kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

হা দি সে র নি র্দে শ না

যেসব কাজ সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে

মুফতি তাজুল ইসলাম   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেসব কাজ সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে

ইসলামে অন্যকে উপহাস, তিরস্কার, মন্দ নামে ডাকা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এ ধরনের আচরণের কারণে মানুষ মানসিকভাবে খুব কষ্ট পায়। তাই মুসলিম হিসেবে এ ধরনের বদ-অভ্যাস অবশ্যই পরিহার করে চলতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের পুরুষরা যেন একে অন্যকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে অনেক ভালো হতে পারে। আর তোমাদের নারীরা যেন একে অন্যকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে অনেক ভালো হতে পারে। তোমরা একে অন্যকে দোষারোপ করবে না, একে অন্যকে মন্দ নামে ডাকবে না, মুমিন হওয়ার পর মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ, আর যারা এ কাজ থেকে ফিরে আসে না তারাই জালিম।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১১)

সুতরাং কাউকে লাঞ্ছিত করা, অপমান করা বা অতীতের কোনো অপরাধ, দোষ-ত্রুটির জের ধরে কাউকে মন্দ নামে ডাকা নিষিদ্ধ।

আর মুমিন হিসেবে অন্য মুমিনের প্রতি অহেতুক কুধারণা করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা তা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে বলেছেন। তাই প্রমাণ ছাড়া কারো প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা ইসলামের শিষ্টাচারের বহির্ভূত কাজ। বরং অন্যের প্রতি অবান্তর কুধারণা পোষণ করা গুনাহর কাজ।

আল্ল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা অধিকাংশ অহেতুক ধারণা পোষণ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা কিছু কিছু ধারণা পাপতুল্য...।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

সামাজিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত একটি পাপ হলো গিবত। অন্যের গিবত বা পরনিন্দা করা জঘন্যতম গুনাহ। মুমিনদের এ ধরনের মন্দ স্বভাব থেকে বেঁচে থাকতে হবে। বরং গিবত বা পরনিন্দা করা মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় জানতে ওত পেতে থেকো না, একে অপরের গিবত কোরো না, তোমাদের কেউ কি নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? অথচ তা তোমরা ঘৃণা করো, তাই আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও দয়ালু।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা একটি ব্যাধি। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মমতাবোধ নষ্ট হয়। এ মন্দ স্বভাবের কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে সে অপদস্থ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ওই সব লোকের দুর্ভোগ হোক, যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা করে।’ (সুরা : হুমাজা, আয়াত : ১)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) একদিন দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি ইরশাদ করেন, ‘এ দুই কবরের অধিবাসী আজাব ভোগ করছে। তারা বড় কোনো অপরাধের কারণে আজাব ভোগ করছে না। তাদের একজনের অপরাধ হলো, সে মানুষের পেছনে নিন্দা করে বেড়াত। আর অপরজনের অপরাধ হলো, সে প্রস্রাব থেকে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করত না।’ (বুখারি ও মুসলিম)



কেউ গিবত করলে তার উচিত, যার গিবত করা হয়েছে তার কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তা সম্ভব না হলে আল্লাহর কাছে তার ও নিজের গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করা। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘গিবতের কাফফারা বা পাপ মোচনকারী হলো যার গিবত করা হয়েছে তার জন্য ইস্তেগফার বা গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করা।’

তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে কিছু ক্ষেত্রে গিবত করা যাবে। জালিমের মন্দ স্বভাবের কথা বলে মজলুম বিচার চাইলে। পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তির পাপকর্ম সম্পর্কে সমাজের লোকদের সতর্ক করার জন্য বা শক্তি প্রয়োগ করে তাকে প্রতিরোধের জন্য তার অবস্থার বর্ণনা করা। মুফতির কাছে ফতোয়ার অবস্থার পুরো বিবরণ প্রদান করা ইত্যাদি।

আরেকটি সামাজিক অপরাধ হলো, কারো প্রতি অপবাদ আরোপ করা। কাউকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করার অর্থ হলো অপবাদ দেওয়া। এটি গিবতের চেয়ে মারাত্মক গুনাহ। বিশেষত কোনো সতী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো অনেক বড় গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা সতী সাধ্বী সরল ও ঈমানদার নারীদের ব্যাপারে অপবাদ রটায় তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ২৩)

দুনিয়ায় তাদের কঠিন শাস্তির একটি হলো, অপবাদের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের ৮০টি বেত্রাঘাত করা হবে। অতঃপর কখনো তার কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। আর আখিরাতে কঠিন শাস্তি তো আছেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা