kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

শত বছরের পুরনো ধলাপাড়া মসজিদ

নজরুল ইসলাম   

২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শত বছরের পুরনো ধলাপাড়া মসজিদ

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ধলাপাড়া জামে মসজিদ। দেশের অন্য উপজেলার মতো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় রয়েছে নতুন-পুরনো অনেক মসজিদ। ঠিক তেমনই শত বছরের পুরনো একটি মসজিদ ধলাপাড়া জামে মসজিদ। মসজিদটির অবস্থান ধলাপাড়া বাজারে হওয়ায় এটি ধলাপাড়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নামেও পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বংশাই নদের কোল ঘেঁষে ঘাটাইল-সাগরদীঘি সড়কের পাশে মসজিদটি অবস্থিত। দৃষ্টিনন্দন কারুকাজসমৃদ্ধ মসজিদটির বাইরের পূর্ব পাশের ফলকে লেখা থেকে জানা যায়, ১৩২৩ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৯১৭ সালে তৎকালীন ধলাপাড়ার জমিদার ছমির উদ্দিন চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটিতে রয়েছে সুদৃশ্য সাতটি গম্বুজ। মূল অংশের ওপর রয়েছে তিনটি গম্বুজ। মূল অংশের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের গম্বুজের চেয়ে মাঝের গম্বুজটি একটু বড়। বারান্দায় রয়েছে চারটি ছোট আকারের গম্বুজ। মসজিদটির পাশে একটি মিনার এবং সঙ্গে ঈদগাহ মাঠ অবস্থিত।

মোগল আমলের মসজিদের গম্বুজের সঙ্গে এই গম্বুজগুলোর যথেষ্ট মিল আছে। তাই অনেকে একে মোগল মসজিদও বলে থাকে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ৩৬ ও ২৭ হাত। প্রতিটি দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় আড়াই হাত। মসজিদটির মূল অংশে ও বারান্দায় রয়েছে পাঁচটি করে দরজা, যার ওপর রয়েছে লোহার খাঁজকাটা কারুকাজ। বাইরে থেকে আলো-বাতাস যেন অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে তার জন্যই এ ব্যবস্থা। প্রতিটি দেয়ালে প্রচুর কারুকাজ থাকলেও পশ্চিমের দেয়ালে কারুকাজ রয়েছে বেশি, যা সবার দৃষ্টি কাড়ে। জানা যায়, মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে চুন, সুরকি ও সাদা সিমেন্ট। মসজিদটির পূর্ব পাশে রয়েছে সুউচ্চ মিনার, যার কারুকাজও চোখে পড়ার মতো। মসজিদের পাশেই মুসল্লিদের অজু-গোসলের সুব্যবস্থার জন্য একটি পুকুরও খনন করা হয়েছে প্রাচীন আমলেই।

শত বছর ধরে ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে মসজিদটি; কিন্তু মুসলিম ঐতিহ্যের চোখ-জুড়ানো এই শৈল্পিক স্থাপনাটি সংস্কারের অভাবে দিন দিন মলিন হয়ে যাচ্ছে। মসজিদটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা জমিদার ছমির উদ্দিন চৌধুরীর বংশধরের একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ববিন হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মসজিদটির পূর্ব পাশের মিনারের সংস্কারকাজ করেছি; কিন্তু মসজিদের ভেতর ও বাইরের সংস্কারকাজ করাটা অনেক ব্যয়বহুল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা মেরামত না করায় ভেতরের আস্তর খুলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা