kalerkantho

ধারাবাহিক তাফসির

যাদের জন্য কোরআন বোঝা সহজ

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৯৭. আমি তো তোমার [মহানবী (সা.)] ভাষায় কোরআন সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি তার দ্বারা মুত্তাকিদের সুসংবাদ দিতে পারো এবং বিতর্কপ্রবণ জাতিকে এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারো। (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৯৭)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ ঈমানদারদের তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত করেন। আলোচ্য আয়াতে মহান আল্লাহর ভালোবাসা লাভের একটি উপায় বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াতের মূল বক্তব্য হলো, কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। এই কোরআন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভাষায় সহজ করে দেওয়া হয়েছে। কেননা কোরআন নাজিল হয়েছে আরবি ভাষায়। অন্যদিকে মহানবী (সা.)-এর মাতৃভাষা ছিল আরবি। কাজেই তিনি খুব সহজে এর আলোকে মানুষকে সৎ, সত্য ও সুন্দরের প্রতি আহ্বান করতে পারেন। আবার তিনি এর আলোকে তর্কপ্রিয় অবিশ্বাসীদেরও সতর্ক করতে পারেন।

কোরআন মোতাবেক আমল করা এবং জীবন পরিচালনা করা সব ঈমানদারের জন্য জরুরি। এ জন্য প্রয়োজনীয় সুরা শিখে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান জেনে নেওয়া সব মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে পুরো কোরআন বোঝা সর্বসাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, কোরআনের তাফসির চার ভাগে বিভক্ত—

এক. আরবরা বা আরবি ভাষাবিদরা ভাষার মাধ্যমেই জানে।

দুই. কোরআনের কিছু অংশ না জানা ও না বোঝার ওজর কারো পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিন. কিছু আয়াতের তাফসির অনুধাবন শুধু আলেমদের পক্ষেই সম্ভব।

চার. কোরআনের কিছু অংশের অর্থ ও তাফসির আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। (তাফসিরে ইবনে জারির : ১/৫৭)

এ প্রসঙ্গে মুফতি মুহাম্মাদ শফি (রহ.) সুরা নিসার (৪) ৮২ নম্বর আয়াতের আলোচনায় লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষ কোরআনের অর্থ ও মর্ম সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করুক—এটিই কোরআনের দাবি। সুতরাং এ কথা মনে করা ঠিক নয় যে কোরআন মজিদের আয়াত নিয়ে চিন্তাভাবনা করা শুধু ইমাম ও মুজতাহিদ (বড় বড় আলেমের) কাজ। অবশ্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পর্যায়ের মতোই চিন্তাভাবনারও বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন নিজের ভাষায় কোরআন মজিদের তরজমা ও তাফসির পড়বে এবং চিন্তাভাবনা করবে, তখন তাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা ও আখিরাতের চিন্তা সৃষ্টি হবে। আর এটিই হচ্ছে সব সফলতার চাবিকাঠি। তবে ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষের উচিত কোনো আলেমের কাছে অল্প অল্প করে পাঠ করা। এর সুযোগ না থাকলে কোনো নির্ভরযোগ্য তাফসিরের কিতাব পাঠ করবে এবং যেখানেই কোনো প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দেয়, নিজের বিদ্যাবুদ্ধি দ্বারা উত্তর না খুঁজে বিজ্ঞ আলেমের সাহায্য নেবে। (মা‘আরিফুল কোরআন : ২/৪৮৮)

মন্তব্য