kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মহানবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে যারা সর্বোত্তম মানুষ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহানবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে যারা সর্বোত্তম মানুষ

প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন বিশ্বমানবতার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক। যিনি মাত্র ২৩ বছরে মানবজাতির এক অপূর্ব জাগরণ এনে দিয়েছেন। তিনি এমনই ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যে যারা একসময় তাঁর প্রাণের শত্রু ছিল তারাই তাঁর চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে পরম বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। তাঁর সংস্পর্শে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর মানুষগুলো পরিণত হয়েছিল সোনার মানুষে। তারা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল সর্বোত্কৃষ্ট চরিত্র। প্রিয়নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে এমন কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, যেগুলো সত্যি একজন মানুষকে সর্বোত্তম মানুষে পরিণত করতে পারে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে বলা হলো, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। তাঁরা বলেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি; কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূতপবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, যার কোনো গুনাহ নেই, কোনো শত্রুতা নেই, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম-অহমিকা ও কপটতা নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৬)

উক্ত হাদিসে রাসুল (সা.) এমন কিছু বিষয়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেগুলো অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী হতে পারবে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো গুনাহমুক্ত জীবন। অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমের অবাধ্য না হওয়া। শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ বর্জন করা। সুদ, ঘুষ, জিনা-ব্যভিচার ইত্যাদি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা। মানুষের হক যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।

উত্তম চরিত্র অর্জনের দ্বিতীয় উপায় হলো মানুষকে ভালোবাসা। কারো সঙ্গে অহেতুক শত্রুতা না রাখা। কারণ যে সব মানুষকে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসে কিংবা আল্লাহর হুকুম পালনার্থে কারো সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।  (বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

এই হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মানুষের মাঝে আরো কিছু খারাপ অভ্যাসের সৃষ্টি হয়, যার সবই পরিহারযোগ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে চলো। কারণ অনুমান বড় মিথ্যা ব্যাপার। আর কারো দোষ খুঁজে বেড়িয়ো না, গোয়েন্দাগিরি কোরো না, পরস্পরকে ধোঁকা দিয়ো না আর পরস্পরকে হিংসা কোরো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ কোরো না এবং পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণ কোরো না। বরং সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। (বুখারি, হাদিস : ৬০৬৬)

উত্তম চরিত্র অর্জনের আরেকটি মাধ্যম হলো অহংকার ত্যাগ করা। এটি মূলত শয়তানের বৈশিষ্ট্য। এই অহংকারই হচ্ছে সব পাপের মূল। পৃথিবীর প্রথম পাপ ছিল অহংকার। হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর অভিশপ্ত শয়তানই সর্বপ্রথম মাটি আর আগুনের যুক্তি হাজির করে আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, সে অস্বীকৃতি জানাল এবং অহংকার করল। আর সে ছিল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৪)

তাই আমাদের উচিত প্রতিটি ক্ষেত্রেই অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হওয়া। কারণ অতিরিক্ত আত্ম-অহমিকা মানুষকে পতনের দিকেই নিয়ে যায়।

উত্তম চরিত্র গঠনের আরেকটি উপায় হলো কপটতা ত্যাগ করা। এটি মুনাফিক ও চোগলখোরদের বৈশিষ্ট্য। এই ভয়ংকর বৈশিষ্ট্যের মানুষ বন্ধুর বেশে মানুষের ক্ষতি করে বেড়ায়। তাদের মিষ্টি কথায় বিগলিত হওয়া মানুষগুলো সব সময় প্রতারিত হয়। রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবিদের কপটতা থেকে (মহান আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাওয়ার প্রতি তাগিদ দিতেন।

হজরত আবু আহমাদ শাকাল ইবনে হুমাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে একটি দোয়া শিক্ষা দিন। তিনি বললেন, ‘তুমি বলো, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কানের অশ্লীল শ্রবণ, চোখের কুদৃষ্টি, জিহ্বার কুবাক্য, অন্তরের কপটতা ও কামনার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫১)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা