kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

যুক্তরাজ্যের সেরা ১০ স্কুলের চারটিই ইসলামী

আবরার আবদুল্লাহ   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাজ্যের সেরা ১০ স্কুলের চারটিই ইসলামী

শিক্ষাক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে ব্রিটিশ ইসলামী স্কুলগুলো। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সেরা স্কুলের তালিকার শীর্ষ ১০ স্কুলের চারটি এবং শীর্ষ ২০ স্কুলের আটটি ইসলামী স্কুল। তালিকার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানও রয়েছে তাদের দখলে। ইসলামী স্কুলগুলোকে সরকারি তালিকাভুক্ত করা এবং তালিকায় শীর্ষস্থান লাভ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের ইসলামী কমিউনিটিগুলো। তারা বলছে, এতে তাদের দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্ল্যাকবর্নের তাওহিদুল ইসলাম গার্লস হাই স্কুল। এর পরেই রয়েছে বার্মিংহামের ইডেন বয়েজ স্কুল ও কাভেন্টির ইডেন গার্লস স্কুল। শীর্ষ তিন স্কুলই ইসলামী ও ব্রিটিশ কারিকুলামের সমন্বয়ে পরিচালিত। সেরা স্কুলের তালিকায় আরো রয়েছে প্রিস্টন মুসলিম গার্লস স্কুল, তিফফিন গার্লস স্কুল, বল্টন মুসলিম গার্লস স্কুল, মুসাব্বিরুন কমিউনিটি একাডেমি ও আল হিজরাহ স্কুল।

ব্রিটিশ সরকার প্রতিবছর শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী স্তরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থীদের ১৬ বছরের মধ্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা স্তর (উচ্চ মাধ্যমিক) শেষ করতে হয়। এরপর শিক্ষার্থী চাইলে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারে বা চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে।

সেরা স্কুলের তালিকা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত গ্রেডও মূল্যায়ন করা হয়। তাওহিদুল ইসলাম স্কুলের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে ৮৩.৩ শতাংশ নম্বর উত্তীর্ণ হয়েছে। অগ্রগতির আটটি বিবেচ্য বিষয়ে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ৬৯.৯ পয়েন্ট পেয়েছে। স্কুলটি টানা চতুর্থবারের মতো জাতীয় তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করল।

শীর্ষ তিন স্কুল ‘ওয়েল অ্যাবোভ অ্যাভারেজ’ (ব্রিটিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি পরিভাষা। উদ্দেশ্য সব বিবেচনায় যারা শীর্ষে) হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফস্টেড’ কর্তৃক ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ (অসাধারণ) সার্টিফিকেট লাভ করেছে। অফস্টেড ব্রিটেনের সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলের শিক্ষার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। ওয়েল অ্যাবোভ অ্যাভারেজে তাওহিদুল ইসলাম গার্লস স্কুলের স্কোর ২.১৭।

ইসলামী স্কুলের অভাবনীয় সাফল্যের পর দ্য মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পরিসংখ্যানে ইসলামী স্কুলের সাফল্য তাদের ব্যাপারে মানুষের নেতিবাচক মনোভব কমাবে।’

এমসিবির সেক্রেটারি জেনারেল হারুন খান বলেন, ‘এই কৃতিত্ব শিক্ষক, অভিভাবক ও কোর্সের শিক্ষার্থীদের। শীর্ষস্থান অর্জন একটি চমৎকার অর্জন। এই ফলাফল প্রমাণ করে, শিক্ষার্থী যে ধারারই হোক না কেন, যথাযথ চেষ্টা তাকে সাফল্য এনে দিতে পারে।’

দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম স্কুলসের (এএমএস) মুখপাত্র বলেন, ‘জিসিএসই ফলাফলে এই সাফল্যের জন্য প্রথমে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা শিক্ষার্থী, মা-বাবা, শিক্ষক ও মুসলিম স্কুলের পরিচালক সবাইকে তাঁদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

এএমএসের বর্ণনা মতে, ব্রিটেনে দুই ধরনের ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ক. মাদরাসা বা ধর্মীয় স্কুল। এ ধরনের স্কুলগুলো মসজিদের অধীনে পরিচালিত হয়। খ. স্বাধীন ইসলামী স্কুল। এ ধরনের স্কুলে ইসলামী শিক্ষা দেওয়া হলেও তা মাদরাসার মতো পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় পাঠক্রম অনুসরণ করতে পারে না। এই স্কুলগুলো সরকারি সিলেবাস ও নিয়ম-নীতি অনুযায়ী পরিচালিত। দ্বিতীয় ধরনের ইসলামী স্কুলই যুক্তরাজ্যের জিসিএসই ফলাফলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। জিসিএসইতে যুক্তরাজ্যের শতভাগ সফল ৫৫ স্কুলের ৯টিই ইসলামী।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক হাজার ৬০০ এবং তাতে দুই লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এর মধ্যে সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৮টি। বেসরকারি হিসাবে ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছয় হাজার ৮০০।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইসলাম যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৪.৪ শতাংশ মুসলিম, যাদের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩৫। তবে ইসলাম ব্রিটেনের সবচেয়ে দ্রুত প্রসারমাণ ধর্ম। শুধু ২০১১ সালেই যুক্তরাজ্যের এক লাখ নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করে, যাদের ৬৬ শতাংশ নারী।

সূত্র : গভডটইউকে, টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও এমসিবি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা