kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

ত্রয়োদশ পর্ব

মুফতি কাসেম শরীফ   

১১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

সুরা সাবা

আগের সুরায় কাফিরদের জন্য আজাব ও মুমিনদের জন্য ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এই দুটি বিষয় বাস্তবায়নের জন্য একচ্ছত্র আধিপত্য প্রয়োজন। আলোচ্য সুরা সাবায় মহান আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্য বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহর হামদ পাঠের মাধ্যমে এই সুরা শুরু করা হয়েছে। এরপর এ কথার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে কিয়ামত অবশ্যই কায়েম হবে। তারপর দাউদ ও সুলায়মান (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। পাখি ও পাহাড় দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে মহান আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করত। আর বাতাস সুলায়মান (আ.)-এর অধীন ছিল। এরপর ইয়েমেনের সাবা নগরীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ অপরূপ সৌন্দর্যের আধার করেছিলেন সেই নগরীকে। সেখানে ছিল পানি সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা। তাদের বাগান ফল-ফুলে ভরে থাকত। পরে আল্লাহর নাফরমানির কারণে ওই জনপদ ভেঙে টুকরা টুকরা করে দেওয়া হয়। এ ঘটনা মুশরিকদের জন্য সতর্কবার্তা। মুশরিকদের ইমানের দাওয়াত দিয়ে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

 

সুরা ফাতির

আগের সুরার সঙ্গে এই সুরার সংযোগ হলো, উভয় সুরা আল্লাহর হামদ ও সানার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এবং উভয় সুরার পরিমাণও কাছাকাছি। এই সুরায় সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন বস্তু উল্লেখ করে আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। ওহি নিয়ে ফেরেশতাদের আগমন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। অবিশ্বাসী ও বিশ্বাসীদের অন্ধ ও চক্ষুষ্মানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বৃষ্টি, ফল-ফসল, কয়েক স্তরে মানব সৃষ্টি, নোনা পানি থেকে সাগরের মিঠা পানি পৃথক করা, রাত-দিনের একের পর এক আগমন, চন্দ্র-সূর্যের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন হওয়া, হরেক রকম বৃক্ষ ও প্রাণী ইত্যাদি বর্ণনা করে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। এই সুরায় মহানবী (সা.)-কে বাশির ও নাজির তথা সুসংবাদ দানকারী ও সতর্ককারী ঘোষণা করা হয়েছে। এ সুরায় মানুষকে তিনভাবে ভাগ করা হয়েছে। মূর্তিপূজার অসারতা বর্ণনা করে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

 

সুরা ইয়াসিন

আগের সুরায় মহানবী (সা.)-কে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী বলা হয়েছিল। আলোচ্য সুরা ইয়াসিনে তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা আনা হয়েছে। সুরার শুরুতে কোরআনের কসম করে বলা হয়েছে যে মহানবী (সা.) অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। তিনি সঠিক পথে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁকে পাঠানো হয়েছে এমন একটি সম্প্রদায়কে ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার জন্য, যাদের পূর্বসূরিদের সতর্ক করা হয়নি। এরপর মক্কার কাফিরদের ঈমান না আনার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে তাদের অন্তর তালাবদ্ধ। পরে একটি গ্রামের উদাহরণ আনা হয়েছে, যাদের কাছে রাসুল আসার পর তারা রাসুলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। পরিণতিতে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরে কিয়ামত সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা আনা হয়েছে। কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের পৃথক করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জান্নাতবাসীদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে যে মহানবী (সা.) কবি নন। বরং তিনি স্পষ্ট কোরআনের মাধ্যমে সতর্ককারী। এরপর শিরকের জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। প্রাণিজগৎকে মানুষের অনুকূল করে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাছ থেকে আগুন সৃষ্টির তত্ত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ কোনো বিষয়ে ‘হও’ বললে তা হয়ে যায়—এ কথা বলে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

 

সুরা সাফফাত

এই সুরার সঙ্গে আগের সুরার বিষয়বস্তুর দিক থেকে মিল আছে। উভয় সুরার মধ্যে আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

সুরা সাফফাতের মধ্যে প্রধানত তিনটি গায়েবি বিষয় যথা—ফেরেশতা, জিন ও পরকাল সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। শুরুতেই ফেরেশতাদের শক্তিমত্তা এবং আল্লাহর হুকুম পালনে একনিষ্ঠতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর জিনদের বিষয় আনা হয়েছে। জিনদের একটি দল ফেরেশতাদের পারস্পরিক কথাবার্তা জানার জন্য আকাশে ওঠার চেষ্টা করে। আর তখনই জ্বলন্ত উল্কা তাদের ধাওয়া করে। এই সুরায় কাফিরদের কিয়ামতের দিনের করুণ পরিণতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। সেদিন বিশ্বাসীরা তাদের ধিক্কার জানিয়ে নানা কথা বলবে। সেগুলোর কিছু অংশও এই সুরায় আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপদেশের জন্য নুহ, ইবরাহিম, ইসমাঈল, হারুন, ইলিয়াস, লুত ও ইউনুস (আ.)-এর ঘটনার কিয়দংশ আনা হয়েছে। ফেরেশতাদের প্রশংসা করে সুরাটি শেষ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে থাকেন এবং সব সময় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করেন।

 

সুরা সদ

আগের সুরায় কয়েকজন নবীর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য সুরায় অবশিষ্ট কয়েকজন নবীর প্রসঙ্গ বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরায় দাউদ, সুলায়মান, আইয়ুব ও আদম (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যান্য মাক্কি সুরার মতো এই সুরায়ও তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। মুশরিকদের ভ্রান্ত আকিদা খণ্ডন করা হয়েছে। জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও জাহান্নামের আজাবের ভয়াবহতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। নুহ (আ.)-এর জাতি, ফেরাউনের জাতি, আদ জাতি, সামুদ জাতি, লুত (আ.)-এর জাতি ও মাদিয়ানবাসীর ধ্বংসের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আনা হয়েছে ইয়াকুব, ইসমাঈল, ইয়াসআ ও জুলকিফল (আ.)-এর ঘটনা। একেবারে শেষের দিকে আদম (আ.)-এর ঘটনা আনা হয়েছে। নবীরা দ্বিন প্রচারে তাঁদের উম্মত থেকে কোনো প্রতিদান গ্রহণ করেননি—এই কথার মাধ্যমে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা