kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

হাদিসের নির্দেশনা

হাঁচি আল্লাহর নিয়ামত

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাঁচি আল্লাহর নিয়ামত

মানবদেহের অনেক বিস্ময়ের মধ্যে একটি হলো হাঁচি। প্রতিটি মুমিনের জন্য হাঁচি এলে আলহামদুলিল্লাহ পড়া সুন্নত। শুধু তা-ই নয়, কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়লে তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ পড়াও সুন্নত। কোনো কোনো হাদিসে এটিকে মুসলমানের হক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দুজন লোক হাঁচি দিল। তিনি তাদের একজনের হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বললেন; কিন্তু অন্যজনের জবাব দিলেন না। তিনি যার হাঁচির জবাব দেননি সে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন, কিন্তু আমার হাঁচির জবাব দেননি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সে তো (আলহামদুলিল্লাহ বলে) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে; কিন্তু তুমি তো আলহামদুলিল্লাহ বলোনি। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৪২)

প্রিয় নবীর কোনো সুন্নতই অহেতুক নয়, হাঁচিও তার একটি উদাহরণ।  হাঁচি আল্লাহর নিয়ামত। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত ইচ্ছানিরপেক্ষ নিরাপত্তামূলক একটি বিশেষ শারীরিক ক্রিয়া, যা দেহের অনেক অঙ্গের একটির পর একটি সাধারণ নড়াচড়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়।

এটি মানুষের দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এর মাধ্যমে মানুষের দেহ থেকে বিভিন্ন জীবাণু বের হয়ে যায়। সব ধরনের একটি বা দুটি হাঁচিই আমাদের দেহের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি ক্রিয়া মাত্র। কিন্তু এর বেশি হলে এটি অসুস্থতাও হতে পারে।

হজরত সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) সূত্রে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে বসে হাঁচি দিলে তিনি ইয়ারহামুকাল্লাহ বললেন। লোকটি আবার হাঁচি দিলে রাসুল (সা.) বললেন, লোকটির ঠাণ্ডা লেগেছে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৩৭) তাই ঘন ঘন হাঁচি এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত হাঁচি বাতাসে উড়ে বেড়ানো বিভিন্ন জীবাণু, ধুলা, পরাগরেণু ইত্যাদি যাতে মানুষের দেহে ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য মানুষের নাক ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। হাঁচি দিলে নাকে জমে থাকা সেই ময়লা উপাদানগুলো পরিষ্কার হয়ে যায়। নাকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস হাঁচির মাধ্যমে পরিষ্কার হয়, যা আমাদের ভালোভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। ফলে আমরা শ্বাস নিতে আরাম বোধ করি। আমাদের দেহে মশা, মাছি বা অন্যান্য পোকামাকড়ের প্রবেশও প্রতিরোধ করে হাঁচি। হাঁচি আমাদের ব্রেনকে বেশ সক্রিয় করে তোলে। ফলে অলসতা দূর হয়ে প্রফুল্ল অনুভব হয়।

 

 

মন্তব্য