kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

একবিংশ পর্ব

কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

মুফতি কাসেম শরীফ   

২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুরা মুজাদালাহ

এই সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুরার প্রথম আয়াতে একজন নারীর অভিযোগ প্রসঙ্গ আসায় সুরার নাম ‘মুজাদালাহ’ বা ‘বাদানুবাদ’ রাখা হয়েছে। অভিযোগকারী নারী হজরত আউস ইবনে সামেত (রা.)-এর স্ত্রী খাওলা।

সুরার শুরুতে আল্লাহর গুণাবলি ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর মহত্ত্ব ও অনুকম্পা বর্ণনার মাধ্যমে এই সুরা শুরু ও শেষ করা হয়েছে। সাত নম্বর আয়াতটি আগের সুরার চার নম্বর আয়াতের বিস্তারিত আলোচনা।

মদিনায় অবতীর্ণ অন্যান্য সুরার মতো এই সুরায় শরিয়তের আহকাম বর্ণনা করা হয়েছে। জিহার, কাফফারা, মোনাজাতের হুকুম, মজলিসের শিষ্টাচার, কোনো কাজ শুরু করার আগে রাসুল (সা.)-এর সদকা দেওয়া, মুনাফিকদের হুকুম-প্রতিদান ও  তাদের মিথ্যাচার এবং তারা শয়তানের দোসর, আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।

মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করার জন্য এবং আল্লাহর হুকুম অমান্য করার দুঃসাহস তৈরি না করার জন্য প্রতিটি আয়াতে ‘আল্লাহ’ শব্দটি আলোচিত হয়েছে।

 

সুরা হাশর

মদিনায় অবতীর্ণ অন্যান্য সুরার মতো এই সুরায়ও শরিয়তের আহকাম বর্ণিত হয়েছে; যেমন—মদিনা থেকে ইহুদিদের বনি নজিরকে দেশান্তর করা, ফাই ও গনিমতের আহকাম, তাকওয়া ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ইহুদিদের সঙ্গে মুনাফিকদের সখ্য, কোরআনের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কিছু নাম বিবৃত হয়েছে।

 

সুরা আস-সফ

এই সুরার মূল আলোচ্য বিষয় যুদ্ধ। আল্লাহর দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ, আল্লাহর পথে প্রাণ বিসর্জন, মুজাহিদদের সওয়াব বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এবং মদিনায় অবতীর্ণ অন্যান্য সুরার মতো এই সুরায়ও শরিয়তের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।

 

সুরা জুমআ

এই সুরায় বিশেষভাবে জুমার দিন জোহরের নামাজের বদলে জুমার নামাজের আহকাম বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর পবিত্রতা ও নিরঙ্কুশ মাহাত্ম্য বর্ণনা করে এই সুরা শুরু হয়েছে। এরপর রাসুল (সা.)-এর বিভিন্ন গুণাগুণ আলোচনা করা হয়েছে। তাঁর সৌষ্ঠব, কোরআন তিলাওয়াত, তাদের অন্তর পরিশুদ্ধকরণ ও কোরআন-হাদিসের শিক্ষাজ্ঞান সর্বপ্রজন্মের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুকম্পা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ইহুদিদের তাওরাতের বিধি-বিধান ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে। এবং তাদের গাধার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যে গাধা অনেক কিতাবপত্র বহন করে; কিন্তু সেগুলো তাকে কোনো উপকার করে না। জুমার নামাজ আদায়ে উৎসাহ ও তাগিদ দিয়ে সুরাটি শেষ করা হয়েছে। আজানের পর জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আবশ্যকতা উল্লেখ করা হয়েছে। এবং নামাজের পর রিজিক অনুসন্ধান করা এবং সে জন্য চেষ্টা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য