kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

কী আছে রাবেতার ঐতিহাসিক মক্কা সনদে

মুহাম্মাদ হোদায়াতুল্লাহ   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



কী আছে রাবেতার ঐতিহাসিক মক্কা সনদে

গত ২৭ থেকে ৩০ মে মক্কায় অনুষ্ঠিত হয় রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর চার দিনব্যাপী ‘কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মধ্যপন্থা ও পরিমিতিবোধ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স। সৌদি আরবের মহামান্য বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে অংশ নেন বিশ্বের ১৩৯ দেশের এক হাজার ২০০ ইসলামী চিন্তাবিদ, বিজ্ঞ আলেম, মুফতি ও গবেষক। (বিস্তারিত জানতে দেখুন, কালের কণ্ঠ, ৩০ মে ২০১৯ https://www.kalerkantho.com/print-edition/islamic-life/2019/05/30/774855)

কনফারেন্সের শেষ দিন ঘোষণা করা হয় ‘দ্য চাটার্র অব মক্কা’ বা মক্কা সনদ, যা অতিথিদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে সৌদি আরবের মহামান্য বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের কাছে অর্পণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই সনদ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা। সন্ত্রাসবাদ, উগ্রতা ও প্রতিহিংসা প্রতিরোধে এই সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই মূল ভাব অক্ষুণ্ন রেখে  সনদটি নিচে তুলে ধরা হলো—

 

মক্কা সনদের ধারাগুলো

১. মানবজাতির মধ্যে আছে নানা ধরনের শ্রেণিবিন্যাস। তবে সবার মূল এক ও অভিন্ন। মানুষ হিসেবে সবার সমান মর্যাদা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার থেকে তাঁর সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদের থেকে অগণিত পুরুষ ও নারীকে ছড়িয়ে দিয়েছেন; আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়দের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন।’ (সুরা : নিসা,   আয়াত : ১)

অতএব, সব মানুষই আল্লাহ প্রদত্ত এই সম্মানের উপযুক্ত।

২. বর্ণবাদী কথাবার্তা ও স্লোগান পরিত্যাগ করা। সবার মধ্যে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করার মনোভাব পরিহার করা। আল্লাহর কাছে তাকওয়াবানরাই সবচেয়ে সম্মানিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩) রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়।’ (আল মুজাম আত তাবরানি)

৩. মানবজাতির চিন্তা, বিশ্বাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আচার-আচরণের ভিন্নতা আল্লাহর অপূর্ব নিদর্শনের একটি। পৃথিবীর এই অমোঘ নীতি মেনে নিয়ে এবং প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বসবাস করলে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বদলে পৃথিবীতে শান্তি ও সম্প্রীতিবোধ তৈরি হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আপনার রব চাইলে মানুষকে এক জাতির অন্তর্ভুক্ত করতে পারতেন, তখন তারা আর বিরোধ করত না। তবে আপনার রব যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন, তারা ছাড়া সবাই মতভেদ করতে থাকবে; আর এ জন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৮-১১৯)

৪. মানবসমাজে সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বহুমাত্রিকতা দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি করে না; বরং এতে তৈরি হয় সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মনোরম পরিবেশ, যা সমাজে সার্বিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার সেতুবন্ধ তৈরি করে। মানবসভ্যতার সৌভাগ্য, উন্নতি, পরিমিতিবোধ, ন্যায় পন্থা, বৈধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং সর্বজনীন কল্যাণের প্রয়াসী হয়ে উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করে।

৫. আসমানি ধর্মগুলোর মূল ভিত্তি একটি, তা হলো আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর কোনো অংশীদার না থাকার প্রতি বিশ্বাস করা। তবে এর নীতিমালা ও জীবনব্যবস্থায় রয়েছে বহুমাত্রিকতা ও বৈচিত্র্যময়তা। তাই ধর্মের সঙ্গে ভুল রাজনীতির অনুশীলন করার অধিকার কোনো ধর্মাবলম্বীর নেই।

৬. সাংস্কৃতিক যোগাযোগ পারস্পরিক বোঝাপড়ার সর্বোত্তম মাধ্যম। এর মাধ্যমে জীবনের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করা যায় এবং যেকোনো সংকটময় মুহূর্ত কাটাতে সহায়তা করে।

৭. যেকোনো ধর্ম বা দর্শনের কাল্পনিক উক্তির দায়ভার প্রবক্তাদের ওপর বর্তাবে। ধর্ম কোনোভাবেই এর দায়ভার নেবে না। যেকোনো ধর্মের মূলকথা হলো, এক স্রষ্টার উপাসনা করা, সৃষ্টিকুলের সেবায় নিয়োজিত হওয়া, অপরকে সম্মান করা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা। তাই রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি প্রেরিত হয়েছি সুন্দর চরিত্রের পরিপূর্ণতার জন্য।’ (মুসনাদে আহমাদ)

