kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

১৪ দিনেও হয়নি ইভ্যালির নতুন বোর্ডের সভা

সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৪ দিনেও হয়নি ইভ্যালির নতুন বোর্ডের সভা

গ্রাহকদের ক্রয় করা পণ্য সঠিক সময়ে বুঝিয়ে না দেওয়া, আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন, তাঁর মা ও বোনের স্বামীকে যুক্ত করে নতুন পরিচালনা বোর্ড গঠন করেন হাইকোর্ট। কিন্তু আগের কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব হস্তান্তর করার পর ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার ইভ্যালির পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ধানমণ্ডি ১৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত ইভ্যালির কার্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লোকজনের তেমন সমাগম নেই। নতুন পরিচালনা বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা অফিসে আসছে না। নতুন বোর্ডের সব সদস্য বোর্ড মিটিং করার পর কার্যক্রম চালু হবে বলে জানা গেছে।

নতুন পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী কামরুন নাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, মঙ্গলবার বোর্ড সভা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু একজন অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে তা হয়নি।

গ্রাহকদের সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ না করা ও প্রতারণা অভিযোগে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আরিফ বাকের নামের একজন গ্রাহক মামলা করেন। মামলা হওয়ার পরেই র?্যাবের একটি দল মোহাম্মদ রাসেল, তাঁর স্ত্রী ও কম্পানির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে।

ওই ঘটনার পর হাইকোর্ট থেকে নতুন একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করে দেওয়া হয়, যে বোর্ডের সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি (অব.) এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সচিব (অব.) মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে ফখরুদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী হিসেবে খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ এবং রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবির মিলন। এই বোর্ড গত মাসের ২২ সেপ্টেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। ওই দিনই বোর্ডের সবাই পদত্যাগ করেন।

ওই বোর্ড তাদের প্রতিবেদনে হাইকোর্টকে জানিয়েছে, অডিট রিপোর্টে ইভ্যালির আর্থিক অবস্থান চিহ্নিত করার মতো কোনো তথ্য না পাওয়া, হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেনের হিসাব না রাখাই এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অনিয়ম। একই সঙ্গে তারা কম্পানিটির বর্তমান বেহালের জন্য এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে দায়ী করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যেই ইভ্যালির জন্ম হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ছিল এক পরিবারের কম্পানি, চলত একক ব্যক্তির নির্দেশনায়। এই প্রতিষ্ঠানে মালিক মোহাম্মদ রাসেলই এমডি, সিইও, সিএফও, প্রধান হিসাবরক্ষকসহ সব দায়িত্ব একাই পালন করতেন। ব্যবসা পরিচালনায় কম্পানিটি কোনো আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেনি। সব ক্ষেত্রেই ছিল গোঁজামিল। অনেকগুলো ভাউচার পাওয়া গেলেও দাতা-গ্রহীতার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ফলে কম্পানির বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাইয়ের আগে সব গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ বা তাঁদের চাহিদামতো পণ্য ডেলিভারিসহ ব্যবসা বন্ধ হওয়ার দিন পর্যন্ত সব মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা প্রয়োজন। সাভারে অবস্থিত ইভ্যালির চারটি গোডাউনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের মালপত্র রয়েছে, যার বেশির ভাগই হচ্ছে ইলেকট্রনিক পণ্য, যা ওভাবে পড়ে থাকলে প্রায় সব পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই পচনশীল সব দ্রব্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা নষ্ট হয়েছে। ইভ্যালি ছিল দেশের সবচেয়ে বড় গ্রাহক বেইসড প্রতিষ্ঠান। সার্ভার চালু করা এবং গ্রাহকের সব তথ্য পাওয়া গেলে এস্ক্রো ও ওয়্যারহাউসের সব বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। ওয়্যারহাউসগুলোতে আছে প্রায় ২৫ কোটি ও এস্ক্রোতে আছে প্রায় ২৬ কোটি টাকার মালপত্র। এস্ক্রোর টাকার মধ্যে গ্রাহকের ও ইভ্যালির টাকা আছে।

এদিকে গত বছর ইভ্যালি বন্ধ করে দেওয়ার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মোট চলতি দায় ছিল ৫৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চেন্ট বা পণ্য সরবরাহকারীদের পাওনা ছিল ২০৫ কোটি ৮৬ লাখ এবং গ্রাহকদের পাওনা ছিল ৩১১ কোটি টাকা। শামিমা গত এপ্রিল মাসে জামিনে বের হন, কিন্তু রাসেল এখনো কারাগারে রয়েছেন।



সাতদিনের সেরা