kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

কোরবানির পর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ চাই

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোরবানির পর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ চাই

কোরবানি আল্লাহর হুকুম। যুগে যুগে মহান আল্লাহ অন্য নবী-রাসুলদের ওপরও কোরবানি ওয়াজিব করেছেন। ‘আমি প্রত্যেক জাতির জন্য কোরবানির নিয়ম নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা (জীবিকা হিসেবে) আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৪)

তাই কোরবানি করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। কিন্তু কোরবানি করেই দায়িত্ব শেষ নয়। কোরবানির পশুর রক্ত, বর্জ্য ইত্যাদি পরিষ্কার করাও কোরবানিকারীরই দায়িত্ব। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। একজন মুমিন কখনো পরিবেশদূষণ করতে পারেন না। অপরিচ্ছন্নতা পছন্দ করতে পারেন না। তাঁরা হবেন অত্যন্ত পবিত্রতাপ্রিয়। তবেই তো আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যাবে, যে ভালোবাসা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই প্রত্যেক মুমিন কোরবানি করে থাকেন।

মদিনার নিকটবর্তী কোবা এলাকার লোকজনের প্রশংসা করে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ১০৮)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২২২)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা লানতকারী (অভিশাপে আক্রান্ত হতে হয় এমন) দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, লানতকারী  কাজ দুটি কী? তিনি বলেন, যে মানুষের চলাচলের রাস্তায় কিংবা গাছের ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫, মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ৮৮৫৩)

রাসুল (সা.)-এর পক্ষ থেকে এত বড় হুঁশিয়ারি আসার পর কোনো মুমিন কোরবানি করতে গিয়ে মানুষের চলাচলের রাস্তা ও লোকসমাগমের জায়গা নোংরা করতে পারেন না। একান্ত অপারগ হয়ে যদি কাউকে এ রকম জায়গায় কোরবানি করতেই হয়, তবে কোরবানি শেষে সেই স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে তার কোরবানির বর্জ্যের দুর্গন্ধে অন্য মানুষ কষ্ট না পায়।

অনেকে আবার কোরবানির পশুর ভুঁড়ি ধোয়ার জন্য বিভিন্ন মানুষের পুকুরে চলে যায় অথবা চলে যায় কোনো বদ্ধ নালা, কূপ প্রভৃতিতে, যেগুলোর বেশির ভাগই হয় রাস্তার পাশে। রাসুল (সা.) এ ধরনের জায়গাকেও নোংরা করতে কঠোরভাবে বারণ করেছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, অতঃপর তা দিয়ে গোসল করে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩৯, মুসলিম, হাদিস : ২৮২) হাদিসে যদিও পেশাবের কথা বলা হয়েছে; কিন্তু কোনোভাবে বদ্ধ পানিকে নোংরা করা যাবে না।

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে; যার মূল উৎপত্তিস্থলই হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন আঙিনা ও জমে থাকা পানি। পবিত্র ঈদুল আজহায় যদি কোরবানির পশুর বর্জ্য ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হয়, তবে এর প্রকোপ আরো বেড়ে যেতে পারে। তাই আমাদের সবাইকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। আমাদের ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এতে যেমন আল্লাহ খুশি হবেন, তেমনি আমরাও নিরাপদে থাকব স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে।

হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্রকে পছন্দ করেন। আল্লাহ পরিচ্ছন্ন। তিনি পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। আল্লাহ মহৎ, তিনি মহত্ত্ব পছন্দ করেন, আল্লাহ বদান্য, তিনি বদান্যতা পছন্দ করেন। অতএব তোমরা তোমাদের (ঘরের) উঠানগুলো পরিচ্ছন্ন রাখবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৯৯)

তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে সঠিকভাবে কোরবানি করি, নিজেদের উদ্যোগেই আমাদের ঘরবাড়ি, এলাকা পরিষ্কার রাখি। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা