kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইসলামী ব্যক্তিত্ব

বাঙালি মুসলমানের পছন্দের শীর্ষে তিন আরব শায়খ

মুফতি সাআদ আহমাদ   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঙালি মুসলমানের পছন্দের শীর্ষে তিন আরব শায়খ

আরবভূমিতে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল পবিত্র কোরআন। কিন্তু নিছক ভিন্ন ভাষার অভিযোগে আরব সীমান্তে বন্দি থাকেনি এই মহাগ্রন্থ। বিশ্বের আনাচকানাচে ছড়িয়ে পড়েছে কোরআনের আলো। যেখানে মুসলমান আছে, কোরআনের স্বার্থে সেখানেই আছে আরবি ভাষার চর্চা। ৮৮ শতাংশ মুসলমানের বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশেও রয়েছে আরবি ভাষার একটি বড় পাঠকমহল। আজ আমরা আলোচনা করব এমন তিনজন আরব সাহিত্যিক নিয়ে, যাঁরা বাঙালি পাঠকমহলে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন

 

শায়খ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আরিফি, সৌদি আরব

৫০ বছর বয়সী এই আরব সাহিত্যিক অল্প সময়েই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। লেখালেখির পাশাপাশি বক্তৃতার জগতেও আরিফির দাপুটে বিচরণ চোখে পড়ার মতো। স্পষ্ট উচ্চারণ, হৃদয়গ্রাহী সম্বোধন আর চোখ-ধাঁধানো উপস্থাপনায় শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখার জাদুকরী কারিশমা আছে তাঁর মধ্যে। শাসকগোষ্ঠীর ধর্মীয় রুচিবিরোধী পদক্ষেপ এবং বিশ্ব মুসলিমের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু মক্কা-মদিনার মাটিতে ইসলামের স্বকীয়তা অক্ষত রাখতে আরিফি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। অন্যদিকে লেখালেখি ও রচনা তাঁর বরেণ্য ব্যক্তিত্বের আরেক উপাখ্যান। কোনো এক শিশু ফোনে আরিফিকে জিজ্ঞেস করেছিল, মানুষ মারা যাওয়ার পর তার সঙ্গে কী আচরণ হয়? ছোট শিশুর এমন প্রশ্নের জবাবে ‘আল-আলামুল আখির’ (পরকাল) নামের প্রায় সাড়ে পাঁচ শ পৃষ্ঠাব্যাপী এক অসামান্য গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। ২০১১ সালে প্রকাশিত আরিফির এই কৃতিত্বগাথা গোটা পৃথিবীতে পাঠকপ্রীতির ঝড় তোলে। বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। পরবর্তী সময়ে তা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখনীগুলোর তালিকাভুক্ত হয়েছিল। এ ছাড়া প্রায় শতোর্ধ্ব গ্রন্থপ্রণেতার গৌরবময় অর্জন রয়েছে আরিফির ঝুলিতে। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক ও টুইটারের তথ্য মতে, ২০ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার সকাল-সন্ধ্যা আরিফিকে খোঁজে।

 

 

ডা. রাগিব সারজানি, মিসর

সময়ের আলোচিত ইসলামী ইতিহাসবিদদের নাম উচ্চারণ করলে শুরুতেই আসবে ডা. রাগিব সারজানি। ১৯৬৪ সালে মিসরের গারিবার অন্তর্গত আল-মুহাল্লাতুল কুবরায় তাঁর জন্ম। ১৯৮৮ সালে কায়রো ইউনিভার্সিটি থেকে মেডিসিনের ওপর অনার্স করেন। ১৯৯৮ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ইউরোলজিতে মাস্টার্স সমাপ্ত করেন। বর্তমানে তিনি কায়রো ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডাক্তারি পেশার সঙ্গে সঙ্গে কোরআন হিফজসহ ইসলামী শিক্ষার অন্য দিকগুলোয় সমান তালে পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষত ইসলামী ইতিহাসের ওপর তাঁর নিখুঁত পাণ্ডিত্য সত্যিই ঈর্ষণীয়। ছোট-বড় কলেবরে ইতিহাসের বিরল সব তথ্যসংবলিত বেশ কিছু লেখনী মুসলিম উম্মাহকে উপহার দিয়েছেন ডা. সারজানি। প্রাচীন মুসলিম ঐতিহাসিকদের দুর্লভ সব গ্রন্থ থেকে তাঁর শিকড়সন্ধানী গবেষণা, ইউরোপীয় ইতিহাসবিদদের অলীক কল্পকাহিনির সব ধূম্রজাল ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। যেমন—আন্দুলুস তথা স্পেন বিজয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারিক বিন জিয়াদের জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমরা নিজেরাও তো মুসলিম ঐতিহ্যের একটি গৌরবান্বিত অধ্যায় মনে করে স্মরণ করতাম। তবে ডা. রাগিবের ‘তারিখে আন্দুলুস’ (যা বাংলায় আন্দুলুসের ইতিহাস নামে দুই ভলিউমে প্রকাশিত হয়েছে) পড়ার পর আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আমরা কোন বোকার রাজ্যে অবস্থান করছিলাম। মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা, সাহিত্যগাথা লেখনী আর বিপুল তথ্যের সমৃদ্ধি তাঁকে পাঠকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। ইতিহাস, মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিষয়ক তাঁর লেখনীর সংখ্যা প্রায় এক শ। তাঁর ব্যক্তিগত টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বলছে, পাঁচ লক্ষাধিক ইতিহাসপ্রেমী ডা. রাগিব সারজানিকে ফলো করে।

 

ডক্টর মুহাম্মাদ আলী আস-সাল্লাবি, লিবিয়া

বিশ্ব মানচিত্রের যে অঞ্চলগুলো মুসলমানের খুনে রক্তিম হয়ে আছে, লিবিয়া তার অন্যতম। ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম নিয়ে যাঁরা সেখানে আন্দোলন করে যাচ্ছেন তাঁদের তালিকায় সাল্লাবি একজন। ১৯৯৯ সালে সুদানের উম্মে দুরমান ইসলামী ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় চার খলিফার জীবনীনির্ভর চারটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন। প্রতিটি যেন আলোচ্য ব্যক্তির সময়কালের জীবন্ত চিত্র। সেই থেকে শুরু সাল্লাবির কলমের প্রস্রবণধারা। একের পর এক তুলে ধরলেন মুসলিম সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট। বর্তমান মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনের কারণ ও তার প্রতিকারের কার্যত ব্যবস্থা কী হওয়া উচিত? বিশেষত বর্তমানের প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলায় আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য মুসলমানদের যেসব গুণে গুণান্বিত হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়, ইতিহাসের ভাঙা-গড়ার নিরিখে লিবীয় এই লেখকের কলম সেগুলোকে সুচারুরূপে শনাক্ত করেছে। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাঁর লিখিত বইয়ের সংখ্যা শয়ের কাছাকাছি। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বেশ কিছু বইয়ের বাংলা অনুবাদ বাজারে এসেছে। লেখালেখির পাশাপাশি ইউটিউব এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটভিত্তিক দাওয়াতি কার্যক্রম, বিশ্বব্যাপী তাঁর জনপ্রিয়তার আরো ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়েছে। ফেসবুক-টুইটারের কল্যাণে বিশ্বের আনাচকানাচ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মুসলমান সাল্লাবির সঙ্গে অনলাইনে অ্যাকটিভ আছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা