kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

রমজানে ইসলামের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

মাহফুজ সরকার   

২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রমজানে ইসলামের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

মুসলিম ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী রমজান বছরের শ্রেষ্ঠ সময়। পবিত্রতম মাস। এই মাসে সিয়াম পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সাধনা করে মুসলিমরা। তবে এই সাধনা আধ্যাত্মিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বহুমাত্রিক। রমজানের ঐতিহাসিক কয়েকটি ঘটনা থেকে তা সহজেই প্রমাণিত হয়। নিম্নে রমজানের কয়েকটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ঘটনা তুলে ধরা হলো—

বদর যুদ্ধ : ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ বদর যুদ্ধ। দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মদিনার নিকটবর্তী বদর নামক স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করে একে বদর যুদ্ধ বলা হয়। ৯৫০ জন সশস্ত্র কুরাইশ যোদ্ধার বিরুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র মুসলিম যোদ্ধা নিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই যুদ্ধে বিজয়ী হন। বদর যুদ্ধে বিজয়লাভের মাধ্যমে আরবে মদিনা রাষ্ট্র রাজনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

মক্কা বিজয় : ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ও হয় রমজান মাসে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে অষ্টম হিজরির ২০ রমজান মুসলিম বাহিনী ঐতিহাসিক মক্কা নগরী বিজয় করে। একপ্রকার বিনা সংঘাতে, বিনা রক্তপাতে তিনি যুদ্ধ জয় করেন। মক্কা বিজয়ের ফলে ইসলামের প্রভাব-প্রতিপত্তি অভাবনীয় স্তরে উপনীত হয়।

তুরের যুদ্ধ : উমাইয়া সেনাপতি আবদুর রহমান গাফিকির নেতৃত্বে ২ রমজান ১১৪ হিজরিতে দক্ষিণ ফ্রান্সের তুর নামক স্থানে ফ্রাংক ও বুরগুন্দীয় সেনাদের সঙ্গে এই যুদ্ধ হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয় এবং শেষ পর্যন্ত মুসলিমরা পরাজিত হয়। ঐতিহাসিকরা বলেন, এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হলে ইউরোপের মানচিত্র পাল্টে যেত।

কর্ডোভা খিলাফতের প্রতিষ্ঠা : স্পেনের ঐতিহাসিক নগরী কর্ডোভাকে কেন্দ্র করে আবদুর রহমান বিন হিশাম কর্ডোভা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫ রমজান ১৩৮ হিজরিতে তিনি স্বাধীন কর্ডোভার আমির হন। ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়ারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় বছর পর বিদ্রোহীদের পরাজিত করে নতুন খেলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনামলে কর্ডোভার বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক অনেক উন্নয়ন হয়।

আইন জালুতের যুদ্ধ : ২৫ রমজান ৬৫৮ হিজরিতে বর্তমান ইসরায়েলের দক্ষিণে অবস্থিত জলিল নামক স্থানে [ঈসা (আ.)-এর জন্মস্থান] মামলুক ও মোঙ্গলীয়দের মধ্যে এ ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হয় এবং মুসলিম বিশ্বে মোঙ্গলীয়দের ধ্বংসযাত্রা থেমে যায়।

আন্টিকিয়ার যুদ্ধ : হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর আমল থেকেই লেভান্ট থেকে আন্টিকিয়ার শহরগুলো মুসলমানদের শাসনাধীন ছিল। ৪৯৫-৪৯৬ হিজরিতে ক্রুসেডারদের হাতে মুসলিম শাসনের পতন হয়। এর ১৭০ বছর পর ৪ রমজান ৬৬৬ হিজরিতে সুলতান জহির বায়বার্সের নেতৃত্বে তা উদ্ধার করা হয়।

হাত্তিনের যুদ্ধ : ২৫ রমজান ৫৮২ মতান্তরে ৫৮৩ হিজরি জেরুজালেমে ক্রুসেডার খ্রিস্টান রাজন্যবর্গ ও সুলতান সালাহ উদ্দিন আইয়ুবির মধ্যে যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হয় এবং জেরুজালেম উদ্ধার করা হয়।

রমজান যুদ্ধ : ১০ রমজান (৬ অক্টোবর ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে) সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুতে আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে ইরাক, জর্দান, আলজেরিয়া, কিউবা, মরক্কো, তিউনিশিয়া, সৌদি আরব ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও সরাসরি অংশ নেয় মিসর ও সিরিয়া। আরব জোট সুয়েজ খাল অতিক্রম করে ইসরায়েলের অধিকৃত অঞ্চলে অতর্কিত হামলা করে এবং প্রাথমিকভাবে তারা এগিয়েও থাকে। কিন্তু    যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিজয় হয়।

লেখক : শিক্ষার্থী, আল মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইরান

 

 

মন্তব্য