kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাচ্চাদের ঝুমঝুমি দেওয়া যাবে কি?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাচ্চাদের ঝুমঝুমি দেওয়া যাবে কি?

ছোটবেলায় ঝুমঝুমি নিয়ে খেলাধুলা করেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। পরিবারের সদ্য ফোটা ফুলকলিটিকে আনন্দ দিতে সবাই নানা খেলনাসামগ্রী নিয়ে আসে। তার দোলনায় লাগানো থাকে নানা রকম রঙিন ফুল, খেলনা ইত্যাদি। কিন্তু এই বয়সী বাচ্চাদের জন্য আমরা বিশেষ করে ঝুমঝুমিকেই বেশি গুরুত্ব দিই। যার ঝুম ঝুম শব্দে ছোট খোকা-খুকুরা বেশ আনন্দ পায়।

কিন্তু নবজাতক শিশুকে ঝুমঝুমি দিয়ে আনন্দ দেওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত? কারণ তার কর্কশ শব্দ বড়রাই সহ্য করতে পারে না, সেখানে ছোট বাবুদের অবস্থা কী?

আবার এই ঝুমঝুমি খেলনাটি অনেকটা ঘণ্টার মতো, যা ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঘণ্টা হলো শয়তানের বাঁশি।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৪৪১)

একজন মুসলমান কখনো শয়তানকে খুশি করতে পারে না। আর তার আদরের সন্তানকে শয়তানের বাঁশি শুনিয়ে শয়তানি প্রভাবে প্রভাবিত করে গড়ে তুলতে পারে না।

তা ছাড়া ঝুমঝুমি নামক এই খেলনাটিকে বলা যায় বাদ্যযন্ত্র খঞ্জনির বংশধর। একসময় বাংলাদেশেও এই বাদ্যযন্ত্রটির ব্যবহার ছিল। সাধারণত এগুলো দুই ধরনের হতো। একটি তামা বা কাঁসার তৈরি, দেখতে ছোট বাটির মতো। বাটিগুলোর নিচে ছোট ছিদ্র করে দড়ির হাতল দিয়ে আটকানো থাকত। আরেক ধরনের খঞ্জনি ছিল একটু বড় আকারের চাকতির মতো। যার চারপাশে ঝুমঝুমি লাগানো থাকত।

প্রাচীন মিসরেও এই বাদ্যযন্ত্রটি শয়তানকে খুশি করার জন্য ব্যবহার করা হতো। তাদের ভাষায় এই যন্ত্রটিকে বলা হতো সিস্ট্রাম। তারা যন্ত্রটিকে দেবতাদের খঞ্জনিও বলত।

র‌্যাটল (ঝুমঝুমি) সাপের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ লাতিন শব্দ Sistrurus এসেছে এই সিস্ট্রাম শব্দ থেকেই। মরু অঞ্চলের এই বিষধর সাপগুলোর লেজের অগ্রভাগের র‌্যাটলের শব্দ যেন সিস্ট্রামের ঝুমঝুম আওয়াজের প্রতিলিপি। এই সাপগুলোর র‌্যাটলগুলো ঘটিত হয় কিছু সংযুক্ত ক্যারাটিনের রিং দিয়ে। শত্রুকে সতর্ক করতে তারা যখন লেজ ওপরে তুলে নাড়ানো শুরু করে, তখন রিংগুলোর সংঘর্ষে ঝুমঝুম শব্দের তৈরি হয়। এই তথ্যগুলো দ্বারা বোঝা যায়, এই ঝুমঝুমির ইতিহাস বেশ পুরনো। এবং শুরুটা ছিল শয়তানের পূজা দিয়েই। তাই এ ধরনের খেলনা সন্তানদের না দেওয়াই ভালো।

এখানে এই কথা বলা উদ্দেশ্য নয় যে কোমলমতি শিশুদের কোনো খেলনাই দেওয়া যাবে না। হজরত আয়েশা (রা.)ও ছোটবেলায় খেলনা দিয়ে খেলেছেন। তাই বাচ্চাদের অবশ্যই খেলাধুলার সুযোগ দিতে হবে। খেলনা দিতে হবে। তবে এমন খেলনা দেওয়া যাবে না, যা শয়তানের চিহ্ন বহন করে।

তা ছাড়া যে বাচ্চাগুলো কথা বলার বয়সে উপনীত হয়েছে, তাদের জন্য এই ঝুমঝুমি ক্ষতিকর হতে পারে।

একটি মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, বাচ্চাদের কথা বলতে শেখানোর সময় যদি চারপাশে নানা ধরনের শব্দ হতে থাকে, তাহলে তা শিশুর মনোযোগের বেশির ভাগটাই কেড়ে নেয়।

গবেষণাটি করা হয় ২২ মাস থেকে ৩০ মাস বয়সী ১০৭ জন শিশুর ওপর। তিন ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে চারপাশের নানা শব্দ শিশুদের অমনোযোগী করে রাখে। ফলে তার শিখতে সমস্যা হয়।

গবেষণায় বাচ্চাদের দুটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রেখে নতুন কোনো জিনিসের নাম শেখানো হয়, একটি জায়গা ছিল কোলাহলপূর্ণ, আরেকটি জায়গা ছিল সুনসান। দেখা যায়, কম শব্দপূর্ণ জায়গায় থাকার সময়ই শিশুরা নতুন জিনিসগুলোর নাম শিখতে পেরেছে।

গবেষক জেনি সাফরান বলেন, ‘চারপাশের কোনো শব্দ ছাড়া যদি বাচ্চারা নতুন কোনো জটিল শব্দ শেখে, তাহলে তাদের শব্দভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু যদি আশপাশে অনেক কোলাহল থাকে, তাহলে বাচ্চাদের জন্য মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’ (টনিক) সুতরাং বাচ্চাদের ঝুমঝুমি দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা