kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইমান ভেলেরিয়া ও রুশ ভাষায় কোরআন অনুবাদের গল্প

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইমান ভেলেরিয়া ও রুশ ভাষায় কোরআন অনুবাদের গল্প

রুশ ভাষায় পবিত্র কোরআনের প্রথম অনুবাদক ইমান ভেলেরিয়া বরখোভা গত ২ সেপ্টেম্বর মস্কোয় ইন্তেকাল করেন। ৭৬ বয়সী ইমান লেখক, অনুবাদক ও মুসলিম সাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন রুশ মুসলিমদের কাছে। রাশিয়ায় ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ধর্মীয় নানামুখী কার্যক্রমে নিজেকে সর্বদা ব্যস্ত রাখতেন তিনি। ইসলামের জন্য তাঁর আত্মনিবেদন অবিস্মরণীয়।

কোরআনের আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য ও শাব্দিক প্রাঞ্জলতা যথাসম্ভব বজায় রাখা হয়েছে ভেলেরিয়া ইমানের অনুবাদকর্মে। তাই এটিকে কোরআনের কাব্যিক ও সাহিত্যমান উত্তীর্ণ অনুবাদ বলেও মনে করে অনেকে। রাশিয়ান লেখক ও সাহিত্যিকরাও এটিকে মানোত্তীর্ণ অনুবাদ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কোরআনের তাফসির বিষয়ে দীর্ঘদিনের পড়াশোনা ও গভীর অধ্যয়নের পরিচয় মেলে তাঁর অনুবাদটি পড়লে। রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার সব ইসলামিক সেন্টারের গবেষকদের অনেকেই ইমানের অনুবাদকে রুশ ভাষার সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও মানসম্পন্ন কোরআনের অনুবাদ বলে মনে করেন। মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে রুশ ও আরব গবেষকদের পুনর্নিরীক্ষণের পর আজহার কর্তৃপক্ষ ১৯৯৭ সালে এটি মুদ্রণের অনুমতি দেয়।

১৯৪০ সালে রাশিয়ার এক অর্থডক্স খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইমান বরখোভা। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সেখানেই দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। অতঃপর রাশিয়ান একাডেমি অব ন্যাচারাল সায়েন্সে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাশিয়াসহ মধ্য এশিয়ায় ইসলামবিষয়ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকৌশলবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য সত্তরের দশকে সিরিয়া থেকে রাশিয়ায় পাড়ি জমান ড. মুহাম্মাদ সাইদ। পড়তে এলেও রাশিয়ার করুণ অবস্থা দেখে তিনি ইসলামের প্রচার-প্রসারে মনোনিবেশ করেন। রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ায় দাওয়াতি কার্যক্রমে নিযুক্ত হন চিন্তাশীল এ আলেম। প্রাচ্যবিদদের বিভ্রান্তিকর ও ভুল ব্যাখ্যায় ভরা কোরআনের অনুবাদ দেখে মানোত্তীর্ণ বিশুদ্ধ অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। তাই নানামুখী কার্যক্রম আনজাম দিতে গিয়ে দেখা পান রাশিয়ান লেখক ও অনুবাদক ভেলেরিয়া বরখোভার। সত্যানুসন্ধানী এ নারীর জ্ঞানানুরাগ ও লিখনশক্তির কারণে তাঁর মাধ্যমে কোরআনের বিশুদ্ধ অনুবাদের ইচ্ছা করেন মুহাম্মাদ সাইদ রুশদ। ১৯৭৫ সালে তাঁকে বিয়ে করেন। তাঁরই কাছে ইসলাম গ্রহণ করে নাম রাখেন ইমান।

বিয়ের পর ইমান ভেলেরিয়া ১৯৮০ সাল থেকে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থান করে কোরআনের অনুবাদকার্য সম্পন্ন করেন। স্বামীর দেশে কাটানো এ সময়গুলো ছিল তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠতর সময়। তাঁর স্বামী ও সিরিয়ার বেশ কিছু আলেম ইসলামী শরিয়ত ও তাফসির বিষয়ে ব্যাপক সহযোগিতা করেন তাঁকে। ১৯৯১ সালে অনুবাদকার্য সমাপ্ত হয়। আল আজহারের গবেষকদের রিভিউয়ের পর ১৯৯৭ সালে তা প্রকাশের মুখ দেখে। প্রকাশের পর কোরআনের এ অনুবাদ রাশিয়ার স্থানীয় লোকজনের কাছে বেশ সমাদৃত হয়। অনেকেই এ অনুবাদ পড়ে ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয় এবং ইসলাম গ্রহণ করে। ইমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি কোরআন তিলাওয়াত করলে অন্তরে অনুভব করি অন্য রকম ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসা আমাকে মাতৃভাষায় তা অনুবাদে তাড়া করেছে।’ দাম্পত্যজীবনে তিনি খালেদ আর রুশদ নামে এক ছেলের মা। ছেলেও মা-বাবার মতো ইসলামের প্রচার-প্রসারে নিজেকে নানামুখী কাজে জড়িয়ে রেখেছেন।

তথ্যসূত্র : ইসলাম ডটকম

[email protected]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা