kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

হা দি সে র নি র্দে শ না

মহানবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে যারা সবচেয়ে বড় চোর

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহানবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে যারা সবচেয়ে বড় চোর

নামাজ বেহেশতের চাবি। ইসলামে পাঁচ স্তম্ভের একটি নামাজ। যারা যত্নসহকারে একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করে, মহান আল্লাহ তাদের পাপাচার থেকে বিরত রাখেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ওপর ঈমান আনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। দুনিয়াতে সফলতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো নামাজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, অবশ্যই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা তাদের নামাজে বিনয়াবনত। (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ১-২)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত ওবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, যা আল্লাহ তাআলা (বান্দার জন্য) ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এ সালাতের জন্য ভালোভাবে অজু করবে, সঠিক সময়ে আদায় করবে এবং এর রুকু ও খুশুকে পরিপূর্ণরূপে করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে তা না করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা নেই। ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন। (মিশকাত, হাদিস : ৫৭০)

কিন্তু অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যারা নামাজে অবহেলা করে, তারা দ্বিনকেই অবহেলা করে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নামাজ কায়েম করল, সে দ্বিন কায়েম করল। আর যে নামাজ ধ্বংস করল সে দ্বিন ধ্বংস করল। (বায়হাকি, হাদিস : ২৫৫০)

নাউজুবিল্লাহ! নামাজের ব্যাপারে উদাসীন হওয়া কত বড় জঘন্য অপরাধ, তা এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়। রাসুল (সা.) নামাজের ব্যাপারে উদাসীনতাকে ব্যভিচারের চেয়েও বেশি জঘন্য বলে অভিহিত করেছেন।

হজরত নোমান ইবনে মুররা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মদ্যপ, চোর ও ব্যভিচারী সম্পর্কে তোমাদের কী মত? যখন এই প্রশ্ন করা হয়, তখনো এদের সম্পর্কে কোনো হুকুম অবতীর্ণ হয়নি। তাঁরা উত্তর দিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অধিক জ্ঞাত। রাসুল (সা.) বললেন, এগুলো ঘৃণ্য ও জঘন্য পাপ, এসবের সাজা রয়েছে। আর যে ব্যক্তি নিজের নামাজ চুরি করে, সে চুরি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় চুরি। তাঁরা (সাহাবিরা) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপন নামাজ চুরি করে কিভাবে? তিনি বলেন, যে নামাজের রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করে না।  (মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদিস : ৩৮৯)

তাই আমাদের উচিত পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। এর সহজ উপায় হলো, প্রতিটি নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করা। কারণ আল্লাহ আমাদের মনের অবস্থা জানেন। একটি হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে মহান আল্লাহ আমাদের নামাজের মান অনুযায়ী আমাদের প্রতিদান দেবেন।

হজরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, এমন লোকও আছে যারা নামাজ আদায় করা সত্ত্বেও নামাজের রুকন ও শর্তগুলো সঠিকভাবে আদায় না করায় এবং নামাজে পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও খুশু-খুজু না থাকায় তারা নামাজের পরিপূর্ণ সাওয়াব পায় না। বরং তারা ১০ ভাগের এক ভাগ, ৯ ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ, সাত ভাগের এক ভাগ, ছয় ভাগের এক ভাগ, পাঁচ ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগের এক ভাগ বা অর্ধাংশ সাওয়াব প্রাপ্ত হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭৯৬)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা