kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইতিহাস

উড্ডয়নযন্ত্রের প্রথম আবিষ্কারক একজন মুসলিম

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উড্ডয়নযন্ত্রের প্রথম আবিষ্কারক একজন মুসলিম

আধুনিক বিশ্বে উড্ডয়নযন্ত্রের প্রথম চিন্তক লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে বলা হলেও এর ৭০০ বছর আগেই বাস্তবে উড়ে দেখিয়েছেন আব্বাস ইবনে ফিরনাস

পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষ হয়েও প্রথম উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন হজরত সুলাইমান (আ.)। অবশ্য তাঁর এই উড্ডয়ন ছিল ‘মুজিজা’। এরপর বুরাকে চড়ে মিরাজ ভ্রমণ করেছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ ঘটনাগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানুষকে উড়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। শুরুর দিকে মানুষ সশরীরে উড়তে না পারলেও বিভিন্ন উপন্যাসে কিংবা শিল্পীর তুলিতে মানব উড্ডয়নের ছাপ পাওয়া যায় প্রাচীন সাহিত্য ও চিত্রকর্মগুলোতে।

তারই ধারাবাহিকতায় আধুনিক বিশ্বে উড্ডয়নযন্ত্রের প্রথম চিন্তক বলা হয় লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে। তাঁর আঁকা উড্ডয়নযন্ত্রের নকশা অর্নিথপটার মুগ্ধ করেছে গোটা বিশ্বকে। যদিও তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এর পরীক্ষামূলক ব্যবহারও করে দেখাননি। কিন্তু এর ৭০০ বছর আগেই মানুষকে আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন একজন মুসলিম বিজ্ঞানী। (সিএনএন)

শুধু স্বপ্ন দেখিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজেই সফলভাবে আকাশে ডানা মেলে উড়ে দেখিয়েছিলেন বিশ্ববাসীকে। সেই মহান মুসলিম বিজ্ঞানীর নাম আব্বাস ইবনে ফিরনাস। তাঁর আসল নাম আব্বাস আবুল কাসিম ইবনে ফিরনাস ইবনে ইরদাস আল তাকুরিনি। তিনি ছিলেন একজন মুসলিম আবিষ্কারক, প্রকৌশলী, উড্ডয়নবিশারদ, চিকিৎসক, আরবি সাহিত্যের কবি এবং আন্দালুসীয় সুরকার। ৮১০ সালে তিনি স্পেনের রন্ডায় (আন্দালুসের ইজন-রেন্ড ওন্ডায়) জন্মগ্রহণ করেন। উড্ডয়নের প্রচেষ্টার জন্য তিনি সমধিক পরিচিত। চাঁদে ইবনে ফিরনাস গহ্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে এই বিখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানীর নামেই।

মরক্কোর ইতিহাসবিদ আহমেদ মোহাম্মদ আলমাক্কারির লেখা অনুযায়ী আব্বাস ইবনে ফিরনাসের অন্যতম আবিষ্কার হলো, তিনি মানুষের উড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে দেখিয়েছিলেন। ৮৫২ সালে তিনি নিজেকে পালকে আবৃত করে নেন এবং শরীরে এক জোড়া পাখা যুক্ত করেন। এরপর কর্ডোভা গ্র্যান্ড মসজিদের মিনার থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি প্রায় পাখির মতোই গ্রহণীয় মাত্রার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে অবতরণের সময় তিনি পিঠে মারাত্মকভাবে আঘাত পান। এর কারণ ছিল, পাখিরা অবতরণের সময় লেজের ব্যবহার করে, যা তিনি করেননি।

কর্ডোভার আমির প্রথম মুহাম্মদের রাজকবি মুমিন ইবনে সাইদের একটি কবিতায়ও এ ঘটনার সপক্ষে সাক্ষ্য পাওয়া যায়। এতে বলা হয়েছে : ‘তিনি ফিনিক্সের চেয়ে দ্রুত ওড়েন, যখন তিনি শকুনের পালকে আবৃত হন।’ এই কবিতাটি আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয় তা হলো, তিনি যেই পালক ব্যবহার করে তার উড্ডয়নযন্ত্র বানিয়েছিলেন, সেগুলো ছিল শকুনের পালক।

২০১৫ সালে দি ইসলামিক মিউজিয়াম অব অস্ট্রেলিয়া তাঁর এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারকে আনুষ্ঠানিক সম্মান জানিয়েছে। এ ছাড়া তিনজন অস্ট্রেলীয় মুসলিম মহাকাশবিজ্ঞানীকে তাঁর উড্ডয়নযন্ত্রের অনুকরণে নতুন যন্ত্র বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  (ওয়ার্ল্ড বুলেটিন)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা