kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

র-ই-আরব

সোভিয়েত রাশিয়ার একমাত্র মাদরাসা

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোভিয়েত রাশিয়ার একমাত্র মাদরাসা

মুসলিম মনীষীর স্মৃতিধন্য দেশ উজবেকিস্তান। ইমাম বুখারি, ইমাম নাসাঈ ও ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর মতো বহু মনীষীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ দেশে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক আলবিরুনি উজবেকিস্তানের মানুষ ছিলেন। মঙ্গোলিয়া থেকে এসে চেঙ্গিস খানও এখানে কিছুকাল রাজত্ব করেছিলেন।

মুসলমানদের পারস্য বিজয়ের পর উজবেকিস্তানে ইসলাম প্রবেশ করতে শুরু করে। ৩০ হিজরিতে হজরত ওসমান (রা.)-এর আমলে আহনাফ বিন কায়েস (রা.) এ অঞ্চলে প্রথম অভিযানে বের হন। অষ্টম শতাব্দীর ৮৮ হিজরিতে উজবেকিস্তানের পুরো এলাকা মুসলমানদের অধীনে আসে উমাইয়া যুগে, মুসলিম আলেকজান্ডারখ্যাত কোতাইবা ইবনে মুসলিম (রা.)-এর হাতে। আব্বাসি যুগের খলিফা মুতাসিমবিল্লাহর শাসনামলে উজবেকিস্তানের বহু গোত্র ইসলামের পতাকাতলে শামিল হয়। (http://www.assakina.com/ politics/minorities/16885.html)

একাদশ থেকে ত্রয়োদশ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সুফি ও দরবেশরা উজবেকিস্তানে ইসলাম প্রচারে শক্তিশালী ভূমিকা রাখেন। তারই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, মির-ই-আরব মাদরাসা। যেখানে বসে ইমাম বুখারি (রহ.) হাজার হাজার ইলমপিপাসু ছাত্রকে হাদিসের দরস দিয়েছেন, ঠিক তারই পাশে গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এই দ্বিনি বিদ্যাপীঠ। যাতে রয়েছে ১১৪টি কক্ষ। অনেকে বলেন, পবিত্র কোরআনের ১১৪ সুরার সংখ্যার সঙ্গে মিল রেখে এখানেও করা হয়েছে ১১৪টি কক্ষ। ১৫৩৫-৩৬ সালের দিকে উজবেকিস্তানের ঐহিত্যবাহী এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, মির-ই-আরব (শায়খ আব্দুল্লাহ) ইয়েমেনি (রহ.)। তবে ধারণা করা হয়, এই মাদরাসার চূড়ান্ত নির্মাণকাজ শেষ করেন উবায়দুল্লাহ খান (রহ.)।

নান্দনিক এই মাদরাসা ভবনটি মাত্র দুই তলা। সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাথর, নিখুঁত কারুকাজ ও বিভিন্ন আরবি ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে। প্রতিটি কক্ষের রংবেরঙের মোজাইক সব পর্যটকের হৃদয় কাড়ে। ভবনের নীল গম্বুজগুলো যেন এখানকার যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীদের আকাশচুম্বী অবদানের কথা মনে করিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় এটিই ছিল একমাত্র আধ্যাত্মিক ইসলামী বিদ্যাপীঠ।

‘সোভিয়েত দেশে মুসলিম জীবন’ বইয়ের লেখক আবু জাফর শামসুদ্দিন লেখেন, সোভিয়েত ইউনিয়নে একটা বিশ্বখ্যাত মাদরাসাও ছিল। নাম ‘মীর আরব’ মাদরাসা। এই মাদরাসা এখনো আছে। মীর আরব পুরনো মাদরাসা হলেও সোভিয়েত কমিউনিস্ট জামানায় রাষ্ট্রীয় খরচে ‘ইমাম আল বুখারি ইসলামিক ইনস্টিটিউট’ গঠিত হয় ইসলামী বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য। (সোভিয়েত দেশে মুসলিম জীবন,  পৃষ্ঠা : ১৫-১৬, ২৭-২৯, ৩০-৩২)

চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী আহমদ কাদিরভ এই মাদরাসার ছাত্র। পাশাপাশি বুখারার বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, দার্শনিক আহমদ ডনিশও পড়েছেন এই মাদরাসাতেই। উজবেকিস্তানের স্থানীয় মুসলিম ও বিশ্বের আনাচ-কানাচ থেকে আগত পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান এই মির-ই-আরব। প্রতি জুমার দিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে আসে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা