kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

সময় চুক্তিতে মাছ শিকার করা যাবে?

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সময় চুক্তিতে মাছ শিকার করা যাবে?

প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় একটি বড় দিঘি আছে। স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করেন। তিনি প্রতিবছর কয়েকবার সেখানে মাছ শিকারের আয়োজন করেন। নিয়ম হলো, মাছ শিকারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে নির্ধারিত সময়ের জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। যেমন—দুই ঘণ্টা ৫০০ টাকা, পাঁচ ঘণ্টা এক হাজার টাকা। নির্ধারিত সময়ের ভেতর ব্যক্তি যে পরিমাণ মাছ শিকার করতে পারবে, তা নিয়ে যাবে। এভাবে মাছ শিকার করার বিধান কী?

আবু সাঈদ মোড়ল, বগুড়া

 

উত্তর : মাছ শিকারের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি শরিয়তসম্মত নয়। কেননা এতে কে কতটুকু মাছ পাবে, তা সম্পূর্ণ অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত। এখানে নির্ধারিত সময়ে যেমন পরিশোধিত মূল্যের চেয়ে বেশি পরিমাণে মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি একেবারে না পাওয়ারও আশঙ্কা আছে, যা এক ধরনের ধোঁকা। প্রকারান্তে জুয়া। ধোঁকা ও জুয়া উভয়টি ইসলামে নিষিদ্ধ। এ ধরনের লেনদেন শরিয়ত নিষিদ্ধ ‘আলগারার’-এর অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি জুয়াতুল্য। কারণ এতে কে কী পরিমাণ মাছ ধরতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। কেউ হয়তো পাবেই না। অথচ টাকা দিয়েছে সবাই। এই টাকা হয়তো পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। আবার এমনও হতে পারে যে কেউ অনেক বেশি মাছ পেয়ে যাবে। যেহেতু এই অনিশ্চয়তা মূল লেনদেনের সঙ্গেই জড়িত, তাই তা নাজায়েজ। মুসলমানের জন্য তা পরিহার করা কর্তব্য।

সূত্র :  সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫১৩; মাবসুত, সারাখসি : ১২/১৯৪; বাদায়িউস সানায়ে : ৪/১৭; আন নাহরুল ফায়েক : ৩/৪১৯; রদ্দুল মুহতার : ৬/৬

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা