kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

দেশে দেশে রমজান

ইরানে পথে পথে ইফতার

মাহফুজ সরকার, ইরান থেকে   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইরানে পথে পথে ইফতার

ইরানে রাস্তার পাশে এভাবেই ইফতার করতে দেখা যায়

প্রতিটি মুসলিম দেশের মতো ইরানও পবিত্র রমজানের আগমনে সতেজ হয়ে ওঠে। রমজানে ইরানি মুসলমানের ভেতর দেখা যায় অন্য রকম এক ধর্মীয় উদ্যম ও অনুপ্রেরণা। ইরানের  পথেঘাট, বাজার, অফিস-আদালত, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পবিত্র এই আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

রমজানের আগমনে ইরানের শহরগুলো নতুন রূপে সাজে। ফানুস ও ঝাড়বাতির সমারোহ দেখলে মনে হয়, যেন বিয়ে বা উৎসব লেগেছে শহরজুড়ে। শিশুরা আকাশে ফানুস ওড়ায় রমজানের প্রথম দিন। গৃহকর্তা আলোকসজ্জা দিয়ে রমজানকে স্বাগত জানায় তার ঘরে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে ইরানের জুরজান প্রদেশকে বলা যায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ। যেদিকে তাকাবেন শুধু সবুজ আর সবুজ। জুরজান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রমজানকে আপনারা (ইরানিরা) কিভাবে গ্রহণ করেন? তিনি বলেন, ‘রমজান মাসটি স্বয়ং আল্লাহর। তিনি নিজ হাতে এর পুরস্কার দেবেন। তাই আমরা রমজানকে আমাদের জীবনের পাপমুক্তি ও জান্নাতলাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করি।’

রমজানে ইরানিদের যে গুণটির কথা না বললেই নয় তা হলো পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা। রমজানে তারা পরস্পরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। সবাই তার প্রতিবেশীর প্রতি খেয়াল রাখে, যেন সবাই সুন্দর ও সুস্থভাবে রোজা রাখতে পারে।

রোজাদারদের ইফতার করানো ইরানের একটি মুসলিম রীতি। রমজানে ইরানের মানুষ রাস্তায় বের হয়ে ইফতারের জন্য ডাকতে থাকে। রোজাদারকে ইস্তেকবাল (স্বাগত) জানাতে প্রস্তুত থাকে প্রতিটি পরিবার। ইস্তেকবালে অংশ নেওয়া শিশুরা এমনভাবে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে, যেন আজ তাদের ঈদ। ইফতারের সময় রাস্তার পাশে দস্তরখানা বিছিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে দেখা যায়, যেন রোজাদাররা সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারে। এ সময় অনেক পরিবারকে নারী ও শিশুদের নিয়ে রাস্তার পাশে বসে ইফতার করতে দেখা যায়। ইফতারের দস্তরখানায় পরিবারের সদস্য ও রোজাদার পথিক একসঙ্গে বসে ইফতার করে।

মন্তব্য