kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১’-এর বিশেষ অংশ

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে এবং বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১’-এ, যা উভয় পক্ষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কয়েকটি করণীয় হলো—

 

এক. চুক্তি সম্পাদন

১. বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে একটি চুক্তিনামা সই হবে, যাতে চুক্তির মেয়াদ, বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার নাম, ঠিকানা ও উভয় পক্ষের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

২. ভাড়ার পরিমাণ, মাসে কত তারিখের মধ্যে তা পরিশোধযোগ্য, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ বিল, অন্যান্য সেবা থাকলে তার চার্জ ইত্যাদিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জামানত থাকলে তা প্রতি মাসে ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় হবে, নাকি বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সময় এককালীন ফেরতযোগ্য—সে বিষয়টিও স্পষ্ট করতে হবে।

 

৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে যে চুক্তিই হোক না কেন, তা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে করতে হবে।

 

দুই. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ

১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা-৭ মতে, কোনো বাড়ির ভাড়া মানসম্মতের অধিক হলে তা কোনোভাবেই আদায়যোগ্য হবে না। ‘মানসম্মত’ বলতে যৌক্তিক ও উপযুক্ত ভাড়ার কথা বলা হয়েছে। ১৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না।

 

তিন. রসিদে ভাড়ার আদান-প্রদান

সব বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াকে ভাড়ার বিপরীতে লিখিত রসিদ দিতে বাধ্য। এই রসিদ নির্ধারিত ফরমে সই করে ভাড়াটিয়াকে দিতে হবে। রসিদ সম্পন্ন করার দায়দায়িত্ব বাড়িওয়ালার। রসিদ দিতে ব্যর্থ হলে ভাড়াটিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িওয়ালা আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

চার. এক মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নয়

কোনো বাড়ি ভাড়া দিতে চাইলে বাড়িওয়ালা এক মাসের ভাড়ার বেশি টাকা অগ্রিম হিসেবে নিতে পারবে না।

 

পাঁচ. প্রয়োজনে বাড়ি মেরামত করবে মালিক

বাড়িওয়ালা বাড়ি মেরামত করতে বাধ্য। শর্তানুসারে বাড়িওয়ালা যদি বাড়ি মেরামত না করে, তাহলে ভাড়াটিয়া ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন করতে পারবে।

 

ছয়. বাড়িওয়ালা চাইলেই উচ্ছেদ নয়

চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে থাকলে ভাড়াটিয়াকে হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা যায় না। চুক্তিপত্র না থাকলে যদি কোনো ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ভাড়া পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করে, তাহলেও ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে না। যুক্তিসংগত কারণে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে চাইলে যদি মাসিক ভাড়ায় কেউ থাকে, সে ক্ষেত্রে ১৫ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। ভাড়াটিয়া নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা অবস্থায় যদি বাড়িওয়ালা তাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে, তাহলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার ভাড়াটিয়ার রয়েছে।

 

যেসব কারণে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে

বাড়িওয়ালা বেশ কিছু কারণে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে পারে। তা হলো—

১. ভাড়ার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলে।

২. বাড়িওয়ালার অনুমতি ছাড়া বাড়ির নকশা পরিবর্তন করলে কিংবা ভাড়াটিয়া স্বত্ব অন্য লোকের কাছে হস্তান্তর করলে অথবা সাবলেট দিলে।

৩. ভাড়া বাকি থাকলে।

৪. কোনো উৎপাত বা ক্ষতিকর কাজ করলে।

 

সাত. ভাড়া বাড়ানো

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। দুই বছর পর মানসম্মত ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।

 

আট. বাস উপযোগী বাসস্থান

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বাড়ি মালিক তার বাড়ি বসবাসের উপযোগী করে রাখতে আইনত বাধ্য। বাড়ির মালিক ইচ্ছা করলেই ভাড়াটিয়াকে বসবাসের অনুপযোগী বা অযোগ্য অবস্থায় রাখতে পারে না। ভাড়াটিয়াকে পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ইত্যাদি সুবিধা প্রদান করতে হবে।

 

বিস্তারিত দেখুন :

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-748.html?fbclid=IwAR0bqjYbbVrBqNevHwrLfff67Ro5Qu_9vzEvKpe3yagpT2droB0XPraAiyI

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা