kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

দ্বিতীয় পর্ব

কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

মুফতি কাসেম শরীফ   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

সুরা আনআম

এই সুরার আগের সুরা হলো সুরা মায়িদা। ওই সুরায় আহলে কিতাবের সঙ্গে সামাজিক লেনদেন এবং বিভিন্ন প্রাণীর বৈধতা ও অবৈধতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য সুরা আনআমেও আহলে কিতাবের সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং প্রাণিজগৎ নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রাণিজগতের বর্ণনার পাশাপাশি আলোচ্য সুরায় মূর্তিপূজার অসারতা, মুশরিকদের দাবির খণ্ডন, পরকালের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। তবে মাক্কি সুরাগুলোর মতো এই সুরায় ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস—তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদ, রিসালাত ও পরকালের বিশ্বাস সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

 

সুরা আরাফ

এর আগের সুরায় প্রাণিজগৎ নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছিল। এ আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটেছে আলোচ্য সুরা আরাফে। অর্থাৎ এখানে প্রাণিজগৎ নিয়ে কিছু আলোচনা আছে। এদিক থেকে উভয় সুরার মধ্যে যোগসূত্র আছে। তবে এই সুরায় এ ছাড়াও বেশ কিছু বিষয় আনা হয়েছে; যেমন— কোরআন আল্লাহর কালাম, কোরআনের অলৌকিকতা, আদি পিতা আদম (আ.) ও আদি মাতা হাওয়া (আ.)-এর ঘটনা, শয়তানের অবাধ্যতা, সিজদা করার নির্দেশ অমান্য করা, আদম (আ.)-এর জান্নাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের গুণাবলি, জান্নাতের নিয়ামত ও জাহান্নামের আজাব সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থান আরাফ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরায় সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র ও পৃথিবীর সৃষ্টিগত বিধান বর্ণনা করে আল্লাহর একত্ববাদ ও শক্তিমত্তার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। এই সুরায় সংক্ষেপে নুহ (আ.), হুদ (আ.), লুত (আ.). সালেহ (আ.), শুয়াইব (আ.) প্রমুখ নবী ও তাঁদের উম্মতের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

সুরা আনফাল

এই সুরার আগে সুরা আরাফ বর্ণনা করা হয়েছিল। সুরা আরাফে আগের নবীদের ব্যাপারে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য সুরা আনআমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এভাবে উভয় সুরার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে। সুরা আনফালে যুদ্ধ-জিহাদের বিভিন্ন বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। গনিমতের মাল বণ্টনের নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে। বদরের যুদ্ধে নিরস্ত্র মুসলমানদের গায়েবি সাহায্য এবং সত্য-মিথ্যার মীমাংসা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। বদর যুদ্ধে ফেরেশতাদের উপস্থিতি নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সাহায্য, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। সর্বাবস্থায় সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলা হয়েছে। এই সুরায় মহানবী (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করা নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। মক্কার কুরাইশদের নির্যাতন, অপকৌশল ও মহানবী (সা.)-কে হত্যাচেষ্টা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এ সুরায় বেশ কয়েকটি ইসলামী মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে; যেমন—মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় এই উম্মতের ওপর আজাব আসবে না। তাওয়াক্কুল করার জন্য উপকরণ গ্রহণ করতে হবে, বিশেষত যুদ্ধের ক্ষেত্রে। আর সন্তান ও সম্পদ কখনো কখনো ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি।

 

সুরা তাওবাহ

এর আগের সুরার নাম সুরা আনফাল। সুরা আনফালে যুদ্ধ-জিহাদ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য সুরায়ও প্রায় একই বিষয় ভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণনা করা হয়েছে। এভাবে উভয় সুরার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে। এই দুটি সুরার বিষয়বস্তুর মিল থাকার কারণে মাঝখানে ‘বিসমিল্লাহ’ না এনে উভয় সুরাকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও সুরা তাওবাহর মধ্যে জিহাদের বর্ণনার পাশাপাশি মুমিন ও মুনাফিকের গুণাবলি, কর্মকাণ্ড ইত্যাদি বর্ণনা করা হয়েছে। এ সুরায় তাবুক যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। মুনাফিকের জানাজা পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। মক্কার মুশরিকদের অব্যাহত প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের পর তাদের সঙ্গে কৃত ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিছু মুসলমান তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। আলোচ্য সুরায় তাদের পার্থিব শাস্তি ও তাওবার বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। সর্বশেষ কোরআনের আয়াতের প্রভাব, ঈমানের ক্রমবৃদ্ধি, মহানবী (সা.)-এর আগমন ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

(চলবে ইনশাআল্লাহ)

মন্তব্য