kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

ঈদের চাঁদে খুশির চিহ্ন

মুফতি তাজুল ইসলাম   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদের চাঁদে খুশির চিহ্ন থাকে। তাই এটা সবার দেখা উচিত। প্রতিটি এলাকার মুসলমানদের ওপর আরবি মাসের হিসাব রাখা এবং মাসের শুরুতে চাঁদ দেখা ফরজে কেফায়া। কিছু লোক যদি দেখে নেয়, তাহলে সবাই দায়িত্বমুক্ত হবে; কেউ না দেখলে সবাই গুনাহগার হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও দেখার প্রতি উৎসাহিত করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মাসের নতুন চাঁদ দেখে এই দোয়া পড়তেন, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম ওয়াত তাওফিকু লিমা ইউহিব্বু রব্বুনা ওয়া ইয়ারদা, রব্বুনা ওয়া রব্বুকাল্লাহ।’ (দারেমি, হাদিস : ১৭২৯; তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

এ ছাড়া বিভিন্ন হাদিস শরিফে আরো কয়েকটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) চাঁদ দেখার বিষয়টিকে কত গুরুত্ব দিতেন!

চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার বিধান : মুসলিম সরকার কর্তৃক অনুমোদিত চাঁদ দেখা কমিটি যদি অভিজ্ঞ মুফতি ও আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং ওই কমিটি শরিয়তের নীতিমালা অনুযায়ী ঘোষণা দিয়ে থাকে, তাহলে তাদের ঘোষণার ওপর সবার আমল করা জরুরি, অন্যথায় তাদের ঘোষণা অনুযায়ী আমল করা জরুরি হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুফতিরা যদি শরিয়তসম্মত পন্থায় চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, তাহলে তাঁদের ঘোষণা অনুযায়ী আমল করা সবার জন্য জরুরি। (বাহরুর রায়েক : ২/২৬৬, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৮৯, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৬৬, ফাতাওয়া হক্কানিয়া : ৪/১৩৫)

আকাশ অপরিষ্কার থাকলে রমজানের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার জন্য চাঁদ প্রত্যক্ষকারী সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বালেগ, শরিয়তের অনুশাসন মান্যকারী নির্ভরযোগ্য মুসলমান হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর একই বিধান। ঈদের চাঁদ দেখার জন্যও অনুরূপ গুণসম্পন্ন দুজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুজন নারী হতে হবে। (আল বিনায়া : ৪/২৫, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৯১, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১৯৭) আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখার শরয়ি বিধান হলো, এতসংখ্যক লোক চাঁদের সাক্ষ্য দেওয়া জরুরি, যার দ্বারা চাঁদ দেখা কমিটি বা শরয়ি কাজি কিংবা দেশের বিশিষ্ট অভিজ্ঞ মুফতিদের কাছে তা দৃঢ়বিশ্বাস্য হয়ে যায়। এর বিশেষ কোনো সংখ্যা নির্ধারিত নেই। (হেদায়া  : ১/১১৯, আহকামুল কোরআন লিল জাস্‌সাস : ১/২৮০)

লেখক : ইসলামী গবেষক ও গ্রন্থকার

মন্তব্য