kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বিচারব্যবস্থা যেমন ছিল

মুফতি মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বিচারব্যবস্থা যেমন ছিল

খোলাফায়ে রাশেদার যুগ ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালি-বর্ণালি অধ্যায়। তাঁদের কর্মপদ্ধতি-আদর্শ ও সামগ্রিক জীবনাখ্যান মানবতার জন্য সর্বোত্তম নমুনা। মূলত ৬৩২ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে খোলাফায়ে রাশেদার যুগ বলা হয়।

রাষ্ট্রে আইনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্যই বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, ধনী-গরিব, দুর্বল-সবল-নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে ফায়সালা করাই মূল উদ্দেশ্য। ইসলামে এর যথার্থ প্রমাণ-উদাহরণ রয়েছে। খোলাফায়ে রাশেদার যুগের ইসলামী রাষ্ট্র সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে হলেও সাক্ষ্য প্রদানের আদেশ করেছেন মহান আল্লাহ তাআলা। বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো; আল্লাহর জন্য ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবু।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৩৫)

তৎকালীন ইসলামী বিচারব্যবস্থায় বিচারপ্রাপ্তির জন্য খলিফাকেও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। খলিফা আলী (রা.) বর্ম হারিয়ে যাওয়ার পর তা এক ইহুদির কাছে দেখতে পেয়ে বিচারকের দারস্থ হন। বিচারক তাঁকে সাক্ষী পেশ করতে বললে তিনি তাঁর পুত্র ও দাসকে সাক্ষী হিসেবে পেশ করেন। কিন্তু বিচারক বললেন, পুত্রের সাক্ষী পিতার পক্ষে এবং কৃতদাসের সাক্ষী মনিবের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ফলে বর্মটি অভিযুক্ত ব্যক্তিরই রয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই ইহুদি এই বলে ইসলাম গ্রহণ করে, যে ধর্মে এমন সুবিচার রয়েছে, তা মিথ্যা ধর্ম হতে পারে না।

এ ছাড়া খলিফা ওমর (রা.) মদ্যপানের অপরাধে নিজের পুত্রকে বেত্রাঘাত করেন। এতে পুত্র আবু শাহমার মৃত্যু হয়। ইসলামের ইতিহাস এমন দৃষ্টান্তে ভরপুর। নিম্নে খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বিচারব্যবস্থা কেমন ছিল তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ বিধৃত হয়েছে।

 

আবু বকরের যুগে বিচারব্যবস্থা

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের যুগে বিচারকের জন্য স্বতন্ত্র ও আলাদা কোনো অবস্থান ছিল না। বরং ফকিহ সাহাবায়ে কেরাম বিচারব্যবস্থার বিষয়টি দেখভাল করতেন। মদিনা মুনাওয়ারায় খলিফা নিজেই মানুষের মাঝে বিচার করতেন। কখনো খলিফার আদেশে উমর (রা.)-ও বিচার করতেন। আর বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নররাই ছিলেন সেসব অঞ্চলের বিচারক। তাঁরা কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক বিচারকার্য পরিচালনা করতেন।

 

উমর (রা.)-এর যুগে বিচারব্যবস্থা

উমর (রা.)-এর যুগে প্রথমবারের মতো মদিনায় কিছু সাহাবিকে বিচারের দায়িত্ব দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) ও আবু দারদা (রা.) অন্যতম। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে বিচারক নিয়োগ করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), শুরাহবিল ইবনুল হারিস আল-কিনদি ও উবায়দা আল-সালমানিকে কুফার বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব দেন। বিচারকার্যে শেষের দুজন দ্যুতিময় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন। এমনকি খোলাফায়ে রাশেদার যুগ ছাড়াও উমাইয়া খেলাফতকালেও তাঁরা মানুষের সেবায় বিচারকাজে নিয়োজিত ছিলেন।

