kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

চতুর্থ পর্ব

মুফতি কাসেম শরীফ   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

সুরা রাদ

এর আগের সুরার নাম সুরা ইউসুফ। উভয় সুরার মধ্যে ঈমানদারদের মহান আল্লাহ কিভাবে উদ্ধার করেন, সেই বর্ণনা রয়েছে। পাশাপাশি আল্লাহর কুদরতের অসীম নির্দশন বর্ণনা করা হয়েছে। এভাবে উভয় সুরার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে। সুরা রাদে সৃষ্টিজগত্ সম্পর্কে বর্ণনা করে আল্লাহর একত্ববাদ প্রমাণ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, মানুষের হেফাজতের জন্য ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে। এ সুরায় বলা হয়েছে, নবীদের প্রধান কাজ হলো মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা। আর নবীরা মানুষ ছিলেন, তাঁরা ফেরেশতা নন। তাঁদের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ সুরায় বলা হয়েছে যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, ডিম্বাকৃতির। এই সুরার শেষের দিকে বলা হয়েছে যে মহান আল্লাহ এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। একইভাবে আহলে কিতাবের ঈমানদাররাও তাওরাত-ইঞ্জিলের ভবিষদ্বাণীর ভিত্তিতে এ কথার সাক্ষ্য দেয়।

 

সুুরা ইবরাহিম

এর আগে সুরা রাদে যেসব বিষয় সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল, সুরা ইবরাহিমে মূলত সেসব বিষয় বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। উভয় সুরায় কোরআন সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে যে কোরআন আরবি ভাষায় বর্ণিত আল্লাহর কালাম। কোরআন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। এভাবে উভয় সুরার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে। এর পাশাপাশি সুরা ইবরাহিমে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ওপর ঈমান, নবীদের আগমন, পরকালে প্রতিদান ইত্যাদি বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে। কাফিরদের ভয়াবহ আজাব সম্পর্কে হুঁশিয়ার করা হয়েছে এবং ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এই সুরায় দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে যে সব নবীকে নিজ নিজ জাতির ভাষাভাষী করে পাঠানো হয়েছে। এই সুরায় নুহ (আ.)-এর জাতি, আদ জাতি, মুসা (আ.)-এর জাতি, সামুদ জাতি এবং তাদের পরবর্তীদের কথা উল্লেখ করে মহানবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। এই সুরায় বিশেষভাবে ইবরাহিম (আ.)-এর দাওয়াত, কাবা শরিফ নির্মাণ, কাবাগৃহের নিরাপত্তা, মক্কার অধিবাসীদের জন্য রিজিকের দোয়া, মূর্তিপূজা থেকে সন্তানদের দূরে রাখা, সন্তানের জন্য নামাজ আদায়ের তাওফিক কামনা, মাতা-পিতা ও ঈমানদারদের জন্য দোয়া ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে। এখানে কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা বিবৃত হয়েছে। এবং ঈমানের কলেমাকে পবিত্র বৃক্ষ আর কুফরি কথাকে নিকৃষ্ট বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পরকালে আজাবের বিভিন্ন ধরন বর্ণনা করা হয়েছে। পরিশেষে দুনিয়ায় আজাব বিলম্ব করার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। (চলবে)

 

 

 

মন্তব্য