৮. সমাজ ও মানবতার বিপর্যয় ঠেকাতে পারস্পরিক সহায়তা নিশ্চিত করা। মতপার্থক্য, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রাচীর ডিঙিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ ও সাফল্য নিশ্চিত করা। এতে সম্ভব হবে সংস্কৃতির ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিমার্জন করা। তা না হলে সমাজে উত্থান ঘটবে সন্ত্রাসবাদের।

৯. ঘৃণা, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ দানকারীদের বিরুদ্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করার মাধ্যমে ধর্মীয় সংঘাত ঠেকানো সম্ভব।

১০. সমৃদ্ধ সভ্যতার অধিকারী মুসলিম সমাজ আবারও বিশ্বের নতুন সভ্যতা বিনির্মাণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সৃষ্ট সামাজিক ও চারিত্রিক সংকট দূরীকরণে মুসলিমরাই বেশি অবদান রাখতে পারে।

১১. অন্যায়, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ, নির্যাতন-নিপীড়ন, মানবাধিকার লুণ্ঠন ও জাতি-গোষ্ঠীর যোগ্যতার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা সবার দায়িত্ব। ন্যায়ের মূল্যবোধ তৈরিতে জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। বিশ্বব্যাপী ন্যায়ভিত্তিক সর্বজনীন মূল্যবোধ তৈরি করা সবার কর্তব্য। এতে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা উচিত নয়।

১২. আমরা যে পরিবেশে বসবাস করি তা মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ দান। আর মানুষের জন্য তিনি সব কিছু বশীভূত করেছেন। তাই পরিবেশ-প্রকৃতির উপাদানের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করা এবং তা ধ্বংস-দূষণের কাজে লিপ্ত হওয়া অন্যায় কাজ; এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজম্মের জন্য হুমকিস্বরূপ।

১৩. সংঘাতের আহ্বান করা, সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বের মনোভাব ও অন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন একাকিত্বের ফলে তৈরি হয়। আর বর্ণবাদী মনোভাব, নেতিবাচক সাংস্কৃতিক মনোভাব ও নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে রাখা পদ্ধতিগত ভুল বা চিন্তাগত ভ্রষ্টতা বা সাংস্কৃতিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার দরুন সৃষ্টি হয়। এতে সামান্য ক্ষমতার অধিকারী হলে শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের বদলে আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে সবাই।

১৪. দ্বন্দ্ব-সংঘাত অন্তরে তৈরি করে ঘৃণাবোধ। তেমনি জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতার বীজ বপন করে। বিশেষত বহু ধর্মের আদলে গড়ে ওঠা দেশগুলোতে জীবনযাত্রার চাহিদা পূরণ এবং দেশীয় আবহ গ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তেমনি এটি সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

১৫. ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতি তৈরি হয় প্রকৃত ইসলাম, ইসলামের সৃজনশীল সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সুউচ্চ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার দরুন। ইসলাম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানলে চিন্তার জগতে শাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। এতে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গভীর চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে সঠিক বিষয় উপলব্ধির সুযোগ হয়। বিপথগামীদের ব্যক্তিমতের ভিত্তিতে কিংবা কাল্পনিক কথাবার্তার মাধ্যমে ইসলাম সঠিকভাবে বোঝা অসম্ভব।

১৬. উন্নত রুচিবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়করণ এবং সামাজিক আচার-ব্যবহারের অনুশীলন যেকোনো মানুষের চারিত্রিক পরিচায়ক। তেমনি ইসলামী চিন্তাচেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে পরিবেশ-পরিস্থিতি, পারিবারিক-সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে চরিত্র সুন্দর হয় এবং মনোবল বৃদ্ধি পায়।

১৭. ব্যক্তিস্বাধীনতা মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতি শত্রুভাবাপন্ন করে না। তবে এই স্বাধীনতার মানে মানবিক মূল্যবোধ বা অন্যের স্বাধীনতা খর্ব করা নয়; বরং ব্যক্তিস্বাধীনতা সমাজের সব জাতি-গোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে একটি সংবিধান ও নীতিমালার সীমারেখার মধ্যে থাকবে।

১৮. দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার অন্য কারো নেই। সাম্প্রদায়িক চিন্তার প্রসার, অর্থনৈতিক লাভ বা বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রদত্ত কোনো ফতোয়া সবার জন্য আবশ্যক করতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের নানা পন্থা অবলম্বন করা যাবে না। বিশেষ প্রেক্ষাপটের যেকোনো ফতোয়া যতই কল্যাণ বয়ে আনুক, তা শুধু সাহায্য-সহযোগিতা, উন্নতি, তত্ত্বাবধান বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, বিদ্রোহী, শত্রু প্রতিরোধে সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে শরিয়ত স্বীকৃত পন্থায় বিশেষ অবস্থার ফতোয়া গ্রহণযোগ্য হবে।

