kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুসলিম মনীষী

শাহ মাওলানা আবদুল মজিদ চাটগাঁমী (রহ.)

আহমদুল ইসলাম চৌধুরী   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২১ অক্টোবর কুতবুল আলম সুলতানুল আউলিয়া হজরত শাহ সুফি আলহাজ মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (রহ.) (প্রকাশ গারাংগিয়া বড় হুজুর কেবলা)-এর ওফাত দিবস। তিনি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ২১ অক্টোবর শুক্রবার সকালে গারাংগিয়াস্থ নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে ১৩১৪ হিজরি ১৩০১ বাংলা সালের মাঘ মাসে গারাংগিয়াস্থ নিজ বাড়িতে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম হজরত সুফি মুহাম্মদ আলাউদ্দিন মিয়াজি এবং তাঁর পুণ্যবতী মাতার নাম মুছাম্মৎ রাহাতজান বেগম মতান্তরে মোছাম্মৎ রাহাতুন্নেছা বেগম। হজরত রাহাতজান বেগমের পৈতৃক বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দরগাহ মুড়া।

বড় হুজুর কেবলা নিজ বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে পার্শ্ববর্তী মির্জাখিল গ্রামের হজরত আবদুল লতিফ (রহ.)-এর কাছে সকালে দ্বিনি শিক্ষা লাভ করতেন। সঙ্গে সঙ্গে মির্জাখিলের হজরত শাহ সুফি মাওলানা আবদুল হাই (রহ.)-এর কাছেও গমন করতেন ধর্মীয় জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে।

অতঃপর বড় হুজুর পশ্চিম পটিয়ার শিকলবাহা মাদরাসায় কিছুদিন লেখাপড়া করেন। এরপর আরো উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন এবং তত্সংলগ্ন মোহসেনিয়া মাদরাসা (বর্তমান হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ) থেকে ফাজিল পাস করেন। ওই সময় কৃতী ছাত্র বিধায় দারুল উলুম মাদরাসায় কিছুদিন শিক্ষকতা করেছিলেন।

১৯২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি গারাংগিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

১৩৬৬ হিজরিতে আরাকানি আজমগড় গমন করলে তথায় অবস্থানকালে আজমগড়ি হজরত তাঁকে খেলাফতদানে ভূষিত করেন।

বড় হুজুর ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম হজব্রত পালন করেন। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ৪৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে ছফিনায়ে মুরাদ জাহাজযোগে দ্বিতীয়বার হজব্রত পালন করেছিলেন।

তিনি মাদরাসার খেদমতের পাশাপাশি তাবলিগে তরিকতের খেদমতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গমন করতেন। ফলে মাদরাসার মাধ্যমে যেমন অসংখ্য ছাত্র দ্বিনি ইলম লাভ করেছেন, তেমনি তরিকতে দাখিল হয়ে অসংখ্য লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নৈকট্য লাভে সক্ষম হয়েছিলেন।

বড় হুজুরের দুনিয়াবিমুখ দৃষ্টিভঙ্গি, সুন্নতের ওপর দৃঢ়তা, তাকওয়া-পরহেজগারির কারণে দেশের সব আকিদার ধর্মীয় আলেমদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে যান। সব আকিদার ধর্মীয় বিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা তাঁর সঙ্গে মোলাকাত করে দোয়াপ্রার্থী হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে গারাংগিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৭১ বা ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ থেকে ৫২ বছর সর্বমহলে হজরত সুপারিনটেনডেন্ট সাহেব হুজুর হিসেবে পরিচিত হন। তখন তথা পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমলের আশির দশক পর্যন্ত মাদরাসাপ্রধানদের সুপারিনটেনডেন্ট বলা হতো।

বড় হুজুর জীবনে অসংখ্য যোগ্য ছাত্র রেখে যান। এবং ৭৮ জন ব্যক্তিত্বকে খেলাফতদানে ভূষিত করেন। তিনি সরাসরি অথবা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শয়ের কাছাকাছি সরকারি মঞ্জুরীকৃত মাদরাসা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তা ছাড়া অসংখ্য ইবতেদায়ি মাদরাসা, ফোরকানিয়া মাদরাসা, এতিমখানা, মসজিদ, খানকাহ, হেফজখানা রয়েছে, যা গণনা করা কষ্টসাধ্য।

তিনি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ২১ অক্টোবর ৭ জিলকদ ১৯৩৭ হিজরি ৪ কার্তিক ১৩৮৪ বাংলা শুক্রবার সকালে গারাংগিয়ায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ইন্তেকালের সময় হুজুরের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। এই দিন বাদ আসর তাঁর প্রাণাধিক ছোট ভাই হজরত ছোট হুজুর কেবলার ইমামতিতে জানাজার পর গারাংগিয়া মাদরাসা মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা