kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

সাধ্যমতো সময় দেওয়া

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্ত্রীকে সময় দেওয়া ও তার সঙ্গে প্রয়োজনমাফিক রাত্রিযাপনও অত্যন্ত জরুরির। সৎ ও সভ্য স্ত্রীরা তার স্বামী থেকে এ জিনিসটি খুবই বেশি কামনা করে থাকে যে তার স্বামী যেন তাকে পর্যাপ্ত সময় দেন এবং তার কাছে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সময় দেওয়ার পরিমাণের ব্যাপারে অনেক ফকিহের মতে তা প্রয়োজন ও সুযোগ পরিমাণ হলেই হবে, এর জন্য নির্ধারিত সময় নেই। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৯৯)

তবে অনেক আলেম তা নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়ের সঙ্গে নির্ধারিত করেন। তাঁরা ওমর (রা.)-এর যুগে জনৈক নারীর ঘটনা থেকে তা আহরণ করেছেন। জনৈক নারী ওমর (রা.)-এর কাছে এসে বলেন, আমার স্বামী অনেক নেককার, তার মতো আমলদার আর কাউকে দেখিনি, সে সারা দিন রোজা রাখে ও সারা রাত নামাজ পড়ে। ওমর (রা.) স্ত্রীর মুখে স্বামীর এ প্রশংসা শুনে খুশি হলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। নারী লজ্জা পেল ও ফিরে চলে গেল। উক্ত মজলিসে উপবিষ্ট বিখ্যাত তাবেই কাব ইবনে সাউওয়ার (রহ.) ওমর (রা.)-কে বলেন, আমিরুল মুমিনিন! ওই নারী স্বামীর প্রশংসা করেনি; বরং তার নামে স্ত্রীর অধিকার অনাদায়ের নালিশ করেছে। ওমর (রা.) ওই নারী ও তার স্বামীকে ডাকলেন এবং কাব ইবনে সাউওয়ার (রহ.)-কে উভয়ের মধ্যে শরিয়ত মোতাবেক ফয়সালা করার নির্দেশ দিলেন। তখন তিনি ফয়সালা করলেন যে স্বামী তিন দিন রোজা রাখবে ও রাতে ইবাদত করবে এবং চতুর্থ দিন রোজা রাখতে পারবে না এবং চতুর্থ রাতে স্ত্রীর সঙ্গে থাকবে। কেননা আল্লাহর পক্ষ থেকে যেহেতু পুরুষদের চার বিবাহের অনুমতি আছে, তাহলে ওই ব্যক্তি চার বিবাহ করলেও তিন দিন পর চতুর্থ দিনটি এই স্ত্রীর জন্য ধার্য করা জরুরি ছিল, এর দ্বারা বোঝা যায় যে প্রতি চার দিনের মধ্যে এক দিন স্ত্রীকে সময় দেওয়া স্ত্রীর অধিকার। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১২৫৮৮)

উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, প্রতি চার দিনের মধ্যে এক দিন স্ত্রীর অধিকার, অতএব তার অনুমতিবিহীন এ অধিকার হরণ করা যাবে না। হ্যাঁ, অনুমতিক্রমে এর বেশি সময়ও তার থেকে দূরে থাকতে পারবে।

মন্তব্য