kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

হোটেল খালি নেই

পর্যটকে উৎসবমুখর সিলেট

ছুটিতে গত শুক্রবার থেকেই অতিথির ঢল নামতে শুরু করেছে

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর্যটকে উৎসবমুখর সিলেট

করোনা-পরবর্তী আবারও পর্যটকমুখর সিলেট। ছবিটি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আবারও পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে। এ ছাড়া রাতারগুল, জাফলংসহ সিলেটের প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্রই পর্যটকদের পদভারে মুখর এখন।

সিলেটের পর্যটনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকেই সিলেটে পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে। সেটা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী রবিবার পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলে তাদের ধারণা। এমনিতেই বছরের এই সময় থেকে সাধারণত পর্যটকদের আনাগোনা বাড়া শুরু হলেও এবার বিজয়া দশমীর ছুটি বুধবারে পড়েছে। মাঝখানে বৃহস্পতিবার এক দিন অফিস খোলা থাকলেও পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর রবিবারে থাকবে ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি। অনেকে আবার মাঝখানের বৃহস্পতিবার অফিস থেকে ছুটি নিয়ে পাঁচে পাঁচ করে ছুটি কাটাতে সিলেট আসছেন। তার ওপর নারী এশিয়া কাপের জন্য সিলেটের বেশির ভাগ পাঁচতারা হোটেলও পরিপূর্ণ। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর সিলেটের পর্যটনে ফের সুবাতাস।

ঢাকার সাভার থেকে ঘুরতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন রাফি। তিনি বলেন, ‘এবার ছুটিটা একটু লম্বা হওয়ায় সিলেট এসেছি। আগে থেকেই হোটেল বুকিং দেওয়া ছিল। আমরা আসার পর আরেক বন্ধু আসতে চেয়েছিল; কিন্তু তার জন্য হোটেলে রুম পাচ্ছি না। ’

হালের পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন স্পটে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন মনির হোসেন ও তারেক আহমদ। পর্যটকদের নিয়ে ছুটে চলাতেই তাঁদের আনন্দ, আয়-রোজগার। তাঁরা বলেন, ‘বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়ছে। বাড়িঘরও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার সময় পর্যটক না আসায় আমরা খুব কষ্টে ছিলাম। কয়েক দিন ধরে সাদাপাথরে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটক এসেছেন। তাই আমাদের আয়ও বেড়েছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকায় এ কয় দিন ভালো আয় হবে বলে আশা করছি। ’

নৌকাঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ দানু মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যার কারণে দুটি ঈদে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে পর্যটক ছিল একেবারেই কম। সারা বছর আমরা যা আয় করি দুটি ঈদে তার থেকে বেশি আয় হয়। বন্যার কারণে পর্যটক না আসায় পর্যটন ব্যবসাসংশ্লিষ্ট সবার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ’

পূজা ও ছুটি মিলিয়ে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্যটকরা কিছুদিন ধরে আসছেন। এখন বেশ চাপই। আশা করছি, পূজা, ছুটি মিলিয়ে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারব। ’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সাদাপাথরে হাজার হাজার পর্যটক আসছেন। এতে আমাদের এখানে নৌকাগুলোর চাহিদা দ্বিগুণ ও আয়ও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আমাদের এখানে শতাধিক নৌকা আছে। প্রতিটি নৌকাই এখন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি ট্রিপ দিচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে। ’

কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ বলেন, ‘সাদাপাথর পর্যটন স্পটে যাঁরা ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁদের অবস্থা প্রায় দুই বছর থেকে খারাপ। তবে কিছুদিন ধরে পর্যটকরা ভিড় করায় তাঁদের আয় সাধারণ সময়ের চেয়ে দুই-তিন গুণও হচ্ছে। একেকজন প্রতিদিন দেড় হাজার টাকাও আয় করছেন ছবি তুলে। ’



সাতদিনের সেরা