনে ভেতরে আন্দোলিত হলেন—পথ খুঁজে পেলেন। আর তখন থেকে ইসলামের গতিপথ সম্পর্কে জানতে শুরু করলেন। নরওয়ের বান্ধবী তাঁকে মরিয়ম জামিলার কিছু বই ও তাঁর ইসলাম গ্রহণের কাহিনিসংবলিত একটা বই দিলেন। মেরি নিজেকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিশালত্বের সামনে আবিষ্কার করলেন। আর তখনই তিনি নিজের হৃদয় ও চিন্তার পর্দায় এক গভীর ছোঁয়া অনুভব করতে লাগলেন। লুইসিয়ান তাঁর অস্থিমজ্জায় পরস্পরবিরোধী আত্মজিজ্ঞাসার সব কটি প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে পেলেন। সন্ধান পেলেন সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও বিশ্বাসের সব আদর্শ। তখন থেকে তিনি পবিত্র কোরআনুল কারিমের একখানি তরজমা পড়তে শুরু করেন। যখনই পড়া শেষ করলেন, তখন চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘এটাই সত্য’।

মেরি লুইসিয়ান জীবনে সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য খুঁজে পেলেন। তিনি কালেমায়ে শাহাদাতের বাণী উচ্চারণ করেন। সঙ্গে সঙ্গে নামাজ পড়তে শুরু করেন। নিজের নাম বদলালেন, নাম রাখলেন ফাতেমা।

ওয়েলসে কিছু ইসলাম প্রচারকের সঙ্গেও মেরি পরিচিত হলেন। অতঃপর তিনি একজন মিসরীয় যুবককে বিয়ে করেন। তাঁর স্বামী ইউরোপে প্রকৌশলীর দায়িত্বে চাকরিরত ছিলেন। ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মেরি পর্দার পোশাক পরিধান করলেন। তারপর স্বামীর সঙ্গে কায়রোতে চলে এলেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা হলেন তিনি। তাঁর সব কাজ সুচারুভাবে ও ইসলাম মোতাবেক পরিচালিত হতে লাগল। ইসলাম মেরিকে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে। তাঁর সামনে খুলে গেছে ইহকাল ও পরকালের অসীম দিগন্তের দুয়ার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা