kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেমিনারে বিএসইসির কমিশনার রুমানা ইসলাম

সুশাসনের অভাবে দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে ভালো চলছে না কম্পানি

কয়েকটি ভাগে বিনিয়োগ করবেন, তাহলে কখনো লোকসান হলে সেটা পূরণ করা যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুশাসনের অভাবে দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে ভালো চলছে না কম্পানি

রুমানা ইসলাম, বিএসইসি কমিশনার

দেশের কম্পানিগুলো প্রথম প্রজন্মের হাতে ভালো চললেও দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে গেলেই আর বেঁচে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার রুমানা ইসলাম। তিনি বলেছেন, এগুলো কোনো রকমে বেঁচে থাকলেও ভালো কিছু করতে পারে না। তার কারণ হচ্ছে কম্পানিগুলোতে সুশাসনের অভাব। এগুলো ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমানা ইসলাম বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়ের সব টাকা এক জায়গায় বিনিয়োগ না করার আহবান জানিয়ে বলেন, কয়েকটি ভাগে বিনিয়োগ করবেন, তাহলে কখনো লোকসান হলে সেটা পূরণ করা যাবে। সব টাকা যদি এক জায়গায় বিনিয়োগ করেন তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে না।

বিএসইসির এই কমিশনার জানান, পুঁজিবাজারে এখন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ খুবই কম। সবাই আজকে বিনিয়োগ করে আজকেই গেইন করতে চায়। রাতারাতি মুনাফা তুলে নিতে চায়। এ কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন বিনিয়োগকারীরা। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত ঝুঁকি কম নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা। দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেনই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আপনার সঞ্চয়ের একটি অংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করুন। তবে কখনো সব টাকা বিনিয়োগ করবেন না। ’

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ করে সাইফুর রহমান বলেন, সব বিনিয়োগকারীর উচিত আপৎকালীন ফান্ড রাখা। কারণ এই ফান্ড যদি না থাকে আর সব ফান্ড পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ফেলেন, তাহলে যেকোনো জরুরি প্রয়োজন হলে ক্ষতি করে অর্থের জোগান দিতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা চিন্তাভাবনা না করে সঞ্চয়ের সব টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ফেলি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণ নিয়ে, সম্পদ বিক্রি করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করি। যেহেতু পুঁজিবাজার ঝুঁকির জায়গা, এ জন্য আপনারা সঞ্চয়ের একটা অংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করুন। ’

তিনি বিনিয়োগের আগে কম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে কারা রয়েছেন, কম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে কি না—এগুলো দেখে বিনিয়োগ করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম। আলোচনা করেন সিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি গোলাম ফারুক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) মোহাম্মদ মাহদী হাসান।

মো. গোলাম ফারুক বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর অভাব এবং বেশির ভাগই ডে ট্রেডার, যাঁরা আইটেম বেইসড ব্যবসা করেন। সে কারণে কখনো খুব লাভ করেন, আবার কখনো লোকসান করেন। এ জন্য আমাদের বিনিয়োগকারী তৈরি করতে হবে। বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলোকে সফল করতে হবে।

আসিফ ইব্রাহিম বলেন, গত দুই বছরে, বিশ্বব্যাপী মহমারিকালে, পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দরুন বিনিয়োগকারীরা এখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আর্থিক শিক্ষা ও বিনিয়োগকারী প্রতিরক্ষা, যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে অর্থবাজারে বিনিয়োগকারীদেরই সহনশীলতা ও আস্থা ত্বরান্বিত করতে জোরালো ভূমিকা রাখে।

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশে ৩ থেকে ১৩ অক্টোবর উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ। এবার সপ্তাহটির প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘পুঁজিবাজারের পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই অর্থায়ন ও বিনিয়োগকারীদের সহনশীলতা’। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনের (আইওএসকো) সঙ্গে যৌথভাবে দিবসটি উদযাপন করছে বিএসইসি।



সাতদিনের সেরা