kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

দেশে দেশে ঈদের বর্ণিল সাজ

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশে দেশে ঈদের বর্ণিল সাজ

রমজানের রোজা শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয় ঈদুল ফিতর। রোজাদারদের মনে অফুরন্ত আনন্দ-উদ্দীপনা তৈরি করে দিনটি। পৃথিবীর সব মুসলিমের মাঝে থাকে অনাবিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দেশে দেশে বৈচিত্র্যময় পরিবেশে উদ্‌যাপন করা হয় আনন্দের এই দিনটি। চীনের মুসলিমরা ঈদের নামাজ আদায় করে চলে যায় কবর জিয়ারতে। আত্মীয়-স্বজন ও পূর্বপুরুষের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত করে। কবরে ছিটানো হয় ধান ও গমের দানা। তা ছাড়া নতুন জামা পরিধান করে পথে-প্রান্তরে ছোটাছুটি করে শিশুরা।

ঈদের দিন সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয় ইন্দোনেশিয়ায়। ঈদের নামাজের পরই সবাই একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যায়। উপহারসামগ্রীরও আদান-প্রদান হয়। প্রবীণদের কাছ থেকে শিশু-কিশোরদের জন্য থাকে ঈদের সালামি। ঈদ উদ্‌যাপনে সবাই ফিরে যায় গ্রামের বাড়িতে। ফলে তৈরি হয় ব্যাপক যানজট। দ্বীপরাজ্য ইন্দোনেশিয়ার প্রায় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় নানা রকম সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। রাজধানী জাকার্তায় গ্রামাঞ্চলের দরিদ্রদের প্রদান করা হয় খাদ্যদ্রব্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিশোরীরা ঈদের রাতে হাত-পা রঙিন করে মেহেদি দিয়ে। প্রায় প্রতিটি পরিবারের কিশোরীদের এর প্রতি থাকে ব্যাপক উৎসাহ। এ ছাড়া ঈদের কয়েক দিন আগেই গৃহকর্ত্রীরা ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন সম্পন্ন করে। ঈদ উপলক্ষে তৈরি করা হয় নানা প্রকারের মিষ্ট খাদ্যসামগ্রী। শিশু-কিশোরদের মাঝে থাকে ঈদের সালামি গ্রহণের আবেগ-উচ্ছ্বাস।

ইরাকে ঈদের দিন বিশেষ বাসনে সাজানো হয় নানা রকম খাদ্যদ্রব্য। ঈদের নামাজের পর খাবার গ্রহণ করে সবাই আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতে বের হয়। পরিবারের মা-বাবা বা প্রবীণ কারো কাছে এসে মিলিত হয় সবাই। মাঠে গিয়ে বিভিন্ন খেলায় নিমগ্ন হয় শিশুরা। তা ছাড়া শিশু-কিশোরদের মনে বিরাজ করে ঈদের সালামি পাওয়ার আনন্দ-উদ্দীপনা।

সুদানে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় মাঝ রমজান থেকে। পরিবারের নারীরা নানা রকম কেক, মিষ্টদ্রব্য ও রুটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করে রমজানের শেষ দিন আর পুরুষরা বড় কোনো ঘরে সমবেত হয়। কিংবা সবাই ইফতারি নিয়ে কোনো খোলা প্রাঙ্গণে এসে একত্র হয় আর একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে। এ সময় নারী-পুরুষ, এমনকি শিশুরাও একে অপরকে জানায় ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা।

ঈদ উপলক্ষে নাইজেরিয়ার মুসলিমরা গ্রামে ফিরে যায়। নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ-খুশিতে শরিক হতে সবাই ফিরে যায় আপন নীড়ে। নাইজেরিয়ায় মুসলিম-অমুসলিমের বসবাস থাকলেও ঈদ উপলক্ষে সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়। তেমনি মুসলিম-অমুসলিম সবাই একে অপরকে অভিবাদন জানায়। তাই ঈদ ঘিরে সব ধর্মাবলম্বীর মধ্যে বিরাজ করে ব্যাপক আনন্দ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ঈদের চাঁদ নিয়ে থাকে ব্যাপক উৎসাহ। তাই রমজানের শেষ দিনে ইফতারের ব্যবস্থা থাকে ঘরের বাইরে। ঈদের চাঁদ যেন কারো অদেখা না থাকে, তাই আকাশপানে সবার দৃষ্টি থাকে নিবদ্ধ। পুরুষরা নতুন জামা পরিধান করে ঈদের নামাজ আদায় করে। অতঃপর পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করা হয়।

সরকারিভাবে ঈদ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ছুটি না থাকলেও মুসলিমদের জন্য ছুটি গ্রহণের সুযোগ থাকে। মসজিদ বা খোলা প্রাঙ্গণে সম্পন্ন হয় ঈদের নামাজ। তবে ঈদ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে শিল্প-সংস্কৃতির প্রদর্শনী হয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টানের দেশ হিসেবে সর্বপ্রথম ফিলিপাইন মুসলিমদের জন্য ঈদের দিন সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে। এতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মাঝে বিরাজ করে ধর্মীয় সম্প্রীতিবোধ। ঈদের দিন মুসলিমরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। অনেকে ভ্রমণে বের হয়। অনেক বিদেশি পর্যটকও ঈদ উপলক্ষে ফিলিপাইন ভ্রমণে আসে।

মালেশিয়ায় ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হয় ঈদ। পরিবারের সব বয়সী সদস্যের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের সঙ্গেও দেখা করা হয়। বিভিন্ন শহরে সব শ্রেণির অতিথিদের জন্য থাকে উন্মুক্ত ঘর। মুসলিম ও অমুসলিম সবাইকে আতিথেয়তার সঙ্গে বরণ করা হয় সেখানে।

তুরস্কে ঈদ উপলক্ষে থাকে সরকারি ছুটি। ঈদের জন্য সবার গায়ে থাকে নতুন জামা। ঈদের নামাজের পর পারস্পরিক সাক্ষাৎ বিনিময় হয়। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করে সবাই। বিশেষত প্রবীণদের ঘরে মিলিত হয় সবাই। এ সময় কিশোররা মুরব্বিদের ডান হাত চুম্বন করে। গ্রামের প্রতিটি ঘরের দরজায় গিয়ে টোকা দিয়ে ঈদের আগমনী বার্তা জানান দেয় শিশুরা। ঘরওয়ালারা তাদের দেয় ঈদের সালামি। সঙ্গে থাকে হালকা নাশতাও। তা ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে কবরস্থানে যায় সবাই।

ঈদের রাতে ফিলিস্তিনের নারীরা তৈরি করে নানা ধরনের মিষ্টান্ন খাবার। ঈদের নামাজ আদায় করতে সবাই বড় বড় মসজিদে যায়। এ সময় পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদটি মুসল্লিতে ভরে যায়। ইহুদিদের অত্যাচার-নিপীড়ন সত্ত্বেও মুসলিমদের মুখে ফুটে থাকে হাসি ও আনন্দ।

লেখক : গ্রন্থকার ও গবেষক

[email protected]

মন্তব্য