অন্যদিকে উমর (রা.) সাহাবি উবাদাহ ইবনে উবাদাহ আস-সামিতকে হেমস (আলেপ্পো) ও কনসারাইনের বিচারক হিসেবে নিয়োগ করেন। এমন কার্যব্যবস্থার মাধ্যমে উমর (রা.) গভর্নরদের থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করে নেন। এ কারণে বিচারকের অবস্থান অত্যধিক সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল। কারণ তিনি খলিফার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। (তারিখুল মদিনা : ২/৬৯৪; সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৪/৪০; ফুতুহুল বুলদান, পৃষ্ঠা ১৪৬)

তবে কিছু গভর্নর স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব অব্যাহত রাখেন; নিজস্ব দায়িত্ব পালনের পর বাড়তি সময়ে তাঁরা এ কাজটুকু করতেন। শত্রুসংলগ্ন প্রদেশগুলোর গভর্নররা সাধারণত এমন করতে পারতেন না। কারণ তাঁরা সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমধিক ব্যস্ত থাকতেন। উমর (রা.) তাঁর গভর্নরদের অসিয়ত করেছিলেন, যেন ধার্মিক, নিষ্ঠাবান ও সৎ-শুদ্ধ লোকদের নির্বাচন করে বিচার বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, : ১/৪৫৪; রাওদাতুল কুদাত ওয়া তারিকুন নাজাত, পৃষ্ঠা ৮৬)

 

উসমান (রা.)-এর যুগে বিচারব্যবস্থা

ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.) কখনো কখনো বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা বিচারক নির্ধারণ করতেন। যেমন—কাআব ইবনে সুরকে বসরার বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আবার কখনো গভর্নরদের বিচারের দায়িত্ব দিতেন। যেমন—কাআব ইবনে সুরকে বিচারকের পদ থেকে বরখাস্ত করার পর বসরার তৎকালীন গভর্নরকে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি বিচারকাজও করার আদেশ দেন। অনুরূপভাবে উসমান (রা.) ইয়ালা ইবনে উমাইয়াকে সানআর গভর্নর ও বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। (আত-তারিখ, পৃষ্ঠা ১৭৯)

তবে উসমান (রা.)-এর শাসনকালে বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নররা নিজ দায়িত্বে নিজেদের বিচারক নির্বাচন করতেন এবং তাঁরা তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতেন। বোঝা যায়, এতে করে তাঁর শাসনামলে গভর্নরদের ভিন্ন রকমের মনোভাব বেড়ে গিয়েছিল।

 

আলী (রা.)-এর যুগে শাসনব্যবস্থা

ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা.) নিজ দায়িত্বে কুফায় বিচারকার্য সম্পাদন করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণত গভর্নরদের পক্ষ থেকে বিচারক নির্ধারণ করা হতো। তবে অনেক বিচারককে আলী (রা.) নিজেই নিয়োগ করেছিলেন। (আল-ওলায়া ফিল বুলদান : ০২/৯৩)

খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বিচারব্যবস্থার উৎস ছিল কোরআন-সুন্নাহ, ইজমা (ঐকমত্য), ইজতিহাদ ও পরামর্শ। তাঁদের যুগে সবচেয়ে বেশি ফিকাহতত্ত্ব ও বিধানজ্ঞানসম্পন্ন সাহাবা ছিলেন আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আয়েশা, মুআজ ইবনে জাবাল, আবু মুসা আশ-আরি, আনাস ইবনে মালিক, আবু হুরাইরা, সালমান আল-ফার্সি, আবু সাইদ খুদরি ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, জায়েদ ইবনে সাবেদ প্রমুখ সাহাবি (রা.)। (আলামুল মুআক্কিয়িন : ১/ ১৩)

 

শরয়ি আইন-বিধির প্রয়োগ

খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বিচারকরা সব ধরনের বিচারকাজ সম্পন্ন করতেন। আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পারিবারিক বিষয়াদি, আইন-বিধি ও বদলা-প্রতিশোধে ও পারস্পরিক সব রকমের অসুবিধা নিষ্পত্তি করতেন। বিচারকরা নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিগত মর্যাদাকেন্দ্রিক বিষয়াদির বিচার করতেন। কিসাস এবং আইনিবিধি ইত্যাদি খলিফা ও আঞ্চলিক গভর্নররা প্রয়োগ করতেন। তবে এর আগে অবশ্যই অনুমোদন করে নিতে হতো। তখন হত্যার শাস্তি ব্যতীত অন্যান্য কিসাসের বিচার-বিধান তাঁরা বাস্তবায়নের অধিকার পেতেন।

