kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা

কড়াকড়ির পর বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতা ঘটেনি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কড়াকড়ির পর বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতা ঘটেনি

পণ্য নিয়ে আসা বাণিজ্যিক জাহাজে তিনটি দস্যুতার ঘটনার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতা বা পাইরেসির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। চলতি ২০২২ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি এই জলসীমায়। আর ২০২১ সালের পুরো বছরেও দস্যুতামুক্ত ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের বিশাল জলসীমা; কিন্তু ২০২২ সালের মার্চে একটি এবং এপ্রিলে দুটি ঘটনার পর কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। মে মাস থেকে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের পর থেকে জুন পর্যন্ত আর কোনো দস্যুতার ঘটনা ঘটতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমানায়।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্যিক জাহাজে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপের জানুয়ারি-জুন ছয় মাসের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে একটি ঘটনা ঘটেছে আর এপ্রিলে ঘটেছে দুটি ঘটনা। তিনটি ঘটনাই কুতুবদিয়া এলাকার সাগরে। আর তিনটি ঘটনাই ঘটেছে ট্যাংকার জাহাজে। এর পর থেকে জুন—এমনকি জুলাইয়েও কোনো দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি।   

তবে চট্টগ্রাম বন্দর বলছে, ‘রিক্যাপ যে ঘটনা রেকর্ড করেছে, সেটা কোনোভাবেই পাইরেসি নয়। জাহাজের ক্রুরা পণ্য বিক্রি করে দিয়ে চুরি বলে রেকর্ড করেছেন। জুলাই মাসে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে চিঠি দিয়েছি ঘটনা সংশোধন করার জন্য। ’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন, আমরা আগেও সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করিনি, ছাড় দিইনি। রিক্যাপে তিনটি দস্যুতার ঘটনা কোনোমতেই পাইরেসি নয়। এ নিয়ে আমরা রিক্যাপকে ডকুমেন্টসহ চিঠি দিয়েছি। এর পরও আমরা আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছি। কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনীকে নিয়ে সমন্বিত কঠোর উদ্যোগ চালাচ্ছি। যাতে আর কোনো পাইরেসির ঘটনা না ঘটে। ’

তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ড থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা বিদ্যমান ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে সম্প্রসারণ করে মাতারবাড়ী পর্যন্ত নিয়েছি। ফলে বন্দর ভবন থেকে বসেই ক্যামেরার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল গতিবিধি জানা যাবে। আগামী মার্চের মধ্যেই এই কাজ শেষ হলে নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় দস্যুতা বাড়লে বোঝাটা চাপে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর; আর সেই বোঝা বইতে হয় আমদানি-রপ্তানি খাতকে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) ২০০৬ সালের একটি প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বন্দরকে জলদস্যু আক্রমণের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক বন্দর’ ঘোষণা করেছিল। ওই বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল ৪৭টি। একের পর এক দস্যুতার ঘটনায় ওই সময়ে বিশ্ব নৌ বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নেতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়েছিল। এর ফলে অনিরাপদ মনে করে বিদেশি জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে অস্বীকৃতি জানাত। আর যেসব জাহাজ পণ্য নিয়ে বন্দর জলসীমায় পৌঁছত তারাও সারচার্জ বা বাড়তি মাসুল আরোপ করত। ফলে পণ্য আমদানি এবং রপ্তানিতে খরচ বেশি লাগত। ফলে আবারও দস্যুতা বাড়লে উদ্বেগ বাড়ে বন্দরের এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলছেন, ‘বহির্নোঙরে এখন যে ঘটনা ঘটে সেগুলো বিশ্বের অন্য পাইরেসির তুলনায় খুবই ছোট; কিন্তু এই ছোট্ট ঘটনাই আমাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি-গাফিলতির সামান্যতম সুযোগ নেই। সামান্য ভুল আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।



সাতদিনের সেরা