kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

কল্যাণময় বাণী প্রচারের বিভিন্ন পন্থা

মুফতি তাজুল ইসলাম   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কল্যাণময় বাণী প্রচারের বিভিন্ন পন্থা

বর্তমান মুসলিম সমাজে কল্যাণমূলক দাওয়াতি কর্মতৎপরতা চোখে পড়ে না। সামাজিক সেবামূলক ও সৃজনশীল কাজ নেই বললেই চলে। বিশেষ করে এমন সাধারণ কাজ, যা করতে বেশি শ্রম ও টাকা লাগে না, এমন কাজ চোখে পড়ে না। উদাহরণত, সমাজে গ্রন্থ বিতরণ ইত্যাদি কাজে কেউ এগিয়ে আসে না। অনেকে ধর্মীয় বিষয়ে স্বল্পজ্ঞানের কারণে অপারগতা প্রকাশ করে। তারা মনে করে, এসব কল্যাণমূলক দাওয়াতি কাজ একমাত্র আলেম ও সমাজ সংস্কারকদের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা প্রত্যেকে আমাদের সমাজকে ইটের মতো গেঁথে গেঁথে বিনির্মাণ করতে পারি। সমাজের প্রত্যেকে ইট বানাতে পারে। ইসলামের নকশা অঙ্কন করতে পারে। এখানে সেসব বিষয়ের মধ্য থেকে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—

 

জিকির-আজকার সংবলিত প্ল্যাকার্ড-স্টিকার বিতরণ

আমরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন স্টিকার লাগাতে পারি, যা দেখে মানুষ আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হবে, যার মধ্যে থাকে সুন্দর সুন্দর বাণী। ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বাণীসংবলিত স্টিকার ছড়িয়ে দ্বিন প্রচার করতে পারি। আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে পারি। আল্লাহ তাআলা তাঁর পথে দাওয়াতি কার্যক্রমকে নবীদের দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারিত করেছেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘বলে দাও, এই আমার পথ। আমি আল্লাহর পথে অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গেই আহ্বান করি এবং আমার সঙ্গে যারা আছে, তারাও।’    (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৮)

 

বাজারে গমনকালীন দোয়া প্রচার করা

আপনি বাজারে গমনকালীন দোয়াটি প্রচার করতে পারেন। অনেক ভাই তাদের গাড়িতে করে বিভিন্ন ইসলামিক সিডি, ক্যাসেট নিয়ে যায়। তারা যুবকদের সমাবেশ, যেমন—খেলায় মাঠ বা বাগান পার্কে যায়।

অনেক ভাই সেলুনে কিছু স্টিকার লাগিয়ে রাখেন, যেন চুল কাটার জন্য অপেক্ষার সময় ফাঁকে ফাঁকে লোকেরা তা পড়তে পারে।

এসব দাওয়াতি কার্যক্রম মানুষের হৃদয়ে ধর্মীয় অনুভূতি সৃষ্টি করে দেবে। উল্লেখ্য, অনেক ভাইকে যখন বেশি সওয়াবসংবলিত কিছু জিকির-আজকারের কথা বলা হয়, তখন সে আশ্চর্য বোধ করতে পারে। তখন সে বলবে, দুটি কলেমা মাত্র! কিন্তু এত সওয়াব হবে! তাহলে আমি কেন রেস্তোরাঁ, হোটেলে বিশেষ বিশেষ দোয়া লাগিয়ে দেব না, যা তারা হোটেলে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় পড়বে? আমরা তো হোটেল মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে এমন করতে পারি।

এসব দাওয়াতি কাজের জন্য প্রধান গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে আপন বাড়ি। আমাদের বাসা, অফিস, দোকান—যেখানে নিকটাত্মীয়কে প্রথমে কল্যাণের দিকে আহ্বান করতে পারি।

আপনি যে মহল্লায় বাস করেন, সেখানে নিশ্চয় যুবকদের একটি মিলনায়তন আছে। প্রবীণদের মজলিস হয়। আপনি এসব পাবলিক প্লেসে সাধ্যমতো দাওয়াতি কর্মতৎপরতা চালাতে পারেন। তাদের সামনে ইসলামী প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, স্টিকার লাগিয়ে রাখতে পারেন। ফলে তারা অহেতুক গল্পগুজব করার পরিবর্তে এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়বে।

 

মানুষকে কোরআন-হাদিস শ্রবণের ব্যবস্থা করা

এসব মাধ্যমের অন্যতম হচ্ছে দোয়া-জিকির, কোরআন-হাদিস ইত্যাদি শোনানোর মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া।

গাড়ির পেছনের গ্লাসে আমরা বিভিন্ন দোয়া, বাণীসংবলিত স্টিকার লাগিয়ে রাখতে পারি। সুন্দর ডিজাইন করা ইমেজ, ওয়ালপেপারে ইসলামিক বাণী তুলে ধরা যায়। ফলে এটা আরেকজনে আনন্দচিত্তে গ্রহণ করবে। গাড়িতে সিডি বিতরণ করতে পারি। নারীবিষয়ক জিকির, ফতোয়া নারীদের মধ্যে বিতরণ করতে পারি। এটা তাদের জন্য খুব উপকারী হবে।

আপনি বইপত্র বিতরণ, স্টিকার লাগানো, ফেস্টুন ঝোলানো বা দরিদ্রকে দান-সদকা ইত্যাদি কল্যাণমূলক কাজের বিনিময়ে একমাত্র আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করতে পারেন। আপনি আখিরাতে এর বিনিময় পাবেন। কিন্তু আমেরিকায় তারা এগুলো পার্থিব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির আশায় করে থাকে। আপনারা জানেন, আমেরিকায় মাথাপিছু মোটা অঙ্কের কর দিতে হয়। কিন্তু কেউ যদি জনকল্যাণমূলক কিছু কাজ করে অথবা সামাজিক সেবা সংস্থার সদস্য হয়, তাহলে তার কর মওকুফ করা হয়। এই নীতির ফলে প্রত্যেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে চায়, যেন তার শুল্ক কমানো হয়।

 

কল্যাণময় বাণী প্রচারে লাভ

যিনি কল্যাণ প্রচারক হবেন, তিনি নিম্নোক্ত মর্যাদার অধিকারী হবেন—

১. তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে মহান প্রতিদান পাবেন।

২. তাঁর পরিসমাপ্তি অত্যন্ত সুন্দর হবে।

৩. এসব কর্মকাণ্ডে তিনি আত্মপ্রশান্তি লাভ করবেন।

৪. তাঁর দোয়া কবুল হবে।

৫.  তিনি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারবেন। বিশেষ করে বিপদের সময়। যেমন—হাদিসে তিন ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, যারা গুহায় আটকে গিয়েছিল।

৬.  মানুষের মাঝে দাওয়াতি ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম, তৎপরতা বেশি হলে নিজের আত্মা, দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত হয়। সামাজিক বন্ধন মজবুত হয় এবং মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

মন্তব্য