kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুটি সার্ভিস অনিয়মিত

ইউরোপে সরাসরি জাহাজ সেবায় পণ্য বুকিং কমেছে

♦ আট মাসে সাড়ে ১৩ হাজার একক পণ্যভর্তি কনটেইনার গেছে ইউরোপে
♦ বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পণ্য রপ্তানির চাপ কমেছে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউরোপে সরাসরি জাহাজ সেবায় পণ্য বুকিং কমেছে

চট্টগ্রাম-ইউরোপ রুটে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পণ্য রপ্তানির চাপ কমে আসায় এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-লিভারপুল, চট্টগ্রাম-রটারড্যাম দুটি সার্ভিসের শিডিউল দুই মাস বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি দুটি চট্টগ্রাম-ইতালি, চট্টগ্রাম-বার্সেলোনা সার্ভিসেও পণ্য বুকিং কমে আসায় শিডিউল এলোমেলো হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় নিয়মিত সার্ভিস চালু রাখা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন খোদ উদ্যোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরকে এড়িয়ে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ইউরোপে পণ্য পরিবহন শুরুর উদ্যোগে ব্যাপক আশান্বিত হয়েছিলেন বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সার্ভিস জুলাই পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই চলছিল। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সেই চাপ কমেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট মাসে সাড়ে ১৩ হাজার একক রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার গেছে ইউরোপে।

তিনটি বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপের বন্দরে এই জাহাজ সার্ভিস চালু করেছে। এর মধ্যে একটি ইতালি, একটি সুইজারল্যান্ড এবং একটি ইংল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

চট্টগ্রাম-রটারড্যাম-লিভারপুল রুটে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত কম্পানির শিপিং এজেন্ট ফনিক্স শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যাপ্টেন সৈয়দ সোহেল হাসনাত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সার্ভিসটি গত দুই মাস অনিয়মিতভাবে চলছে। অক্টোবরে আমাদের কোনো জাহাজ চলবে না। নভেম্বর থেকে আশা করছি আবারও সার্ভিস শুরু হবে। ’

সার্ভিস না থাকার কারণ হিসেবে সোহেল হাসনাত বলেন, ‘পণ্য পরিবহন কমে আসায় বিশ্বে সবগুলো শিপিং লাইনের ভাড়া ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে আমাদের সার্ভিসটিও কঠিন প্রতিযোগিতায় পড়েছে। এ কারণে আপাতত সার্ভিস নেই। ’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইতালির রাভেনা বন্দরে প্রথম সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে। এর পর থেকে ইউরোপে সরাসরি জাহাজ সার্ভিস চালুর দুয়ার উন্মোচিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ইতালি, চট্টগ্রাম-বার্সেলোনা, চট্টগ্রাম-নেদারল্যান্ডস, চট্টগ্রাম-ইংল্যান্ড রুটে পণ্য পরিবহন শুরু হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পণ্য পরিবহন করে চট্টগ্রাম-ইতালি সার্ভিস। এখন পর্যন্ত সার্ভিসটির শিডিউল ধরে রেখেছে, কিন্তু কত দিন ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান রিফ লাইন।

রিফ লাইনের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের সার্ভিস বন্ধ হয়নি। তবে রপ্তানি কার্গো বুকিং অনেক কমেছে। প্রতি দুই মাসে আমরা তিনটি ট্রিপ চালাই ইতালি রুটে। পণ্য বুকিং কমে যাওয়ায় সেটি ধরে রাখা যাবে না। তখন হয়তো ট্রিপ কমিয়ে সার্ভিস চালু রাখতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘এই সময়টা কিন্তু পণ্য পরিবহনের পিক সিজন। কিন্তু এখন উল্টো বুকিং কমেছে। ইউরোপে পণ্য রপ্তানি কমে আসা এবং বৈশ্বিক শিপিং ভাড়ায় যে ধস নেমেছে, তাতে আমরা কত দিন এভাবে সার্ভিস চালু রাখতে পারব। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আছি। ’

চট্টগ্রাম-ইতালি এবং চট্টগ্রাম-বার্সেলোনা রুটে পণ্য পরিবহন সাড়া কেমন জানতে চাইলে শিপিং এজেন্ট রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের সাড়া ভালো। সার্ভিস কমিয়েছে আরেকটি লাইন। তবে বৈশ্বিক যে মন্দা শুরু হয়েছে, জাহাজগুলো ভাড়া যেভাবে তার প্রভাব এখানেও পড়বে। আমরা এর প্রভাবের বাইরে নই। ’

তাঁর সার্ভিস নিয়মিত চলছে দাবি করে রাশেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১১ হাজার একক রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার আমরা দুই সার্ভিসে পাঠিয়েছি। ’

প্রবেশ চ্যানেলের সীমাবদ্ধতা থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না। ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোর ওপরই জাহাজ পরিচালনাকারীদের নির্ভর করতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল করে মূলত সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার তানজুম পালাপাস ও কেলাং এবং চীনের কয়েকটি বন্দরের মধ্যে। এসব বন্দর হয়ে রপ্তানি পণ্য ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে যায়। একইভাবে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার এসব দেশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়।



সাতদিনের সেরা