বিচারব্যবস্থা পরিচালনার জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত ছিল না। বরং বিচারক নিজের বাড়িতে কিংবা মসজিদে বিচারকার্য বাস্তবায়ন করতেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, তখন বিচারের কাজ ছিল খুবই কম। কালেভদ্রে দু-চারটি বিচার করতে হতো। ফলে বিচার ও আইনি ফলাফল বিশেষভাবে লিপিবদ্ধ করতে হতো না। স্বাভাবিকভাবে স্মৃতিতে গেঁথে যেত সবার। বিচারক অভিযুক্তকে তিরস্কার ও তদন্তের জন্য কারাবরণের দণ্ডাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। উমর, উসমান ও আলী (রা.) এমনটা করেছিলেন। তখন ইসলামী সরকার প্রধান শহরগুলোতে কারাগার স্থাপন করেছিল। আর মসজিদের বাইরে প্রতিশোধ কিসাস বাস্তবায়ন করা হতো। (আল-ইস্তিয়াব : ২/১০৬; আল-ইসাবা : ২/১৩)

 

মানুষের মধ্যে কলহ-দ্বন্দ্বের স্বল্পতা

ইসলামী শিষ্টাচার ও চেতনা-আদর্শের উচ্চমার্গে তখনকার মানুষের অবস্থান ছিল। তারা ব্যক্তিত্ব-মাধুর্যের মাধ্যমে অন্যের সঙ্গে লেনদেন করত। ফলে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও দ্বন্দ্বের পরিমাণ খুবই নগণ্য ছিল। এতে বিচারকদের ব্যস্ততা ও দায়িত্ব স্বল্প ছিল।

প্রথম খলিফা আবু বকর যখন খিলাফত গ্রহণ করলেন, তখন আবু উবায়দা (রা.) তাঁকে বললেন, ‘আমি বাইতুল মালের দিকটি লক্ষ রাখব।’ উমর (রা.) বললেন, ‘আমি বিচারব্যবস্থা দেখভাল করব।’ পরে দেখা গেল, এক বছর পার হয়ে গেলেও উমরের কাছে কেউ কোনো বিচার কিংবা অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

আবু ওয়ালে শাকিক ইবনে সালমা বলেন, ‘আমি কুফার বিচারক সালমান ইবনে রাবিআর কাছে চল্লিশ দিন গিয়েছি। কিন্তু তাঁর কাছে কোনো অভিযোগকারী বা অপরাধীকে দেখিনি।’ প্রসঙ্গত, সালমান ইবনে রাবিআ ছিলেন ইসলামী শাসনামলে কুফার প্রথম বিচারক। (তারিখে তাবারি : ৩/৪২৬; উসদুল গাবাহ : ২/২২৭)

তৎকালীন ইসলামী রাষ্ট্র জনগণকে তাদের পাপ স্বীকার করতে উৎসাহী করত না। তবে তাদের জন্য তাওবা, পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়ার অনুশোচনা ও অনুতাপের তড়প তৈরি করত। আল্লাহভীতি ও পরকালের শাস্তির কথা মনে করিয়ে দেওয়ার বিভিন্ন ব্যবস্থা করত।

শুরাহাবিল ইবনে সামাত (৪০ হি) গভর্নরের দায়িত্ব লাভ করেন, তখন লোকদের সম্বোধন করে বলেছিলেন, ‘হে লোকেরা, তোমরা যে ভূমিতে রয়েছ, তাতে মদের সয়লাব রয়েছে। গুনাহের কাজে লিপ্ত হতে অনেক নারী রয়েছে। তোমাদের কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, তবে সে যেন আমাদের কাছে আসে (স্বীকার করে)। তখন তার ওপর আইন প্রয়োগ করা হবে। আইনের মাধ্যমেই তাকে পবিত্র করা হবে।’

