kalerkantho

ধারাবাহিক তাফসির

আল্লাহ অপরাধীদের বিশেষভাবে গণনা করেন

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৯৪. তিনি (আল্লাহ) তাদের পরিবেষ্টন করে রাখেন এবং তিনি তাদের বিশেষভাবে গণনা করেন।

(সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৯৪)

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে শিরক প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছিল। শিরক এমন গর্হিত অপরাধ যে এর ফলে আসমান ও জমিন ফেটে পড়তে পারে। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, ওই শিরককারীদের যদিও দ্রুত পাকড়াও করা হয় না। কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের পরিবেষ্টন করে আছেন। তিনি তাদের বিশেষভাবে গণনা করেন। এখানে আল্লাহর অসীম জ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা সব সময় মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মানুষের সব অবস্থা ও কাজকর্ম সম্পর্কে অবহিত। পৃথিবীর অণু পরিমাণ বা তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর জিনিসও তাঁর পর্যবেক্ষণের বাইরে নয়। তা ছাড়া সব কিছুই লওহে মাহফুজে (সুরক্ষিত আদি পুস্তকে) সংরক্ষিত আছে। আল্লাহর হুকুমে তাঁর ফেরেশতারাও মানুষের কাজকর্ম প্রত্যক্ষ করছেন। তাঁরা যা কিছু দেখছেন, তা সংরক্ষণ করছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই তোমাদের জন্য আছে তত্ত্বাবধায়করা—সম্মানিত লেখকরা (ফেরেশতারা)। তোমরা যা করো তারা তা জানে।’ (সুরা : ইনফিতার, আয়াত : ১০-১২)

পৃথিবীর কোনো কিছুই আল্লাহর জ্ঞান ও শক্তির বাইরে নয়। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘অদৃশ্যের চাবিগুলো তাঁর কাছেই রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। জলে ও স্থলে যা কিছু আছে, তা তিনিই অবগত। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না এবং রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লওহে মাহফুজে) নেই।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)

আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা তাঁর সব সৃষ্টিকে ঘিরে আছে। তা সদা জাগ্রত, চির-অম্লান। সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দিলে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যায়, সৃষ্ট বস্তুকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ প্রকৃতিতে সব আইন ও বিধান চালু করেছেন। সৃষ্টির আদি যুগ থেকে অদ্যাবধি একইভাবে চলে আসছে। মানুষের নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার প্রবণতা আছে। কিন্তু সর্বোচ্চ বুদ্ধিমান ব্যক্তিও কোনো কাজে মগ্ন থাকলে পারিপার্শ্বিকতা ভুলে যায়। সে ব্যক্তি সব কিছুতে খেয়াল করতে অক্ষম। কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহর সত্তা চিরজাগ্রত।

মন্তব্য