১৯. বিশৃঙ্খলা সমূলে প্রতিরোধ করতে আধুনিক যুগের বিশ্বব্যাপী উন্নতি-অগ্রগতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত। আর যেসব কার্যক্রম দক্ষতার হার কমায়, সমৃদ্ধি বিনষ্ট করে এবং উন্নতির গতি রোধ করে তা পরিহার করা সবার একান্ত দায়িত্ব।

২০. শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মুসলিম সমাজ রক্ষায় শিক্ষক, কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামগ্রীর মাধ্যমে কাজ করবে। তেমনি প্রভাব বিস্তারকারী যেকোনো মঞ্চ থেকেও সমাজ বিনির্মাণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। বিশেষত জুমার মিম্বার ও নাগরিক সংগঠনগুলো মানুষের ধর্মীয় আবেগ-আগ্রহ পরিশীলিত করবে এবং সবার অন্তরে মধ্যপন্থা ও পরিমিতিবোধ জাগ্রত রাখবে। তেমনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতে প্রলুব্ধকারী অনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করবে, যাতে উম্মাহর ব্যাপারে কারো মনে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি না হয়।

২১. মানবতাকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে নিরাপদ জীবনযাত্রা গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, মানবিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করা।

২২. ইসলামের ন্যায়নিষ্ঠ নীতিমালার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সবার জন্য নাগরিক অধিকার প্রদান করা। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠের বা সবার কথা বিবেচনা করে সংবিধান ও নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায়। তাই শাসকের ন্যায়সংগত আনুগত্য, অবৈধ ও নিষিদ্ধ কার্যাবলি বর্জন এবং সমাজে          শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সব নাগরিকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।

২৩. বিশ্বব্যাপী মধ্যপন্থা ও পরিমিতিবোধ তৈরিতে মুসলিম সমাজের তৎপর হওয়া আবশ্যক। বিশেষত যুবক-তরুণদের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণির কাছে ইসলামের সুমহান বার্তা নিয়ে পৌঁছতে হবে।

২৪. দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ-ব্যাধি, অজ্ঞতা, বর্ণবৈষম্য, পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রগ্রাম ও সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দায়িত্ব পালন করবে।

২৫. নারীদের জন্য ইসলামের সীমারেখার মধ্যে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা নারীদের অধিকার। নারীর কোনো ভূমিকাকে খাটো করা বা মানহানিকর কোনো কিছু করা বা নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক বা শিক্ষামূলক যেকোনো কাজে যোগ্যতা অনুসারে পদাধিকার লাভ করা নারীদের অধিকার। স্বাভাবিক জীবনের প্রতি খেয়াল রেখেই নারীর ওপর অর্পিত কাজ সম্পন্ন হবে। সবার মধ্যে যোগ্যতার মাপকাঠি নিরূপণ করা হবে ন্যায়সংগতভাবে।

২৬. পরিবারের দায়িত্বশীলের পাশাপাশি রাষ্ট্রের যেকোনো সক্রিয় সংগঠনের অন্যতম দায়িত্ব হলো শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা। তেমনি শিশুর চিন্তাচেতনা ও যোগ্যতার দিগন্ত প্রসারিত করতে কাজ করতে হবে, যাতে শিশুর যোগাযোগ দক্ষতা ও সৃজনশীল প্রতিভার সুষ্ঠু বিকাশ ঘটে।

২৭. ধর্ম, দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভাষা—এই পাঁচ ভিত্তির ওপর মুসলিম যুবসমাজকে সচেতন করতে হবে। এই দিকগুলো রক্ষা করতে যুবসমাজকে সাংস্কৃতিক সংঘাত থেকে রক্ষা করতে হবে। চিন্তাগত উগ্রতা, ভিন্নমত পোষণকারীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব যেন সন্ত্রাসবাদ উসকে না দেয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

২৮. যুবসমাজকে সার্বিক বিষয়ে সচেতন করতে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রতি এই সনদে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তরুণ-যুবকদের সন্দেহ-সংশয় দূরীকরণে বিভিন্ন প্রগ্রামের মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপের ব্যবস্থা করা হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক যেকোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের আবেগ-অনুভূতি সম্পর্কে জানা হবে।

২৯. মুসলিম উম্মাহ বা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে শুধু বিদগ্ধ উলামায়ে কেরাম বড় কোনো সম্মেলনে কথা বলবেন। সার্বিক কল্যাণের নিমিত্তে যেকোনো ধর্মীয় বা মানবিক কার্যক্রম ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় তথা কোনো ধরনের পার্থক্য না করে নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে সম্পন্ন হওয়া উচিত।

৩০. উপস্থিত অতিথিদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে এমন একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করায় হারামাইন শরিফাইনের সম্মানিত সেবক মহামান্য বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

লেখক : অনুবাদক, গবেষক ও গ্রন্থকার

[email protected]

মন্তব্য