এ খবর যখন উমর (রা.)-এর কাছে পৌঁছে, তখন তিনি শুরাহাবিলের উদ্দেশে লেখেন, ‘মানুষ নিজের অপরাধকে আড়ালে রাখছে, আর তুমি তা প্রকাশ করে দেবে, আমি তোমাকে সেই অধিকার দিইনি।’ তবে মানুষ যখন কোনো বিষয় বিচার বিভাগকে অবহিত করত, তখন রাষ্ট্র কোনো ধরনের পক্ষপাত ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় না নিয়ে বিচারকার্য বাস্তবায়ন করত।

একটি ঘটনা বর্ণিত আছে যে, ইয়েমেনের হামদানের এক মহিলা অশ্লীল কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তখন তাঁর চাচা মদিনায় আগমন করেন। এরপর বিষয়টি খলিফা উমর (রা.)-এর কাছে তুলে ধরেন। তখন উমর (রা.) তাঁকে বলেছিলেন, ‘তার এ অপরাধ আর বেশি প্রচার করলে আপনাকে আমি শাস্তি দেব। কোনো ভালো পাত্র পেলে, আপনার ভাতিজির বিয়ের ব্যবস্থা করুন।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৫/১৯৭; আল-মুগনি : ৭/৪৬৮)

 

খলিফারা স্বয়ং বিনা বাক্যে মেনে নিতেন বিচার-আইন

খোলাফায়ে রাশেদারা বিচার ও আইন-নীতির কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মতো ছিলেন। এমনকি তাঁরা বিচারকদের মর্যাদা অধিক পরিমাণে জোরদার ও সুসংহত করেছেন। তাঁরা শাসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুরোপুরি সাম্য-নীতি রক্ষা করে ন্যায়বিচার বাস্তবায়নের দাবি রাখেন।

ইসলামের ইতিহাসে শাসক ও সাধারণের মধ্যে মতানৈক্য ও সাময়িক বৈপরীত্যের বহু উদাহরণ রয়েছে। বিশিষ্ট সাহাবি উবাই ইবনে কাআব (রা.) খলিফা উমর (রা.)-এর সঙ্গে একটি বাগানের মালিকানা নিয়ে মতানৈক্য ও প্রত্যেকেই অভিযোগ করেছেন। তখন তাঁরা জায়েদ ইবনে সাবেদ (রা.)-কে তাঁদের মধ্যে বিচারক নির্ধারণ করেন। এরপর দুজনই তাঁর বাড়িতে আসেন। অতঃপর উমর (রা.) তাঁকে বলেন, ‘আমরা আপনার কাছে এসেছি, আপনি আমাদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়ার জন্য।’

জায়েদ (রা.)-এর বাড়িতেই বিচারকাজ করা হতো। তখন তিনি উমর (রা.)-কে তাঁর বিছানায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বললেন, ‘আমিরুল মুমিনিন! এখানে বসলে ভালো হয়।’ তখন উমর (রা.) বললেন, ‘প্রথম আপনার কাছে বিচার চাইতে এলাম। আপনি আমাকে আমার প্রতিপক্ষের সঙ্গে বসতে দিন।’

অতঃপর দুজনই জায়েদ (রা.)-এর সামনে বসলেন। তখন উবাই ইবনে কাআব (রা.) মালিকানা দাবি করে কথা বললেন। কিন্তু উমর (রা.) অস্বীকার করলেন। তখন জায়েদ ইবনে সাবেদ (রা.) উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে বললেন, ‘আমিরুল মুমিনিনকে দয়া করে ক্ষমা করে দিন। আমি আমিরুল মুমিনিন ছাড়া আর কারো জন্য এই অনুগ্রহ চাইনি।’ তখন উমর (রা.) কসম দিয়ে বললেন, ‘জায়েদের বিচার গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ সে উমর ও একজন সাধারণ মুসলমানের মধ্যে সমানভাবে বিচার না করে।’

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা