kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

২০২৬ সালের আগেই ‘সেপা’ চুক্তির সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০২৬ সালের আগেই ‘সেপা’ চুক্তির সম্ভাবনা

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৬ সালের আগেই সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সেপা) করতে চায় বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের পর দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তি বাস্তবায়নে আলোচনা শুরু করতে দিল্লিকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত সেপা স্বাক্ষর হলে দুই দেশের বাণিজ্য কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

এই চুক্তির লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে গেলে আমদানি-রপ্তানির প্রশ্ন আসবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসা সহজ করতে বন্দর ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আলোচনা শুরু করতে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নয়াদিল্লিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চুক্তি হলে এবং সেই চুক্তির আওতায় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়বে বলে প্রতাশা করছে সরকার।

সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে আলোচনা শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেছেন। কিন্তু ঢাকা এখনো নয়াদিল্লি থেকে কোনো চিঠি পায়নি। এ জন্য আলোচনা শুরু করতে দিল্লিকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন. সেপা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি আরো বলেন, ‘২০২৬ সালের পর বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। ওই সময় বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সিইপিএ, পিটিএ বা এফটিএ চুক্তি করতে চাই। এই ধারাবাহিকতায় ভারতের সঙ্গে দ্রুত এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাই। তবে আগামী নির্বাচনের আগেই এই চুক্তি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ’

তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ভারতকে চিঠি দেওয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছি। চলতি মাসে বেশ কয়েকটি বৈঠক করা হবে। এ ছাড়া আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে বিভিন্ন বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করবে। ’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা শুরু হলে প্রথমে একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে। এতে পণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগ এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা হবে। এতে কিভাবে হবে, কয় বছরে হবে, কী কী পণ্য থাকবে। রুলস অব অরিজিন হবে। এগুলো দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। এরপরই বাস্তবায়ন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সেপাকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) একটি উন্নত সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে এই চুক্তি সই করেছে ভারত। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালের আগে ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, জাপান, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে পিটিএ বা এফটিএ করতে চায়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ২০১৮ সালে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ প্রথমে একটি সিইপিএ সই করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিল। ওই বছরেই উভয় দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা সিইপিএ সই করার বিষয়ে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাতে সম্মত হন।

পরে ভারতের সেন্টার ফর রিজিওনাল ট্রেড অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট যৌথভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।

যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) অধীনে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা ভোগ করে তা ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে সিইপিএ সই করা যেতে পারে। সেপার লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্যসংক্রান্ত জটিলতা, ট্যারিফ, সরকারি ক্রয়, বিনিয়োগ, সংযুক্তি, বিনিয়োগের সুরক্ষাসহ আরো বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করা।



সাতদিনের সেরা