kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাংলাদেশের রপ্তানি

যুক্তরাজ্যে ৯৮% পণ্যে মিলবে শুল্কমুক্ত সুবিধা

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাজ্যে ৯৮% পণ্যে মিলবে শুল্কমুক্ত সুবিধা

যুক্তরাজ্য ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস) নামে নতুন বাণিজ্যনীতি ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬৫টি উন্নয়নশীল দেশকে শুল্ক হ্রাস এবং সহজতর রপ্তানি সুবিধা প্রদান করবে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ সুবিধায় শুল্কমুক্ত মর্যাদা না হারিয়েই বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের কাঁচামাল ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। এই স্কিমের আওতায় অস্ত্র ছাড়া অন্য সব পণ্যে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, ‘ডিসিটিএস বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক বিকাশ ও সমৃদ্ধকরণে বাণিজ্য এবং বেসরকারি খাতের শক্তিকে কাজে লাগাবে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্য বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানি বাজার। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক প্রায় চার বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হয়। এই নতুন স্কিমের অধীনে বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে আরো সহজ প্রবেশাধিকার পাবে। এমনকি বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তৈরি পোশাকসহ ৯৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করতে পারবে। আমরা আশা রাখি যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতির ফলে উভয় দেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য থেকে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারবে। ’

এই স্কিমে মানবাধিকার এবং শ্রম অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের যে অঙ্গীকার তা প্রতিফলিত হয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক কনভেনশনগুলোতে যুক্তরাজ্যের যে অঙ্গীকার রয়েছে তা ডিসিটিএস সমর্থন করবে। নুতন স্কিমটি ইউকে জেনারেলাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সকে (জিএসপি) প্রতিস্থাপন করবে এবং ২০২৩ সালের প্রথম দিকে কার্যকর হবে।

বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্য কার্যকর করে শুল্ক ছাড়ের ‘দ্য ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য থাকাকালে এমন স্কিমের সঙ্গে যুক্ত ছিল যুক্তরাজ্য।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর হাজারের ওপর পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে, যেগুলো এরই মধ্যে কম বা শূন্য শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে। সেই আওতা এবার আরো বাড়ছে। এতে আফ্রিকা থেকে আসা প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যই এ সুবিধা পাবে। যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগ জানায়, বাণিজ্যকে দরিদ্র দেশগুলোর সমৃদ্ধি বা দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় হিসেবে কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাজ্য। কিংবা সে সব দেশের সাহায্যনির্ভরতা কমাতে চায়।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেক্রেটারি অ্যানে-ম্যারি ট্রেভেলিয়ান বলেন, ‘একটি স্বাধীন বাণিজ্যিক দেশ হিসেবে আমরা আমাদের বাণিজ্যনীতির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি। এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো লাভবান হয়। আমরা লাল ফিতার দৌরাত্ম কমাতে চাই এবং খরচও কমাতে চাই। ’

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে টেক্সটাইল থেকে শুরু করে ৬৫ দেশের যেসব পণ্য এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে ছাড় বা শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়। নতুন এই স্কিমের লক্ষ্য হচ্ছে সেসব পণ্যে শুল্ক আরো কমানো। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ জব্বার বলেন, ‘আমার কম্পানির জন্য এটি ‘গেম চেঞ্জার’। এ পরিবর্তনের ফলে আরো অনেক দেশ থেকে আমরা সুতা আনতে পারব। যা এর আগে করা যেত না। এতে ব্যবসা আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি সম্ভাবনাপূর্ণ হবে।



সাতদিনের সেরা