kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

হা দি সে র নি র্দে শ না

বিনা অনুমতিতে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা যাবে?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনা অনুমতিতে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা যাবে?

বর্তমান যুগে মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট। মুহূর্তেই দূর-দূরান্তের খবর, কাছে-দূরে থাকা আপনজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ, পড়াশোনা, গবেষণা, অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে বাসা, অফিস কিংবা ব্যবসাকেন্দ্রের ওপর নজরদারি, বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে অংশগ্রহণ, ক্লাস প্রদানসহ বহু প্রয়োজনে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে মানুষের ঘরে ঘরে। শুধু শহরই নয়, গ্রামীণ জীবনযাত্রায়ও নিজের অবস্থানকে শক্ত করে নিয়েছে ইন্টারনেট।

অনেকেই নিজেদের বাসা, অফিস কিংবা দোকানে একাধিক ডিভাইসে সহজে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করেন ওয়াই-ফাই। যে প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এরিয়ায় তারহীন নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করে একই ইন্টারনেট লাইন থেকে একাধিক ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব। কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অনেকেই নিজেদের বাসা, অফিস, দোকান প্রভৃতিকে ওয়াই-ফাই জোন করে রাখেন। যেখানে তাদের অনুমতিক্রমে যে কেউ তাদের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু কিছু লোক তাদের প্রতিবেশীর ওয়াই-ফাইয়ের ওপর কড়া নজর রাখে, তারা অন্যের ওয়াই-ফাই বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করার জন্য নানা ফন্দি এঁটে থাকে।

বিপদের কথা হলো, মানুষ এটাকে অন্যায়ও মনে করে না। যাহোক, প্রশ্ন হলো, এভাবে বিনা অনুমতিতে অন্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা জায়েজ হবে কি না?

এর সোজাসাপ্টা উত্তর হলো, একদম না। বিনা অনুমতিতে অন্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করাও প্রতারণার শামিল। একে চুরিও বলা যেতে পারে। চুরি করা মুমিনের কাজ নয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো চোর (পূর্ণাঙ্গ) মুমিন থাকাবস্থায় চুরি করে না। (মুসলিম, হাদিস : ১০৬)

তা ছাড়া চুরি করে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার দ্বারা ওয়াই-ফাই জোনের মালিকের হক নষ্ট করা হয়। তার অনুমতি ছাড়া এই হক থেকে অন্য কেউ উপকৃত হওয়ার অবকাশ নেই। হজরত সাহাল ইবনে সাআদ সায়াদি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-এর কাছে কিছু পানীয় দ্রব্য আনা হলো। তিনি তা থেকে কিছুটা পান করলেন। তাঁর (সা.) ডান দিকে বসা ছিল একটি বালক, আর বাঁ দিকে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। তিনি (সা.) বালকটিকে বলেন, এ বয়োজ্যেষ্ঠদের দেওয়ার জন্য তুমি আমাকে অনুমতি দেবে কি? তখন বালকটি বলল, না, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কসম! আমি আপনার কাছ থেকে প্রাপ্য আমার অংশে কাউকে অগ্রাধিকার দেব না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) পানির পেয়ালাটা তার হাতে ঠেলে দিলেন। (বুখারি, হাদিস : ২৪৫১)

উপরোক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে যেকোনো ক্ষেত্রে মানুষের হক নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। কারণ আল্লাহ বান্দার হক নষ্টকারীকে ক্ষমা করেন না। এভাবে অন্যের হক নষ্ট করা জুলুমের শামিল।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেয়, সেদিন আসার পূর্বে, যে দিন তার কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোনো সত্কর্ম না থাকলে তার জুলুমের পরিমাণ তা তার কাছ থেকে নেওয়া হবে আর তার কোনো সত্কর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ থেকে নিয়ে তা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯)

বিনা অনুমতিতে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করাকে আমরা হালকা বিষয় ভাবলেও তা মূলত হালকা নয়। তাই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। যার হক নষ্ট করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা