kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

কিভাবে শবেবরাত উদ্‌যাপন করব

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কিভাবে শবেবরাত উদ্‌যাপন করব

শবেবরাতের ইবাদত সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত

আল্লামা আবদুল হালিম বোখারি

মহাপরিচালক, আল জামিয়া আল ইসলামিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম

সহিহ হাদিস দ্বারা শবেবরাতের ফজিলত প্রমাণিত। হাদিস শরিফে শবেবরাত শব্দের ব্যবহার নেই। হাদিসের ভাষায় তা মধ্য শাবানের রজনী। হাদিসে মধ্য শাবানের রজনীতে বিভিন্ন নফল ইবাদতের কথা বলা হয়েছে। মুসলিমরা রাতে নামাজ আদায় করবেন এবং দিনে নফল রোজা রাখবেন। এটাই হাদিসের নির্দেশনা।

শবেবরাতে আমাদের দেশের মানুষ মসজিদে সমবেত হয়ে ইবাদত করে। কিন্তু শবেবরাতের ইবাদত ব্যক্তিগত, সম্মিলিত নয়। তারাবির নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নফল নামাজের জন্য মানুষকে ডাকাডাকি করে মসজিদে উপস্থিত করা শরিয়তে অনুমোদিত নয়। হ্যাঁ, যদি কেউ নিজ ইচ্ছায় মসজিদে আসে এবং ইবাদত করে তাকে বাধা দেওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত ইচ্ছায় একত্র হতে হতে যদি জমায়েত সৃষ্টি হয়, তাতেও সমস্যা নেই। আবার অনেকের বাড়িতে যদি ইবাদতের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকে, তাহলে মসজিদে এসে ইবাদত করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত নফল ইবাদত মসজিদে এসে করার চেয়ে বাড়িতে করাই ভালো। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত কোরো না।’ অর্থাৎ ঘরেও ইবাদত-বন্দেগি করবে।

 

কুসংস্কারমুক্ত আমল করতে হবে

আল্লামা আশরাফ আলী

কো-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড

শবেবরাত উপলক্ষে আমাদের সমাজে যা কিছু প্রচলিত আছে, তার পুরোটা শরিয়ত অনুমোদিত না হলেও শবেবরাতের ফজিলত বা বিশেষত্ব সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। শবেবরাতে নফল নামাজ এবং দিনে রোজা রাখার নির্দেশনা হাদিসে পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাসুল (সা.) কবর জিয়ারত করেছেন বলেও প্রমাণিত। সুতরাং এসব আমল আমরা করতে পারি। অবশ্য আমাদের সমাজে এমন কিছু কুসংস্কার ও বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে, যা শরিয়তে অনুমোদিত নয়; যেমন—হালুয়া-রুটি তৈরি করা এবং বিশ্বাস করা যে কিয়ামতের দিন এই রুটি মাথার ওপর ছায়া দেবে। এটা ভুল বিশ্বাস। কেউ এই বিশ্বাস থেকে হালুয়া-রুটি তৈরি করলে এবং তা বিতরণ করলে সেটা বিদআত বলে গণ্য হবে। সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হবে। কিন্তু এসব কুসংস্কার বন্ধের নামে অনেকে শবেবরাতের ফজিলত সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এটা ঠিক নয়। বরং আমরা বলব, আমরা ততটুকুই আমল করব, হাদিসের আলোকে যতটুকু প্রমাণিত।

 

এই রাত থেকেই রোজার প্রস্তুতি নিতে হবে

মোহাম্মদ শফি উল্লাহ কুতুবি

সহকারী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শবেবরাত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক, হিংসুক ও বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে মাজাহ; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫) তবে কোরআন ও হাদিসে সরাসরি শবেবরাতের কোনো আমলের কথা উল্লেখ নেই। তাই এ রাতে একাকী ইবাদত করতে হবে। পরদিন রোজা রাখতে হবে।

আইয়ামে বিজ তথা প্রতি মাসের ১৩-১৪-১৫ তারিখ রোজা রাখা সুন্নত। আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। নির্যাতিত মুসলিম বিশ্বের জন্য দোয়া করতে হবে। শিরক থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

আর হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে। বাইরে ঘোরাঘুরি, মাজারে গমন ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। সর্বোপরি এ রাত থেকেই রোজার প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

তাওবা করে  নতুন জীবন শুরু করতে হবে

প্রফেসর ড. আহসান সাইয়েদ

উপাচার্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

শবেবরাতের জন্য প্রথমেই প্রাক-প্রস্তুতি নিতে হবে। সেটি হলো শবেবরাতের সঠিক তারিখ নির্ণয় করা। এরপর কর্মব্যস্ততা থেকে নিজেকে মুক্ত করে, পার্থিব কাজকর্ম থেকে পৃথক করে পূর্ণ দেহ-মন ও মনোযোগসহ ইবাদত করতে হবে। সর্বপ্রথম তাওবা করে নতুন জীবনযাত্রা শুরু করতে হবে। এই রাতে ইবাদতের ধরন হলো, লোকসমাগমের আড়ালে একাকী ইবাদত করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও পেশাগত জীবনে শুদ্ধাচার চর্চা করতে হবে। ব্যক্তিগত আচার-আচরণে ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ করতে হবে। তাহলেই শবেবরাতের ইবাদত সার্থক ও ফলপ্রসূ হবে।

মন্তব্য