kalerkantho

তুরস্কে জালালুদ্দিন রুমি জাদুঘর

বেলায়েত হুসাইন   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরস্কে জালালুদ্দিন রুমি জাদুঘর

মুসলিম বিশ্বের বিখ্যাত সুফি আলেম মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহ.)-এর জন্মস্থান আফগানিস্তান হলেও সেখানে বসবাস করতে পারেননি তিনি। মঙ্গলীয়দের উপর্যুপরি আক্রমণের ফলে তিনি ও তাঁর পরিবার জন্মস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তারা সেলজুক রাজপরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করে। তৎকালীন সেলজুক সুলতান আলাউদ্দিন কায়কোবাদ মাওলানা জালালুদ্দিন রুমিকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন ও ভক্তি করতেন। তিনি তাঁকে সেলজুকের রাজধানী কোনিয়ায় আমন্ত্রণ জানান, যেন মাওলানা রুমি (রহ.) তাঁর বাকি জীবন সেখানেই অতিবাহিত করেন। তুর্কি শহর কোনিয়া পরবর্তী সময় উসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১২ জুন ১২৩১ সালে মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহ.)-এর বাবা বাহাউদ্দিন ওলাদের ইন্তেকাল হয়। সুলতান আলাউদ্দিন কায়কোবাদ নিজের প্রিয় ও বাহারি ফুলে শোভিত চমৎকার একটি বাগান তাঁর বাবাকে দাফন করার জন্য দান করেন। সবুজে ঘেরা এই বাগানেই তিনি তাঁর বাবাকে সমাধিস্থ করেন। পরবর্তী সময় মাওলানা রুমিকেও বাবার পাশে (১৭ ডিসেম্বর ১২৭৩) সমাহিত করা হয়।

মাওলানা রুমির শিষ্য হিসামুদ্দিন জালবি প্রিয় মুরশিদের সমাধিক্ষেত্রে একটি স্মৃতিস্থাপনা নির্মাণের ইচ্ছা করেন। তিনি সেলজুক রাজপরিবারকে তাঁর ইচ্ছার কথা জানালে তারা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। ১২৭৪ সালে সেলজুক আমির সুলেমান ব্রাউনাহর স্ত্রী গুরজু খাতুন ও আমির ইলমুদ্দিন কায়সারের অর্থায়নে মাওলানা জালালুদ্দিন রুমির সমাধিসৌধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেলজুক প্রকৌশলী বাহরুদ্দিন তাবারজালিকে নির্মাণকাজের সার্বিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়। নির্মাণকালে সৌধের চারটি লম্বাকৃতির পিলারের ওপর একটি গম্বুজ নির্মাণ করা হয়। ফিরোজা পাথরের নকশায় নির্মিত গম্বুজটি ছিল মনকাড়া ও রুচিকর। ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় এভাবেই ছিল এটি।

স্মৃতিস্তম্ভ থেকে স্মৃতি জাদুঘর : ১৮৫৪ সালে মূল স্তম্ভের সঙ্গে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেলিম উগলু আবদুল ওয়াহিদ স্থাপনার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কাজ করেন এবং সৌন্দর্যবর্ধনে হাত লাগান। খোদাই করা কাঠ দিয়ে সমাধিকুঠির চারপাশও সাজিয়ে তোলেন।

১৯২৬ সালে স্মৃতিস্তম্ভটিকে পূর্ণাঙ্গ জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এ সময় সমাধির মূল স্থাপনা ও আশপাশের কিছু জায়গা নিয়ে নির্মাণ করা হয় জাদুঘর ভবন। এটি নির্মাণে সেলজুক স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করা হয়। ২ মার্চ ১৯২৭ দর্শনার্থী ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ‘মাওলানা জাদুঘর’। ধীরে ধীরে মাওলানা জালালুদ্দিন রুমির সমাধিসৌধকে একটি নান্দনিক স্থাপত্য হিসেবে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে এটি তুরস্কের তৃতীয় জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় আরো এগিয়ে আছে আয়া সুফিয়া ও তোপকাপি প্রাসাদ।

যা আছে জাদুঘরে : জাদুঘরের মূল কেন্দ্রে রয়েছে মাওলানা রুমি (রহ.)-এর খানকা। গম্বুজটি এরই অংশ। গম্বুজের নিচে এক কোণে সমাধির অবস্থান। সোনা ও সোনালি রঙের মখমল কাপড় দ্বারা সমাধি ঢেকে রাখা হয়। সমাধির পেছনে রয়েছে প্রশস্ত একটি কক্ষ। এখানে মাওলানা রুমি (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ও তাঁর রেখে যাওয়া কিছু ঐতিহাসিক আসবাবপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত মোচাকার টুপি, নামাজের পাটি, একাধিক পোশাক ও প্রাচীন কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র। এ ছাড়া আরো কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে সেখানে। বছরের সব মৌসুমেই কোনিয়ার মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি জাদুঘরকে মনে হয় কোনো তীর্থভূমি। তীর্থযাত্রীদের সমাগমে সব সময় জায়গাটি মুখর হয়ে থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা