kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

তারাবিতে কোরআন খতম যেন বোঝা না হয়

আতাউর রহমান খসরু   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তারাবিতে কোরআন খতম যেন বোঝা না হয়

রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল রাতের তারাবি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকে মুসলিম জাতি গুরুত্বের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করে আসছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)ও প্রথমে তারাবির জামাতে অংশ নেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জামাতে অংশ নেননি। তবে তিনি ঘরে তারাবির সময় নামাজ আদায় করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবির জামাতে অংশ না নিলেও উম্মতকে তারাবির প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের পাপ মার্জনা করা হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২২০৫)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে এবং তারাবি আদায় করবে, সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী ও শহীদদের কাতারভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (সহি ইবনে হিব্বান)

রমজানে ফরজ নয় এমন নামাজের মধ্যে তারাবিই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।  ফকিহরা তারাবির নামাজকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলেছেন।  ইমাম নববী (রহ.) তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হওয়ার ওপর উম্মতের ঐকমত্যের দাবি করেছেন। ফকিহরা আরো বলেছেন, রমজানে তারাবির নামাজ একাকী আদায় করার চেয়ে জামাতে আদায় করা উত্তম।

রমজানে তারাবির নামাজের মর্যাদাবিষয়ক হাদিসে কোরআন খতমের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ নেই। সরাসরি কোরআন-হাদিস দ্বারা খতম তারাবি প্রমাণিত নয়। তবে অন্য হাদিস ও রাসুুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল দ্বারা তারাবির নামাজে কোরআন খতমের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়। তা এভাবে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে অধিক পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং অন্যদের কোরআন তিলাওয়াত করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রমজানের প্রতি রাতে জিবরাঈল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কোরআন শোনাতেন। (সহিহ বুখারি) এসব হাদিসে অন্যকে কোরআন শোনানো এবং তা শোনার তাগিদ পাওয়া যায়।

তবে কোরআন খতমের জন্য মুসল্লিদের শারীরিক সামর্থ্য, ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিবেচ্য বিষয় উপেক্ষা করা এবং দ্রুত পাঠের জন্য কোরআন পাঠের বিধি-বিধান অমান্য করা অনুচিত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি কোরআনকে যতিচিহ্ন দ্বারা পৃথক করেছি, যেন তা যথাযথ নিয়মে ধীরস্থিরভাবে মানুষের সামনে পাঠ করা হয়। আমি যথার্থভাবেই তা অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা ইসরা,  আয়াত : ১০৬)

সুরা মুজাম্মিলের ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আপনি ধীরস্থির ও স্পষ্টভাবে কোরআন তিলাওয়াত করুন।’

অন্য আয়াতে নামাজে কোরআনের তিলাওয়াতকে বোঝায় (burden) পরিণত করতে নিষেধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোরআন যা তোমাদের জন্য সহজ হয় তিলাওয়াত কোরো।’ (সুরা মুজাম্মিল, আয়াত : ২০)

কোনো সন্দেহ নেই, খতম তারাবি মর্যাদার বিষয়। তবে কারো কোনো অপারগতা থাকলেও তা বিবেচনা করতে হবে। তাই কেউ কোনো কারণে খতম তারাবি না পড়লে তাকে গালমন্দ করা যাবে না। কেননা যে আমল সরাসরি কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়, তার জন্য কারো মন্দ ধারণা পোষণ করা ও বাজে মন্তব্য করা অনুচিত। আর যেখানে তারাবির নামাজে কোরআন খতম হয়, সেটা যেন কোরআনের হক আদায় করে হয়। তবেই কোরআন ও তারাবির বর্ণিত মর্যাদা অর্জন করা সম্ভব হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য