kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

খাবারের অপচয় বরকত তুলে নেয়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাবারের অপচয় বরকত তুলে নেয়

রাসুল (সা.)-এর কোনো সুন্নতই অনর্থক নয়। প্রতিটি সুন্নতেই আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম সুন্নত হলো, খাবারের পর আঙুল চেটে খাওয়া। খাবারের অপচয় থেকে বিরত থাকা। কেননা খাবার হলো মহান আল্লাহর নিয়ামত। এর অপচয় কোনোভাবেই কাম্য নয়।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) খাওয়ার পর তাঁর তিনটি আঙুল চেটে নিতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কারো খাবারের লোকমা নিচে পড়ে গেলে সে যেন তার ময়লা দূর করে তা খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমাদের তিনি থালাও চেটে খাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের খাদ্যের কোন অংশে বরকত রয়েছে, তা তোমাদের জানা নেই। (তিরমিজি, হাদিস : ১৮০৩)

উল্লিখিত হাদিসের যথাযথ আমল করা গেলে একদিকে যেমন রাসুল (সা.)-এর একটি সুন্নত পালনের সওয়াব পাওয়া যাবে, তেমনি পৃথিবীও মুক্তি পাবে মহাবিপর্যয় থেকে। কারণ পৃথিবীব্যাপী খাবারের অপচয়ের ফলে দ্রব্যমূল্য বিদ্যুতের গতিতে বেড়েই চলছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপচয় হয়, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টন। অথচ অপচয় হওয়া বিপুল পরিমাণ এই খাবারের এক-চতুর্থাংশও যদি বাঁচানো যায়, তাহলে তা দিয়ে ৮৭ কোটি দুস্থ মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব, যা আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার পাঁচ গুণ বেশি।

পৃথিবীজুড়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায় কোটি কোটি মানুষ। অথচ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অপচয় হওয়া খাদ্যগুলো চলে যায় ডাস্টবিনে কিংবা নর্দমায়। শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই খাবারের অপচয় হয় না, বিপণন পর্যায়েও পণ্যের মান বিবেচনা করতে গিয়ে নষ্ট করা হয় প্রচুর খাদ্য।

এফএওর মহাপরিচালক হোসে গ্রাসিয়ানো ডি সিলভা জানান, বিশ্বে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, তা সুইজারল্যান্ডের সারা বছরের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির সমান। তাইতো পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৭)

অপচয়কারীদের স্বয়ং আল্লাহও পছন্দ করেন না। ফলে অপচয় ও অপব্যয়ের কারণে মানুষের জীবন থেকে বরকতও হ্রাস পায়। এর ফলে মানুষের ধন-সম্পদ ক্রমে হ্রাস পায়। ‘তোমরা আহার করো ও পান করো; কিন্তু অপব্যয় করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

তাই আসুন, আমরা রাসুলের এই সুন্নতের ওপর গুরুত্বসহকারে আমল করে জীবনকে ধন্য করি। খাবারের অপচয় না করে আত্মীয়-স্বজন ও অনাহারী মানুষের পাশে দাঁড়াই। এটা মহান আল্লাহর হুকুম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও। আর কোনোভাবেই অপব্যয় কোরো না। (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৬)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা