kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভারতের প্রস্তাবিত ট্রানজিট সুবিধা

ভারত হয়ে পণ্য রপ্তানিতে কতটা সুফল আসবে

♦ ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ৫১ শতাংশই গেছে সিঙ্গাপুর বন্দর দিয়ে
♦ ৪৮ শতাংশ গেছে কলম্বো বন্দর দিয়ে
♦ মাত্র ১ শতাংশ গেছে ভারতের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর হয়ে
♦ পণ্য রপ্তানির ৬০ থেকে ৬২ শতাংশ যায় ইউরোপের দেশগুলোতে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত হয়ে পণ্য রপ্তানিতে কতটা সুফল আসবে

ভারতের ভূখণ্ড এবং বন্দর সুবিধা ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রস্তাবিত ট্রানজিট সুবিধা ব্যবহার করে তাদের সমুদ্রবন্দর দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য পাঠানো সম্ভব; কিন্তু এর সুফল কতটুকু, তা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি ভারত সফরে ওই প্রস্তাবে বিনা মাসুলে ট্রানজিট সুবিধার কথা বলা হয়েছে। শিপিং লাইনগুলো বলছে, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা তাঁদের রপ্তানি পণ্য পাঠাতে প্রধানত দুটি বিদেশি সমুদ্রবন্দর-সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর ওপর নির্ভরশীল।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য প্রথমে ছোট জাহাজে সেই দুই বন্দরে পৌঁছে। সেই বন্দর থেকে বড় জাহাজ বা মাদার ভ্যাসেলে করে রপ্তানি পণ্য ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকায় পৌঁছে। খুব বিপদে না পড়লে ভারতের বন্দর ব্যবহার করে ওসব দেশে রপ্তানি পণ্য বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয় না।

করোনা মহামারির সময়ে কলম্বো বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ব্যাপক জাহাজজট দেখা দেয়। এই জট এড়াতে কিছু রপ্তানিকারক কলম্বো বন্দরের বদলে ভারতের একাধিক বন্দর ব্যবহার করে পণ্য ইউরোপে পাঠিয়েছিল। এর আগে-পরে ভারতের বন্দর ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানির খুব একটা নজির নেই।

বিদেশি শিপিং লাইন হ্যাপাগ-লয়েডের বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলছেন, ‘ওটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের কৃঞ্চপত্তনাম বন্দর ব্যবহার করে ইউরোপে গিয়েছিল। বাংলাদেশি এইচ আর লাইন সেই রুটে পণ্য পরিবহন করত। অনেক আগে থেকে তো সেই রুট বন্ধ। আমার জানামতে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতে সরাসরি কোনো ফিডার সার্ভিস বা কনটেইনার জাহাজ চলাচলে করে না। আছে কিছু নৌপথের কোস্টাল রুটের জাহাজ। ’

জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনারভর্তি পণ্য রপ্তানির ৫১ শতাংশই গেছে সিঙ্গাপুর বন্দর দিয়ে। আর ৪৮ শতাংশ গেছে কলম্বো বন্দর দিয়ে। মাত্র ১ শতাংশ গেছে ভারতের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর দিয়ে। কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্য তৃতীয় কোনো দেশে যায়নি। সেই পণ্য শুধু ভারতেই রপ্তানি হয়েছে। আর সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দর দিয়ে ৯৯ শতাংশ পণ্যই ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্যে গেছে।

তাহলে এখন ভারতের বন্দর ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি সম্ভব—জানতে চাইলে শিপিং লাইন জিবিক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিঙ্গাপুর-কলম্বো বন্দর দিয়েই আমাদের মূল রপ্তানি জাহাজীকরণ হয়। বিদেশি শিপিং লাইনগুলো এই দুই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর ঘিরেই পণ্য পরিবহন খরচ, সময়, বড় জাহাজ কানেকশন সব মিলিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এখন যদি দেখা যায় ভারতের মুদ্রা কিংবা চেন্নাই বন্দর থেকেই একই সুবিধা পাওয়া যায়; কিন্তু সময়, অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে তাহলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকেও সেই বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পাঠানো সম্ভব। এ জন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতে সরাসরি জাহাজ সার্ভিস থাকতে হবে। ’

শিপিং কম্পানি ক্রাউন নেভিগেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদ সারোয়ার বলছেন, ‘ভারতের বন্দর ব্যবহার করে ইউরোপ-আমেরিকায় বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি করা আমাদের পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়। এটি পুরোপুরিভাবে বিদেশি ক্রেতানির্ভর। যেমন—একজন বিদেশি ক্রেতা বছরে বাংলাদেশ যত পণ্য কিনবে তার জাহাজ ও বন্দর রুট ঠিক করা হয় বছরের শুরুতেই। আমেরিকাতে বছরজুড়েই পণ্য পরিবহনের জন্য শিপিং লাইনগুলোর সঙ্গে চুক্তি হয়। আর ইউরোপে তিন মাস পর পর এই চুক্তি হয়। ফলে বছরের মাঝপথে চট্টগ্রাম থেকে ভারতের বন্দর হয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য রপ্তানির সুযোগ নেই। ’



সাতদিনের সেরা