kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী তিন মুসলিম

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী তিন মুসলিম

আজিজ সানজার, নোবেল প্রাপ্তি ২০১৫

আজিজ সানজার

তিনি একজন তুরস্ক বংশোদ্ভূত আমেরিকান  প্রাণরসায়নবিদ ও কোষবৈজ্ঞানিক। বিজ্ঞানে নোবেলপ্রাপ্ত বিশ্বসেরা মুসলিম বিজ্ঞানীদের একজন। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের দ্বিতীয় নোবেল বিজয়ী নাগরিক। ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ পুনরুৎপাদনসংক্রান্ত গবেষণার জন্য ২০১৫ সালে তাঁকে থমাস লিন্ডাল ও পল মড্রিকের সঙ্গে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

মুসলিম মনীষীদের আকাশে এই মহামূল্যবান নক্ষত্রের জন্ম হয় ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সালে। তুরস্কের মারদিন প্রদেশের সাভুর নামক জেলায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারেই তাঁর জন্ম। আট ভাই-বোনের মধ্যে সপ্তম ছিলেন তিনি। আজিজ সানজারের পিতা-মাতা শিক্ষিত ছিলেন না। কিন্তু তাঁরা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

আদরের মেধাবী সানজারকে পড়ান তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই তিনি ১৯৬৯ সালে এম.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আজিজ সানজার ছিলেন তুরস্কের বিজ্ঞান একাডেমি এবং আমেরিকান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি একাডেমির একজন সম্মানিত সদস্য। তিনি সর্বপ্রথম তুরস্কীয়-আমেরিকান যিনি ২০০৫ সালে আমেরিকার জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির  সদস্যপদ লাভ করেন। তিনি বর্তমানে আমেরিকার উত্তর ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এ ছাড়া তিনি আজিজ এবং গুয়েন সানজার  নামক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা। এটি একটি অবাণিজ্যিক সংগঠন, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তুরস্কের সংস্কৃতির বিস্তার করা এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তুরস্কের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা।

 

আহমেদ হাসান

তিনি ছিলেন একজন মিসরীয় মার্কিন বিজ্ঞানী। তিনিই প্রথম আরব, যাঁকে বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এই কীর্তিমান মুসলিম। মিসরীয় ওই মার্কিন বিজ্ঞানীর জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। তিনি কায়রো থেকে ১০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দামানহুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বেড়ে ওঠেন উত্তরেরই আরেকটি শহর দেশুকে।

১৯৬৭ সালে তিনি মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে ব্যাচেলর অব সায়েন্স এবং ১৯৬৯ সালে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আহমেদ হাসান।

তিনি এক শর অধিক বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণাপত্র লিখেছেন, পাশাপাশি তাঁর লেখা ১২টিরও বেশি বই বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য ছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্য বিজ্ঞানের জন্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৮৯ সালে তিনি সৌদি আরবের কিং ফয়সাল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে পিটার দেবয় অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৭ সালে ই. ব্রাইট উইলসন অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৮ সালে আর্নেস্ট অরল্যান্ডো লরেন্স অ্যাওয়ার্ড, দ্য ফ্রাংকলিন ম্যাডেল ১৯৯৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কারসহ প্রায় ১৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।

বিজ্ঞানে তাঁর অভূতপূর্ব অবদানে গোটা পৃথিবী তাঁর কাছে ঋণী হয়ে থাকবে। ২০১৬ সালের ২ আগস্ট তিনি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ইন্তেকাল করেন।

 

আবদুস সালাম

তিনিই প্রথম পাকিস্তানি ব্যক্তি, যিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন। তিনি ১৯২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি মধ্য পাঞ্জাবের ঝাং অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি ছিলেন লাহোর সরকারি কলেজের ছাত্র। পরে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পান এবং সেখান থেকে ১৯৫১ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।

১৯৬০-১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। সে দেশের মহাকাশ ও পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপনে তাঁর ব্যাপক কৃতিত্ব আছে বলে দাবি করা হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ২১ নভেম্বর তিনি লন্ডনের অক্সফোর্ডে মারা যান।

কথিত আছে, তিনি কাদিয়ানি মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা