kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

বিপদাপদ এলে ঈমান মজবুত হয়

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিপদাপদ এলে ঈমান মজবুত হয়

যখন কোনো মুসিবত আসে, মানুষ পেরেশান হয়ে যায়। বলতে থাকে, ‘আরে ভাই! আমি কী পাপ করেছি, যার ফলে আল্লাহ তাআলা আমাকে এই মুসিবত দিয়েছেন।’ অথচ চিন্তা করা দরকার যে আল্লাহ তাআলা আমাকে সহজেই এই মুসিবত থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল্লাহর বড় অনুগ্রহ যে তিনি গুনাহগুলোর ক্ষতিপূরণের তাওফিক দিয়েছেন। তাই সেটাকে গনিমত মনে করতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠার দোয়ার মধ্যে প্রথম শব্দ ‘আলহামদুলিল্লাহ’। এর হিকমত ও রহস্য কী? এটা এ জন্য যে রাতে আমি এক ধরনের মৃত্যুবরণ করেছিলাম। আল্লাহর শুকরিয়া যে তিনি আমাকে আবার জীবন দান করেছেন। তাই এমন পরিস্থিতিতে নেক কাজ করলে সেটাকে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করতে হবে। আর যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে সেটাকে আমলের দুর্বলতা মনে করতে হবে।

এ কথা চিন্তা করুন যে আমি ভালো কাজ করিনি। অতঃপর মিথ্যা কথা বলছি, গিবত করছি, অন্যের বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছি, অন্যকে ধোঁকা দিচ্ছি। এসব অকৃতজ্ঞতার ফলাফল, যার কারণে গুনাহ হয়েছে। আজ তো আমরা নিতে জানি, কিন্তু দিতে জানি না। আজ উম্মতে মুসলিমার দুরবস্থা, কেউ শান্তিতে নেই। আল্লাহর ফজলে কিছু মানুষ সুখে-শান্তিতে আছে। আর কিছু মানুষ কিয়ামত পর্যন্ত এমন থাকবে, যারা আল্লাহ তাআলার বিশেষ বান্দা। তাদের হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ আল্লাহ তাআলা নিজেই করবেন।

আল্লাহর নিয়ম হলো, যখন কোনো আজাব আসে, তা সবার ওপরই আসে। এতে নেককার হোক বা বদকার—সবাই পাকড়াও হয়। এমনকি নবীরাও এ থেকে বাদ যান না। সুতরাং আমি ও আপনাদের কী অবস্থা হবে! আল্লাহ তাআলা নবীদেরও পরীক্ষায় ফেলেন, যেন লোকদের দেখাতে পারেন যে দেখো, এরা আমার বিশেষ বান্দা। এদের আমি তোমাদের নমুনা ও আদর্শ বানিয়ে পাঠিয়েছি। নবীদের কাহিনি কোরআনে কেন বর্ণনা করা হয়েছে? এর উদ্দেশ্য এটাই, যেন মুমিনরা তা থেকে সান্ত্বনা পায়। পরীক্ষা তো হবেই। নবীদেরও হয়েছে। নবীরা পরীক্ষায় পাস করেছেন। সফলতা অর্জন করেছেন। কেউ ফেল করেননি। নবী করিম (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে আল্লাহর পরীক্ষার হাকিকত জানিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহর পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। প্রত্যেক সাহাবি নবী করিম (সা.)-এর কথা সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে ছিলেন। কেউ কখনো কোনো অভিযোগ-অনুযোগ করেননি। আর সাহাবিরা তাবেয়িদের এই শিক্ষা দিয়েছেন। এই সিলসিলা ও ধারাবাহিকতা কিয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে।

 

 

 

 

মন্তব্য