kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সোনায় নিষেধাজ্ঞায় কতটা কাবু হবে রাশিয়ার অর্থনীতি

♦ ২০২১ সালে সোনা রপ্তানিতে রাশিয়ার আয় ৳১৫ বিলিয়ন
♦ জ্বালানির পর রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি খাত
♦ জব্দ করা হয়েছে দেশটির সোনাসহ ৬৪০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনায় নিষেধাজ্ঞায় কতটা কাবু হবে রাশিয়ার অর্থনীতি

জ্বালানির পর রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি খাত সোনা। গত বছর এ খাত থেকে দেশটির আয় ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তাই যুদ্ধ বন্ধ করতে মস্কোর সোনা আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জাপান ও কানাডার পর গত মাসে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোও।

বিজ্ঞাপন

এতে রাশিয়া থেকে সোনা, পরিশোধিত সোনা ও জুয়েলারি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে দেশটির সোনাসহ ৬৪০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

ইইউর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার শীর্ষ ব্যাংক এসবারব্যাংকের সব সম্পদ জব্দকরণসহ দেশটির বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর অ্যাংগাস কিং বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পুতিনের আর্থিক ফাঁস আরো কঠোর হবে। ’ ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংগ্রহ করেছে তা তাদের নিষেধাজ্ঞার ঝড় থেকে বেরিয়ে আসতে দেবে।

কিং বলেন, ‘সোনা এই আর্দ্র তহবিলের অংশ, যা পুতিন নিষেধাজ্ঞার প্রাক্কালে সংগ্রহ করেছেন। রাশিয়ার দুঃসময়ে সোনা বড় সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ পশ্চিমারা কার্যত দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশির ভাগ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জব্দ করে রেখেছে। ’

যুক্তরাজ্যে সোনা ও রুপার বারের বাজারের প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সমিতি লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (এলবিএমএ) এক বিবৃতিতে আলজাজিরাকে জানায়, ‘রাশিয়ার পরিশোধিত সোনার বারের গায়ে ছাপ ও তারিখ থাকে, তাই সহজেই এগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। ’ তবে নিষেধাজ্ঞার আগ থেকেই লন্ডন মার্কেটে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সোনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। কারণ এলবিএমএ গত মার্চে তালিকা থেকে রাশিয়ার সোনা পরিশোধনকারীকে বাদ দিলে বেশির ভাগ ক্রেতা সোনার ব্যবসা বন্ধ করে দেন।

এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার খনি কম্পানি, ব্যাংক, এমনকি ধনাঢ্য ব্যক্তিরা যাতে সোনা বিক্রি করে ডলার, ইউরো বা পাউন্ডের মতো হার্ড কারেন্সি আয় করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্যই হলো রাশিয়ার আয়ের অন্যতম বৃহৎ উৎস সীমিত করে যুদ্ধের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া। ২০২১ সালে সোনা রপ্তানি করে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে দেশটি। গত বছর রাশিয়ার খনি থেকে ৩১৪ টন সোনা উত্তোলন করা হয়। এই সোনা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ।

রাশিয়ার অর্থনীতিতে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে লন্ডন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক লিউক্রেজিয়া রিচলিন বলেন, ‘সোনার অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনকারী রাশিয়া, এটা তাদের গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভ সম্পদ। যদি তারা তা বিক্রি করতে না পারে তবে আয়ের একটি বড় পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম দিকের নিষেধাজ্ঞাগুলোতেই রাশিয়ার সোনার বিশাল বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নতুন এ নিষাধাজ্ঞাকে আমি পর্যাপ্ত বলব না, কিন্তু আপনি যদি রাশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিতে চান তবে এ পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। ’ রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে বর্তমানে ১০০ থেকে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের সোনা রয়েছে।

কমোডিটিস ব্রোকার জুলিয়াস বেয়ারের একজন জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কারস্টেন মেংক বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের সোনার বাজারে নিজেদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সোনা এখন পশ্চিমের বদলে পূর্বে যাচ্ছে। সোনার বাজারে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্ভবত খুব সীমিত। সূত্র : সিএনএন বিজনেস, আলজাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



সাতদিনের সেরা